মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬

জীবনের সন্ধ্যা বেলা

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ২২.০৪.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব খ্যাত মান্না দে তার এক মাত্র মেয়ের জন্য আর বিয়ে করেন নাই! কিন্ত সেই মেয়েই তাকে গৃহবন্দী করলে, গানের আসর বন্ধ করলে, হারমোনিয়াম টা পর্যন্ত সরায় ফেললে, মানুষের সাথে, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাক্ষাৎ বন্ধ করলে, তালা মেরে মেয়ে অফিসে যেতো আর রাত ১২ টায় এসে তালা খুলতো! কিছুই বলেন নাই মাম্না দে, মৃত্যু টা দ্রুত হয়েছিলো আরকি!

 

বাংলাদেশের নবাব সিরাজুদ্দৌলা খ্যাত আনোয়ার হোসেন সারাজীবনের কামাই দিয়ে চার ছেলেকে সুইজারল্যান্ড পাঠান ভালো জীবনের আশায়। তারা ভালো জীবন পেয়েছিলো ঠিক ই কিন্তু আর কোনদিন বাংলাদেশে কেউ আছে সে খবর নেয় নাই। প্রযোজকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে চাকর বাকরের অভিনয় করেও বাংলার নবাবের শেষ রক্ষা হলো না এবং বিছানা নিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে স্কয়ারে ভর্তি করে চিকিৎসা করালেন কিন্তু রোগটা তো মনের, চলে গেলেনেন ওপারে।

 

শচীন দেব বর্মন, যাকে ছাড়া একসময় সিনেমার কোন গানের সুর উঠতো না, সন্ধ্যা বেলা অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী জুটে গেলো, অবহেলা অপমান বিষন্নতা ও মৃত্যু।

 

বাংলাদেশের কবি আলমাহমুদ প্রেসিডেন্ট এরশাদকে কবিতা শিখাতেন। তার সাথে এক গাড়ীতে প্রেসিডেন্ট ভবনে যেতেন, বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয় তিনি দারুন উৎফুল্ল হয়ে কাব্য লিখলেন, “বখতিয়ারের ঘোড়া”! মুসলমান বীরত্ব গাথা। আসলে তিনি ইতিহাস জানতেন কিনা জানি না। ১২০৪ সালে ১৭ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে তিনি নদীয়ার রাজা লক্ষ্মন সেন কে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম ঝান্ডা উড়ান (বাংলা বিজয়)।

আসলে ইতিহাস টা ডাহা মিথ্যা। নদীয়ার রাজা পালিয়ে গেছিলেন ঠিকই কিন্তু বখতিয়ার নদীয়া জয় করে তিনদিন ধরে সোনা দানা হীরা জহরত লুট করেন এবং ওখান থেকে ফিরে আসেন। অর্থাৎ বাংলার ১ % দখল করে ফিরে আসেন। লক্ষ্মণ সেন পালিয়ে তার রাজধানী

বিক্রমপুর আসেন এবং বাংলা শাসন করেন মৃত্যুর আগপর্যন্ত। বখতিয়ার তিব্বত আক্রমণ করেন ১২০৬ সালে এবং অর্ধেক সেনা হারিয়ে পরাজিত হন এবং মৃত্যু বরন করেন।

কবি আলমাহমুদ ৬ তলা ঢাকার বাড়ী বিক্রি করে ছেলেদের বিদেশ পাঠান। তার ছেলে আর কোনদিন খবর নেয় নাই। আলমাহমুদ রোগ-শোক খাবার অভাবে মারা যান!

 

আপন জনের বেঈমানী তে জীবন সন্ধ্যায় যখন ঔষধ পথ্য প্রয়োজন তখন বিনা চিকিৎসা খাবার অবহেলায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয় কারন তখন যাদের জন্য জীবন তিল তিল করে ক্ষয় করা হয়েছে তারা তিল তিল করে বেঈমানী শুরু করে, জমি রেকর্ড করে নেয়, সব অবদান অস্বীকার করে , বিষন্নতা গ্রাস করে এবং পরোপারে পৌছানো সিড়ি সামনে এসে যায়। বৃদ্ধাশ্রম ও জোটে কারো কারো।

 

শোনা যায় সুচিত্রা সেন ও গৃহববন্দী ছিলেন।

 

বখতিয়ার খলজি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত