শনিবার, জুলাই ২০, ২০২৪

নারী প্রগতি ও শিক্ষা

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তারিখ ঃ ১৮.০৬.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

আজ থেকে ১৩৯ বছর আগে ১৮৮৫ সালে ডাক্তারী পড়তে আমেরিকা গিয়েছিলেন ছবির তিন মহিলা এই এশিয়া থেকে, যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয় নাই, ইউরোপে নারীর ভোটাধিকার হয় নাই, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ পেনিসিলিন আবিষ্কারক আলেক্সান্ডার ফ্লেমিং এর বয়স মাত্র ৪ বছর , এর থেকে ৩৩ বছর পর গনতন্ত্রের মানসপুত্র বর্ন বাদ বিরোধী নেলসে ম্যন্ডেলা জন্ম নেন! পিসি রায় তখন এডেনবরা পড়াশোনা করেন মাত্র ২৪ বছরের যুবক! তখন ডাক্তারী পড়তে আমেরিকা গেছেন ভারতের মেয়ে “আন্দা বাই জোশী” (বা থেকে), তাবাতে এম ইসম বুলি সিরায়ার মেয়ে ও জাপানের মেয়ে “কেই কামী”! স্ব স্ব দেশীয় পোশাক পরিধান তাদের!

আজ আপনারা ২০২৪ সালে এসে ধর্মের নামে নারীকে হাত-পা বাঁধতে নারী শিক্ষা হারাম, বিজ্ঞান শিক্ষা হারাম বলছেন আর উড়োজাহাজে চড়ে হজ্ব করছেন, মোটর সাইকেলে চড়ে ১০ ঘন্টার পথ আধা ঘন্টায় যাচ্ছেন, পদ্মা পার হচ্ছেন জলের উপর দিয়ে গাড়ীতে করে ৫/৬ কিলোমিটার ব্রিজের উপর দিয়ে, মেট্রোরেলে করে উত্তরা থেকে মতিঝিল আসছেন ১০/১৫ মিনিটে আল্লাহর এই মানুষকে দেয়া ব্রেইন নামক নেয়ামতের শোকর না করে তার বিরোধিতা করা ধর্মের নামে বড়ই অজ্ঞাতা। মুসলমানদের অশিক্ষা কুশিক্ষা সবচেয়ে বড় বাঁধা নারী শিক্ষার! অথচ বিবি খাদিজা তেজারতি করতেন, অনেক মুসলিম নারী যুদ্ধ করেছেন! ইবনে সিনা, রসায়নের জনক, আলবেরুনী জিওডেসির জনক, ইবনে রুশদ দার্শনিক ও ধর্মতত্ত্বের জনক এমনি অনেক আবিস্কারক ছিলেন মুসলমান!

আর্কিমিডিস গণিতের জনক তিনি উল্লেখিত ব্যক্তিদের স্বীকার করতেন।

 

বিশ্বে ৮০০ কোটি মানুষের ৪০০ কোটি নারী গড়ে ধরে নেয়া যায়! বিশ্ব উন্নয়নে নারী শিক্ষা অতিব জরুরি তা মানুষ বুঝতে পেরেছিলো আজ থেকে অনেক বছর আগে। নারী সন্তান গড়ার কারিগর, তাকে স্বাস্থ্য সচেতন হতে শিক্ষার বিকল্প নাই! যারা নারী শিক্ষার বিরোধিতা করে তারা আহাম্মক। ছবিতে তিন জন নারীকে দেখুন যাদের নিয়ে আমার এ লেখা। নারীর হাতের লোম দেখলে পায়ের নখ দেখলে দোজখ এমন ফতোয়া দেনেওয়ালারা জানেই না বিশ্বে মোট কত মানুষ, কয়জন মুসলমান, কতগুলো ধর্ম, কেন ভুমিকম্প হয়, কেন চন্দ্র গ্রহন হয়, কেন হিমালয় পর্ব্বত এত উচু হলো, কেন প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ “মারয়ানা ট্রেঞ্চ” সব চেয়ে নিচু (গভীরতম খাত)! এমন সব জাতিকে পিছে ফেলার লোকগুলো মসজিদ মন্দিরের সামান্য ক্যাশ ও চুরি করে, মাদ্রাসা মসজিদ কবর স্থানের টাকা ও চুরি করতে বিবেকে বাঁধে না, সুযোগ নাই তাই চরিত্র ফুলের মত পবিত্র। আমাদের মত শত নারী নিয়ে অফিস আদালত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী চালায় ও যাদের কলঙ্ক নাই অথচ তারা ৬/৭ বছরের মেয়েকে কুরআন খোলা রেখেই মসজিদে ধর্ষণ করছেন, ধরা পড়ছেন ঘটনায় জড়িতদের ১০% মাত্র। মনের বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশ না থাকলে তার দ্বারা ধর্ম পালন ও যথাযথ হওয়া সম্ভব নয়।

 

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন। ধর্ম পালন করেন কুরআন গীতা বাইবেল ত্রিপিটক তোরাহ অনুসরণ করে ভন্ডদের মুখ বাক্য শুনে নয়!

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত