মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬

নারী-পুরুষের ভিতর কে বড়

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ২১.৪.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

আমরা মুসলমান, যথেষ্ট আছে মান সন্মান! ঢালাওভাবে বলি “স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত!”

এ সুযোগে কোন মহিলা কবির লেখালেখির কলম ভাঙে তার স্বামী, পান্ডুলিপি পোড়ায় দেয় স্বামী! কারো সাথে ফোনে কথা বলা নিষেধ, ভিটামিন ডি পেতে পুরুষ ছাদে যেতে পারে নারীর ভিটামিনের প্রয়োজন নাই, সে ছাদে যেতে পারবে না! শরীরের রক্ত চলাচলের জন্য ব্যায়াম করতে পারবে না, হাটাহাটি করতে রোডে মাঠে যেতে পারবে না অথচ ডিপ্রেশন রোগীর বড় মেডিসিন হাটাহাটি, মস্তিষ্কের রক্তচলাচল বেড়ে গেলে মন প্রফুল্ল থাকে, বিষন্নতা চলে যায়, ডায়েবিটিস কমে যায়! হজ্বে শুধু পুরুষ যায় সক্ষমতা থাকতে ও স্ত্রী কে সাথে নেন না কারন নারী, মানুষ জন্মসূত্রে কনজার্ভেটিভ আর ধর্মের ফ্লেভারের মোড়কে আরো কয়েদী হয়ে গেছে নারী, পুরুষের একছত্র কতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বে নারী বিমান চালায়, ট্রেন চালায়, যুদ্ধ করে, আজ থেকে তিন হাজার বছর আগে “সুলতানা রাজিয়া দেশ শাসন করেছেন ” ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ করে দিল্লি থেকে লাহোর, দিল্লি থেকে কলকাতা ছুটতেন। অবশ্য সব চেয়ে বেশী সো কল্ড শিক্ষিত লোক যে কওমি মাদ্রাসা থেকে বের হচ্ছে তারা ইতিহাস ভুগোল সাইক্লোজি ফিলোসোফি বিজ্ঞান বাইওলোজি বোটানি ম্যাথ পৌর নীতি সমাজনীতি ফিজিক্স ক্যামিস্ট্রি তাদের কোর্স আউট লাইনে নাই, তাই এ দেশের জাতির পিতা কে তা ও তারা “হযরত ইব্রাহিম” এর নাম বলে কিন্তু পাকিস্তানের জাতির পিতার নাম তারা ঠিক ই “জিন্নাহ জানে!”

 

প্রিয় পাঠক, নবী করীম সঃ বলেছেন, “প্রথম স্হান মার, দ্বিতীয় স্হান মার, তৃতীয় সহান মার, চতুর্থ স্হান বাবার! ” তার অর্থ ইসলামের মতে নারী পুরুষ থেকে তিনগুণ উপরে! নারী-পুরুষ উভয় কে শিক্ষাদীক্ষা জ্ঞান দিয়ে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করতে হবে!

পবিত্র কুরআন কি বলে —-

“আমি বিফল করি না কোন কর্মীর কর্ম। সে পুরুষ হোক আর নারীই হোক। তোমরা একজন আর একজনের সমান ঃ সূরা আল ইমরান ১৯৫ আয়াত।

” তোমরা কামনা করিও না, যাহা দিয়া আল্লাহ তোমাদের কাহাকেও অপরের উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন!

পুরুষেরা পাইবে যাহা তাহারা অর্জন করে এবং নারীরা পাইবে যাহা তাহারা অর্জন করে! আল্লাহর অনুগ্রহ প্রার্থনা করুন,আল্লাহ সর্ব বিষয় সর্বজ্ঞ ঃ সূরা নিসা ৩২ আয়াত।

 

প্রিয় পাঠক, কিছু আহ্লাদে আটখানা নারী শত শিক্ষা দীক্ষা যোগ্যতা থাকা সত্বেও ছাগলের মত গলার রশিটা তাহার স্বামীর হাতে দিয়ে তার টান খান! বেতন হাতে তুলে দেন, পেনশন নিজের এ্যাকাউন্টে নয় স্বামীর ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা হয়, বাড়ী ওয়ালা পরিবার, বাড়ী ভাড়া নারীর হাতে যাবে না। এসব সেচ্ছায় বন্দী নারীকে নিয়ে কুরআন ও নবী আলাপ করেন নাই।

আমার আলোচনা ও ঐ সব নারীকে নিয়ে না! সংসার চলবে দুজনের আলোচনায়, যার জ্ঞান ভালো, যার পরামর্শ গ্রহন যোগ্য সেই সিদ্ধান্ত মত চলুন জীবন সংসার ভালো চলবে। কিছু আদিখ্যেতা নারী আছেন, বড় কষ্টে এক খান পুরুষ জুটেছেন অতএব গনতন্ত্র মানবতা মনুষ্যত্ব হেলথ কেয়ার ভালোমন্দ কিছুই বলা যাবে না যদি ছুটে যায় এই অমূল্য চীজ, ছেড়ে দিলাম লেখালেখি, চাকুরী বাকুরী প্রফসরি ডাক্তারী শুধু আমার তিনি তিনি থাকলে আর কিছু চাই না!

 

এভাবে নারী গৃহবন্দী! যা ধর্মে বলে নাই, আইনে বলে নাই তবু উনি পছন্দ করেন না তাই ছাদে যেয়ে সূর্য কিরণ লাগাতে পারবো না!

 

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালবাসেন।

ধর্ম করেন, রোজ মোবাইলে বাজে জিনিস না দেখে কুরআনের তর্জমা শুনুন দেখবেন নারীকে জ্ঞান অর্জনে বাধা নাই।

আপনাকে দশ গজে মুড়ে তিনি সিঙ্গাপুর ব্যাংকক ম্যানিলা ইন্দোনেশিয়া ব্যবসা বা অফিস ট্যুরে যেয়ে কি করছেন!

 

 

 

ভারতবর্ষের প্রথম নারী শাসক “সুলতান রাজিয়া”।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত