শনিবার, জুলাই ২০, ২০২৪

আধুনিকতার নামে জাহেলিয়াতি

আপডেট:

আধুনিকতার নামে জাহেলিয়াত (নাটকের নামে কুফর ছড়াচ্ছে)

অনেকে জাহেল বলতে অশিক্ষিত জ্ঞান, বিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞতাকে বুঝে। মূলত জাহেল হল তারা যারা দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ বা জেনেশুনে যারা দ্বীন ইসলামের বদলে নিজের খেয়ালখুশি বা শয়তানের অনুসরণ করে তাদের বুঝায়। আবু জাহেলের আসল নাম ছিল আমর, ইসলাম পূর্বে তাকে আবুল হাকাম বা জ্ঞানের পিতা উপাধিতে ডাকা হত। আবু জাহেল পড়তে জানতেন তবুও রাসুল (সা:) ও আল্লাহর কিতাবকে অস্বীকার করার কারণে তার উপাধি হয় আবু জাহেল।

বিজ্ঞাপন

পক্ষান্তরে প্রিয় নবী (সা:) নিরক্ষর হওয়া স্বত্বেও আল্লাহপাক কুরআনের মহান শিক্ষায় তাকে উন্নীত করে বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী রাসুলে পরিণত করেন। তার মানে জাহেল হল মূলত তারা যারা আল্লাহর কিতাব ও তার রাসুলের বদলে নিজেদের চিন্তাচেতনাকে জীবনবিধান হিসেবে মেনে নেয়। মুসা (আ:) এর যুগে ফেরাউন, ইব্রাহীম (আ:) এর যুগে নমরুদের অনুসারীরা ছিল জাহেল। কারণ তারা স্বীয় রাসুল ও তার উপর নাযিলকৃত জীবনবিধানকে অস্বীকার করত। আরবের জাহেলরা মূর্তিকে উছিলা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করত।

বর্তমানের অনেক জাহেল বুযুর্গ, পীরের উছিলা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করে, তারা মূর্তিকে সিজদাহ দিত ওরা কবরকে সিজদাহ দেয়। তখনকার জাহেলরা কন্যা শিশুকে জীবন্ত পুতে ফেলত আর এখনকার জাহেলরা কন্যা, ছেলে নবজাতক শিশুকে ডাস্টবিন, ময়লার স্তুপে, নদীতে অথবা কুকুর-শিয়ালের খাদ্য হিসেবে ফেলে দেয় পরিত্যক্ত স্হানে। ঐ যুগের জাহেলরা এত শত্রুতা থাকা স্বত্বেও কেনো মুসলিম নারীকে ধর্ষন করার চেষ্টাও করেনি আর এই যুগের জাহেলদের কাছে ২ বছরের শিশু, সন্তানের জননী, মধ্যবয়সীও নিরাপদ নয়। তারা গোত্র নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হত আর বর্তমানে দেশের সীমান্ত, জাতীয়তাবাদের কুফর নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত। তবে আরব জাহেলরা যদিও শিরক করত তারা আল্লাহকে ভালোবাসত ও সম্মান করত। তারা তাদের সন্তানদের নাম রাখত আবদুল্লাহ বা আল্লাহর বান্দা।

বিজ্ঞাপন

আজ আমরা এমন জাহেলিয়াতের সমাজে বসবাস করছি যেখানে তথাকথিত আল্লাহর গুনবাচক নাম ও মুসলিমদের প্রিয় নাম নিয়ে উপহাসে লিপ্ত জাহেলিয়াতের কারণে।যেমন- আবদুল্লাহ, কুদ্দুস, কাশেম, আবুবকর, রুকুইয়া, কুলছুম, মফিজ, আযীয প্রভূতি নামসমূহ। কুদ্দুস অর্থ মহাপবিত্র যা আল্লাহর গুণবাচক নাম। কাশেম রাসুলের (সা:) ছেলের নাম ছিল আর প্রিয় রাসুলের (সা:) উপাধি ছিল আবুল কাশেম বা কাশেমের পিতা।

রাসুলের (সা:) যুগে আবুল কাশেম নাম রাখা নিষেধ ছিল রাসুলের সম্মানার্থে (বুখারী)। আর আবুবকর রাসুলের (সা:) প্রিয় সাহাবী ও নবীদের পরে যিনি সর্বোত্তম তার নাম, রুকুইয়া হল রাসুলের (সা) মেয়ের নাম। আজ নাটক, সিনেমায় মগ্ন মানুষগুলো জানেই না হাসি, ঠাট্টার আড়ালে এসব নাট্যকাররা তাদের ঈমান নিয়ে খেলায় মেতেছে।

এরপর যখন অনেকের কাছে তারকা ও প্রিয় হয়ে উঠে।
অবাক করা ব্যাপার – অনেকে তাদের প্রচন্ড ভালোবাসে,সম্মান করে স্যার বলে।

ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন ওদের সম্মান ও ভালোবাসার কারন কি- ওরা হারাম নাটক,সিনেমা,হাস্যরস করে।
হারাম কাজ করলে মুমিন অনুতপ্ত হবে,
আর হারামের কারনে কাউকে ভালোবাসলে সে কি আর মুমিন থাকে!!?
এসব তারকারা যখন যুবসমাজসহ বহুজনের নিকট প্রিয় হয়ে উঠে – তখন তাদের দিয়ে সম- কামীতা, বাল্যবিবসহ নামক তরুন বয়সে বিবাহের বিরোধিতাসহ, ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডগুলো সরাসরি প্রচার করে।
আসলে ওরা এক মিশনে নেমেছে যেখানে মুসলিমদেরকে দিয়ে তার প্রিয় রবের নাম, রাসুল ও মুসলিমদের প্রিয় ব্যক্তিবর্গকে উপহাস করে মুসলিমদের আল্লাহর পথ হতে সরিয়ে আনতে। তারা যদিও নিজেদের নাম কখনও কাশেম, মফিজ, রুকুইয়া, আবদুল্লাহ রাখে না কিন্তু নাটকের চরিত্রে এ সকল নাম ব্যবহার করে উপহাস করে যাচ্ছে। মহান আল্লাহর গুণবাচক নাম কুদ্দুস (মহাপবিত্র) কে কুদ্দুসআ নাউজুবিল্লাহ, আযিয (মহাপরাক্রমশালী) কে আযী্য্যাআ, কাশেমকে কাইশ্যা বলে প্রচার করছে।
কেউ যদি বলে আমরা তো কথার কথা হিসেবে বলেছি তাহলে জেনে রাখুন আল্লাহর কুরআনের আয়াত- “আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তার হুকুম আহকামের সাথে এবং তার রাসুলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা করো না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছো ঈমান প্রকাশের পর। তোমাদের মধ্যে কোনো লোককে যদিও ক্ষমা করি কিছুলোককে আযাবও দিব। কারণ তারা ছিল গোনাহগার।” (সুরা তাওবা ৬৫-৬৬)।

আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো ও রাসুলের (সা:) আদর্শ যা জান্নাতে যাবার পথ তাকে আবমাননা করে আমরা আজ জাহান্নামের পথে চলছি!! আল্লাহ তাআলা বলেন- “সুন্দর সুন্দর নাম আল্লাহ তাআলার জন্য, সুতরাং তাকে এসব নামে ডাক। আর তাদের বর্জন কর, যারা নামের ব্যাপারে বাকা পথে চলে। তারা তাদের কৃর্তকর্মের ফল শীর্ঘ্রই পাবে।” (সুরা আরাফ- ১৮০)। সুরা বনী ইসরাইলে বর্নিত- “বলুন আল্লাহ বলে আহ্বান কর কিংবা রহমান বলে আহ্বান কর যে নামে আহ্ববান কর সব সুন্দর নামই তার।” (আয়াত-১১০)। অর্থাৎ আল্লাহ নাম যেমন সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব, ভালোবাসার যোগ্য তেমনি রহমান, রাহীম, কুদ্দুস, আল খাল্বিক, আল রাজ্জাক সমভাবে ভালোবাসা ও সম্মানের যোগ্য। আল্লাহ নাম উপহাস করলে যেমন শাস্তি অর্নিবার্য তেমনি তার গুণবাচক নামগুলোর ক্ষেত্রেও একই। আজ এদেশে সামান্য মন্ত্রী, এমপির নামে কিছু বললে মানহানির মামলা হয় অথচ যারা আল্লাহর গুণবাচক নাম, মুসলিমদের প্রিয় ব্যক্তিদের নাম নিয়ে উপহাস ছড়াচ্ছে তারা চলচ্চিত্রসহ নানা পুরস্কারজয়ী হয়। অথচ “আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো (৯৯ নাম) কেউ যদি মনে রাখে, বুঝে ও উপলধ্বি করে সে জান্নাতে যাবে।” (বুখারী, মুসলিম, আত- তিরমিযি)।

আর ইসলাম সকল প্রকার অশ্লীল গান,নাটক,সিনেমা হারাম করেছে তা সকল প্রকার হারাম গান,নাটক বর্জন (বয়কট) করা উচিত।
তাহলে এসব তারকারা ইসলাম বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পাবে না!!
আজ একজনকে ইসলাম বিরোধিতার জন্য বয়কট করে অন্যদের অনুষ্ঠানগুলো দেখবেন পরবর্তী তারা জনপ্রিয় হলে ওদের দ্বারা ইসলাম বিরোধী প্রচারণা করবে।সুত্র : ফেইজবুক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত