লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তাং ঃ ০২.২০২৪
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে যে-সব সমঝোতা স্বাক্ষর করেছেন তার মধ্যে “রেল ট্রানজিট” আছে যেটা বেশ সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশের ভুমি ব্যবহার করে ভারতের প্রায় বিছিন্ন ৭ রাজ্যে যাওয়া। এটা ভারতের জন্য বিশাল পাওয়া। ট্রানজিট অনেক দেশে আছে যেমন সাইবেরিয়া থেকে কয়লা এলো ভারতে, ভারত লাহোর করাচি স্টপেজ ভিসায় যাতায়াত আছে। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর তত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালে ভারতের সাথে দর্শনা গেদে ট্রেন সরাসরি চালু করে। পরে রাজনৈতিক সরকার এসে আরো চারটা ট্রেন চালু করে!
কথা ছিলো “ট্রান্স এশিয়া” না হলেও বাংলাদেশ ভারত নেপাল ভূটান রেল রুট চালু হবে। কানেকটিভিটি ব্যবসা বানিজ্যের পূর্ব শর্ত। কিন্তু ভারতের গড়িমসি তে তা আটকে আছে। সেখানে ও রাজনীতি! নেপাল ভূটান শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষতা হারিয়ে চীন মুখী হয়েছে হয়তো সেটা কারন।
বাংলাদেশ তো আজীবন জন্মলগ্ন থেকে জোটনিরপেক্ষ, কেউ নয় শত্রু তা হলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বার-বার আগ্রহ থাকার পরেও “পশ্চিম বাংলা সরকার” ২০১১ তে তিস্তা সেটেল্ড জল চুক্তি বিরোধিতা করে কেন? আমাদের উত্তর বঙ্গের ৬ টা জেলা চৈত্রে মরুভূমি ভাদ্রে প্লাবন! এখানে ও পশ্চিম বাংলা সরকার প্রধানের রাজনীতি। রাখ ঢাক না করে যদি বলি “মমতা ব্যানার্জি” আওয়ামী সরকার বিরোধী। দীপু মণিকে তো পশ্চিম বাংলা সরকারের এক মন্ত্রী বলে দিয়েছিলেন,”তিস্তার জল দিয়ে আমরাতো আর একবার আওয়ামীলীগ সরকার কে ক্ষমতায় আনতে পারি না।” তাই পরিস্কার তিস্তা সমস্যা মিটবে না!
৫৪ টা নদী ভারত থেকে আগত অধিক প্রয়োজনীয় ২ টায় বাঁধ দিয়েছে ভারত, গঙ্গা তিস্তা!
রেল ট্রানজিট কোন অসুবিধা নাই, অসুবিধা হলো, জল দেবো না রেল ট্রানজিট নিবো এটাই সমালোচকের মুখে মুখে, “হাসিনা সরকার” নি জবাব। অসুধা একটা আছে। আমরা গরীব ক্ষুদ্র দেশ, চীন ভারত কাল যুদ্ধ হলে, অরুণাচল নিয়ে তো বেঁধে ই আছে, তখন ভারত এই পথে অস্ত্র গোলাবারুদ বহন করবে এবং চীন বোম্বিং করবে রুট বন্ধ করতে, অতএব যুদ্ধ ফিল্ড হয়ে যাবে নিরীহ বাংলাদেশ!
প্রিয় পাঠক, ভারত চীন রাশিয়া জাপান আমাদের উন্নয়ন সহায়ক শক্তি ও বন্ধু। একে অপরের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত ! আবার সেটা একতরফা হলে বিপদ!
আমেরিকা নিষ্ঠুর, ভিয়েতনাম যুদ্ধ যদি জানেন কেউ, আমেরিকা কে ক্ষমা করা যায় না, অমানবিক আচরণ, নারীকে পশুর ইনজেকশন পুশ সহ, পয়জন বোম, অপ্রতিরোধ্য ফায়ার যা কেমিক্যালে বনজঙ্গল সব পোড়ায় দিতো। আজও ভিয়েতনাম কম্বোডিয়া লাওসে পঙ্গু সন্তান জন্ম হয়। সেই দেশের “রাস্ট্র দূত কে ভগবান” বলা দল ক্ষমতায় এলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটি হবে না বাংলাদেশে, তা ভাবি কিভাবে, তার থেকে কানেকটিভিটি অনেক ভালো!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন।
জন এফ কেনেডি যিনি ভিয়েতনামে পাঁচ লাখ সৈন্য পাঠিয়েছিলেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত নির্দেশ দিয়েছিলেন!



