মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬

ফেনী সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে অসন্তোষ কিডনি রোগীদের

আপডেট:

ফেনীর সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে জনসাধারণের অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। গত ১৬ বছরে ব্যাপক লুটপাট কারনে এই হাসপাতালটি স্ব্যাস্থ সেবা কার্যক্রক ভেঙ্গে পড়েছে। ফেনী সিভিল সার্জন অফিস কোন ব্যাবস্থা নিতে দেখা যায়না। গতকাল এনএসআই ও পুলিশ ১০ জন দালাল আটক করে। কিন্তু সেটি নিয়মিত না হলে আবার দালালদের হাতে রোগীরা প্রতারিত হবে। এইসব দালাল চক্র তৈরীতে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল গুলো জড়িত ভুক্তভোগী অনেকে বলেছে। কিডনি রোগীদের সেবা যে যন্ত্রপাতি সেগুলো ও বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। অনিয়ম দূর্নীতি তো আছে তার সাথে যুক্ত হয়েছে নব্য টাউট এরা রোগীদের দেখার কেউ নেই।
অবকাঠামো, জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতির পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবও সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি মাত্র ১৫০ শয্যার জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৮০০-১২০০ রোগী এবং ওয়ার্ডে ভর্তি ৬০০ রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের ৩০৬টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২০৬ জন। ৯ জন সিনিয়র কনসালটেন্টের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ৫ জন, ১২ জন জুনিয়র কনসালটেন্টের স্থলে আছেন ৬ জন। দীর্ঘদিন ধরে মেডিসিন, শিশু, রেডিওলজি, প্যাথলজি, সার্জারি, দন্ত, চক্ষু, চর্ম ও যৌন রোগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। শিশু বিভাগেও রয়েছে মারাত্মক সংকট। বিশেষায়িত সেবা বিভাগগুলোর মধ্যে ডায়ালাইসিস, আইসিইউ, সিসিইউ, স্ক্যানু এবং থেরাপি বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়নি। ১৫৩টি সেবিকা পদের মধ্যে ৩২টি পদ শূন্য, ৪২টি অফিস সহায়কের মধ্যে শূন্য ১৬টি এবং ৭৩টি ৪র্থ শ্রেণির পদের বিপরীতে মাত্র ১৬ জন কর্মরত।সংকটে জরুরি সেবা বিভাগ হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ৭ জন চিকিৎসক। প্রতিদিন সহস্রাধিক রোগীর চাপ থাকায় যথাযথ চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।হাসপাতাল ঘুরে আরও দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন (৬ তলা) ভবনে ওঠানামার জন্য সিঁড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে রোগীদের, কারণ সেখানে থাকা দুটি লিফটের মধ্যে একটি স্থাপনই করা হয়নি, এবং অন্যটি ৩-৪ বছর ধরে বিকল। মাঝে মাঝে সংস্কার করা হলেও বছরের বেশিরভাগ সময় এটি অকেজো থাকে। ফলে রোগীদের চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নিচতলায় প্যাথলজি, টিকিট কাউন্টার, এক্সরে, আলট্রাসোনোগ্রাফি রুম ও চিকিৎসকদের রুম অবস্থিত। দ্বিতীয় তলায় আইসিইউ ও অপারেশন থিয়েটার এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় সার্জারি ও অর্থোপেডিক বিভাগ রয়েছে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় নতুন ওয়ার্ড স্থাপন করা হলেও লিফটের অভাবে সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত