কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
বসবাসযোগ্য কিশোরগঞ্জ প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজনের দাবী জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
কিশোরগঞ্জ স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (SAK)
এর শিক্ষার্থীরা গত ১১ শে আগষ্ট মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী ৪ দিন সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল হাসপাতালের প্রতিটি অংশ নিবিড় পর্যবেক্ষণের দ্বারা প্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে সেখানকার সম্মানিত পরিচালক হেলাল উদ্দিন এর নিকট কথা বলতে গেলে তিনি নিজের অপরাগতা ও তার কারণসমূহ তুলে ধরেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সমস্যা হলো: প্রশাসনিক কাঠামোর শোচনীয় অবস্থা,রোগীদের মানবেতর জীবনযাপন, দালালদের বিস্তর প্রভাব, ওষুধ থাকার পরেও ওষুধ নেই বলে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ওষুধ প্রদান, পদে পদে সিন্ডিকেট
সমস্যা, আনসারের চাহিদা ১৫০ জন, আছেন ৫০ জন সক্রিয়। ফলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাছাড়াও যারা ইনচার্জ আছেন তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং উনাদের যে সকল কাজ কন্ট্রাক্ট করে কাউকে দেয়া হয় যেমন হাসপাতালের জিনিসপত্র ধুয়ে দেয়া বা খাবার তৈরি করা সেখানে কন্ট্রাকটর যারা তাঁরা তাঁদের রাজনৈতিক ও স্থানীয় হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেতাই কাজ করে থাকেন। কিছু বললে কথা কানে তোলা তো দূরের কথা উপরমহলের রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে, দুর্নীতি করে সেবার নাম করে যে অর্থ লোপাট হচ্ছে তার মাধ্যমে উপরমহলের স্বার্থোদ্ধার হচ্ছে।শিক্ষার্থীরা জানায়, তবে দুর্নীতির পর্বকে পাশ কাটিয়ে যে জিনিসটি আমাদের অবাক করে দিয়েছে, ৫০০ শয্যার একটা হাসপাতালে ৮০০-৬০০ মানুষ ভর্তি রয়েছে অথচ গত ২ মাস যাবত কোন জেনারেটর নেই। ভাবতে পারেন?একটা অপারেশন চলাকালীন কারেন্ট চলে গেলে অবস্থা কি হবে?সে
ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক জানান, ‘আমরা গত ২ মাস যাবত PWD (গণপূর্ত অধিদপ্তর) এর কাছে আমাদের চাহিদার কথা জানালেও তারা কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় নি। আমরা বেশ অবাক ই হলাম যে একটা হাসপাতালের প্রতি এত গুরুতর বিষয় এমন অবহেলা কেন?তার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা PWD অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
গত মঙ্গলবার ২০ আগষ্ট PWD অফিসে যেতে না যেতেই শিক্ষার্থীদের প্রথম চোখে পড়ে ওখানে কোন দারোয়ান, সিকিউরিটি গার্ড কিছু ই সেই। পাশাপাশি, তাদের ওয়েবসাইট থেকে তাদের বিষয়ে ধারণা নিতে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে নিতে গিয়ে তারা বিরক্ত ই হয়েছে। সেখানে ফলাও করে লিখা তাদের এত এত অর্জনসমূহ। কিন্তু এই অর্জনের ১ শতাংশও সাধারণ জনগণ পায় নি।
সেসব নিয়ে শিক্ষার্থীরা কথা বলতে যায় কিশোরগঞ্জ Pwd এর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর এর সাথে।তিনি শিক্ষার্থীদেরকে সবকিছু যথেষ্ট সুন্দর করে বুঝিয়ে বলেছেন। উনার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তারা যেসকল সমস্যা সেখান থেকে পেয়েছে পাশাপাশি কেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল হাসপাতালে ২ মাস যাবত জেনারেটর সেই তার কারণ জানতে সক্ষম হয়েছে।শিক্ষার্থীরা একই দিনে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালেও গিযেছিলো এবং সেখানের অবকাঠামোগত ও মেরামত করা প্রয়োজন কিন্তু হয় নি এমন জায়গা সমূহ চিহ্নিত করেই কর্মকর্তার সাথে দেখা করেছিলাম। এর উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ হলো- বাজেট সমস্যা, বাজেট একসাথে দেয়া হয় তাই অর্থবছরের শেষে নতুন বিল পেশ করা ও পাশ হয়ে আসার মাঝখানে সময়গুলো কোন উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হয় না। তাছাড়াও যে পরিমাণ চাহিদা দেয়া হয় তার ২৫% অর্থায়নও করা হয় না।প্রশাসনিক দূর্বলতা, যেখানে আমাদের শোনানো হয় শিক্ষা ও উন্নতির গল্প সেখানে গিয়ে শুনি যখন কোন পোস্ট থেকে কেউ রিটায়ার্ড করে নতুন লোক নিযোগ না দিয়ে পোস্ট বিলীন করে দেয়া হয়। ফলে PWD অফিসে পর্যাপ্ত স্টাফ নেই, নেই দারোয়ান, নেই কোন আনসার কিংবা কর্মকর্তার নিরাপত্তা রক্ষাকারী। তাদের প্রদত্ত গাড়ি সমূহের অবস্থাও নাজেহাল। ফলে নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হয় না।রাজনৈতিক চাপ,প্রদত্ত বাজেটে যে পরিমাণ কাজ হওয়ার কথা ভাও হয় না তার কারণ রাজনৈতিক চাপ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রভাবশালী ঠিকাদার অন্যায়ভাবে এক প্রকার জোর করে কাজ নিয়ে অন্যথায় কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব থাকেন। যেখানে তাঁরা নিজেদের সুবিধার পূর্ণ অংশ ই গ্রহণ করছেন। আঞ্চলিক বৈষম্য ও তত্বাবধায়কের উদাসীনতা, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ মিলে একটা জোন। এই জোনে দেখা যায় বাজেটের সিংহভাগ ময়মনসিংহের উন্নতিতে ব্যায় হচ্ছে এখানে দেখা যায় কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য। তাছাড়াও তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ময়মনসিংহের। আমাদের অবকাঠামোগত বা মেরামতের যে কাজগুলো হয় সেখানে তত্বাবধায়কের উদাসীনতা স্পষ্ট। অন্যখায় এত জঘন্য কাজ করা হয় কিন্তু কোন জবাবদিহিতা নেই কেন সেজন্য তদন্ত করা হয় না বা যারা কাজ করছেন নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে কাজ আবার করে দিবে এমন চুক্তি করা হয় না।প্রশাসনের অপরিণামদর্শিতা, বাজেট পাশ করাতে যেহেতু একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয় কিক্ত ইমার্জেন্সি কাজের জন্য কোন প্রকার রিজার্ভ রাখা হয় না যার দরুণ হাসপাতালের লিফট ২ বছর ধরে অকার্যকর, এক লাখ টাকার অভাবে জেনারেটরের ২ টি ব্যাটারি লাগানো হচ্ছে না। অথচ ক্ষমতাসীনদের বিলাসিতার শেষ নেই। সবকিছু শুলে এবং পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছিলো যেন আমাদের অসহায়ত্ব শোনার জন্য যাদের রাখা হয়েছে তারা আমাদের চেয়ে বেশি অসহায়।শিক্ষার্থীরা তাদেরকে সম্ভাব্য সমাধান দিয়েছে।সেগুলি হলো,বাজেট কিস্তি আকারে প্রেরণ,সুষম বিভাজন ও রিজার্ভ রাখতে হবে।ওয়েবসাইটে অর্জনসমূহ কেবল গর্ব করে না লিখে তদাকরকি করা প্রয়োজন কাজ হচ্ছে কি না পর্যবেক্ষণ করতে হবে।রাজনৈতিক চাপ প্রতিরোধ করে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে প্রশাসনের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।প্রয়োজনবোধে পর্যবেক্ষণের প্রমাণ যাচাই করে বাজেট নির্ধারণ করতে হবে।যথাসম্ভব দ্রুত প্রযোজনীয় লোক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, উপরমহলে আমাদের সকলের অনুরোধ থাকবে আমাদের অবস্থা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করার দরুন সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত কিশোরগঞ্জ এর সংস্কার এর কাজ শুরু করা হোক।

