সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬

অশ্লীল অডিও-ভিডিও ফাঁসেরচৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্লোজড

আপডেট:

অশ্লীল অডিও-ভিডিও ফাঁসের পর যশোরের চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পায়েল হোসেনকে যশোর পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। টর্চার সেল পরিচালনা, ঘুষ ও রিমান্ড বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নিরীহ মানুষকে হয়রানি এবং নারী কেলেঙ্কারির মতো নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।গতকাল শনিবার সকাল থেকে এক ডিভোর্সি নারীর সংঙ্গে ওসি পায়েল হোসেনের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির একটি ভিডিও ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার তাকে যশোর পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।পায়েল হোসেন গত ১৭ নভেম্বর চৌগাছা থানায় ওসি হিসেব যোগদান করেন। এর আগে তিনি ডিএমপির রমনা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণের সাথে দূর্ব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। থানায় যোগদান করে প্রথম অভিযানে চৌগাছা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য (পুলিশের সাবেক এএসআই) জসিম উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালান। অভিযোগ উঠেছে, জসিম উদ্দিনের বাড়ি পুলিশ সারারাত অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তার কাছে ওসি ১ কোটি টাকা দাবি করেন।উপজেলার ভাদড়া গ্রামের বিএনপি কর্মী মানিক হোসেনকে আটক করে থানায় আনার পর হাজতে না রেখে নিজের বাংলোতে আটকে শারীরিক নির্যাতন চালান। এ সময় মানিকের স্ত্রীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করে তা আদায় করেন। পরে অস্ত্র মামলায় তাকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে হস্তান্তর করেন।মাসিলা গ্রামের পারভেজ আহমেদ সোহাগ নামে এক যুবককে তুলে এনে ৩২ ঘণ্টা আটকে রেখে ইলেকট্রিক শক ও নির্যাতন করেন তিনি। একপর্যায়ে তার পরিবারের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা আদায় করেন। এরপরও তাকে ডাকাতি ও মাদক মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেন বলে সোহাগের মা’ সাফিয়া অভিযোগ করেছেন। যদিও সোহাগের মা’ সাফিয়া এলাকায় মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত। সোহাগ, তার মা সাফিয়া, বোনসহ গোটা পরিবারের বিরুদ্ধে চৌগাছাসহ বিভিন্ন থানায় অসংখ্য মাদক মামলা রয়েছে।কামাল হোসেনের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন পায়েল হোসেন।এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, এসপি স্যারের মৌখিক নির্দেশে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তিনি জানান, ইন্সপেক্টর পায়েল হোসেনকে যশোর পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো লিখিত আদেশ পাননি।মৌখিকভাবে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে যশোরের পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওসি পায়েলের কর্মকান্ডে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযোগের বিষয়ে ওসি পায়েলের বরাত দিয়ে এসপি সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘তাকে ট্র্যাপে ফেলা হয়েছে। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়ার আগে ওসি পায়েল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, একটি চক্র তাকে ট্রাপে ফেলেছে। যে চক্রের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, ওই চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত