সুমন মাহমুদ
নাট্যকর্মী উন্নয়ন কর্মকত্তা
স্নেহাস্পদ আর প্রেমাস্পদ এই শব্দযুগলের ব্যবহার এখন আর নেই বললেই চলে। কারণ পত্রের ব্যবহার ও উপযোগিতা অর্থাত্ প্রয়োজন হারিয়েছে। চমৎকার এই শব্দযুগলের মতো আরো কতো কিছু বিলিন হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র লিখতে পড়তে অনীহার জন্য। ফজরের পরে পরে দল বেঁধে বাচ্চারা ছুটতো মক্তবের উদ্দেশ্য। আমার মতে বর্তমান প্রজন্মের ৯৭/৯৮% বাচ্চাদের মক্তব সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। বাল্যশিক্ষা পুস্তক কি ১০০% বাচ্চাদের জানা নেই। মোয়া, ঝাললাউ, পাতিল ( পাইল্লা) চিতই, নারকেলের চিড়া, নারকেলের জিরা, বিশেষত নোয়াখালী এলাকার একটা জনপ্রিয় খাবার আল্বা ( চালের গুড়ি দিয়ে তৈরি বিশেষ মিষ্টান্ন ) কিম্বা খই এখনকার প্রজন্ম খাওয়াতো দূরের কথা চিনে না বা জানেই না। খড়ম দেখতে জাদুঘরে যেতে হবে। হুক্কা কিম্বা নাকে নথের ব্যবহার হারিয়ে গেছে। পিরা বা জল পিরা কি বস্তু প্রজন্মান্তর চিনে না। কাছারি কি খায় না গায়ে লাগে বাচ্চাদের জানা নেই। ধানের জমিতে মাছের মেলা বাচ্চাদের চোখ দেখেনি।ডাঙ্গুলি, মার্বেল, চি কুতকুত কিম্বা সন্ধ্যা কিল জিনিস আমার সন্তান জানেই না । প্রচন্ড শীতের রাতে চুরি করা খেজুরের রসের শিন্নির স্বাদ পৃথিবীর কোন শেফ আনতে পারবে না। তালের রস দিয়ে ভাত কবে যে খেয়েছি মনে পড়ছে না। একুশে ফেব্রুয়ারীর পূর্ব রাতের শিহরণ আজও আমার শরীরে কাঁটা দেয়। কত প্ল্যান প্রোগ্রাম করতে হতো একটা দুইটা পাতাবাহার ডালের জন্য। এমন পুষ্পস্তবক হতো যাতে কোন ফুলের সংস্থান ছিল না। নগ্ন পায়ের প্রভাতফেরি আজ স্মৃতিকাতরতায় অবগাহন করায়। আমাদের শৈশব কৈশোরের স্মৃতি হারিয়েছিতো হারিয়েছে কিন্তু প্রজন্মের জন্য অবগাহনের কোন পরিবেশ পরিস্থিতি করিনি। তাই খাবারের, খেলার বা মনোরঞ্জনের কোন ঐতিহ্য কিছু অবশিষ্ট নেই বলে প্রজন্ম আজ দেশ বিদেশের পানে বল্গাহীন ছুটছে। আর বিদেশে প্রশান্তি খুঁজতে চলছে। আমাদের এই ধরনের উন্নাসিক কর্মকাণ্ড ক্ষমাহীন পাপ। আমাদের পাপের আগুনে পুড়ে ছাই ভবিষ্যত প্রজন্ম।
আত্ম উপলব্ধির আকাঙ্ক্ষা বাঁচাতে পারে প্রজন্ম
আপডেট:

