বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘কেয়ারটেকার সরকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটা ডেইট পেন্ডিং আছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তন হলে তার অধীনে ৯০ দিনে নির্বাচন হবে। সে ক্ষেত্রে ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে আমাদের নেত্রী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।’ বুধবার দুপুরে ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যাল) শীর্ষক প্রকল্পের অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভা চলাকালীন দর্শক সারিতে বসে নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন কথা বলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি আরও বলেন, ‘দেশে এখন যে অবস্থা ফেব্রুয়ারি আগেই নির্বাচন হতে পারে। হয়তো জানুয়ারিতেও হয়ে যেতে পারে। অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাথে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন লন্ডনে যোগাযোগ করেছে। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সেটিতে আস্থা রাখতে চাই। আমরা চাচ্ছি দ্রুত নির্বাচনটি হোক পরে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যাল) শীর্ষক প্রকল্পের অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন। এদিকে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থায়ী সমাধানে ৮ হাজার ৮০৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনার বিষয়ে অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে ফেনী জেলার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের মতবিনিময় সভায় ৮ হাজার ৮’শ ৭ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রস্তাবনা বিষয়টি অবগত করেন আইএমএম পরিচালক তপন কান্তি মজুমদার। পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। সমীক্ষা প্রকল্পের উপর বিস্তারিত তুলে ধরেন বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ছায়েদুজ্জামান, ফেনী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব যতন মারমা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী সার্কেলের সুপার হাসান মাহমুদ।স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণে সমীক্ষায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় সস্পর্কে আইএমএম পরিচালক তপন কান্তি মজুমদার বলেন, মুহুরী, কহুয়া, সিলোনিয়া নদীর তীরে ১২৯ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ ব্যয় ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, ভাঙ্গন কবলিত স্থানে নদীর তীর সংরক্ষণ না থাকে ২২৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, নদী/খাল/ জলধারা পূর্ণ খনন ৬৪৪ কোটি ৮৮ লাখ, পানি নিষ্কাশন কাঠামো রেগুলেটর নির্মাণ ১২৮ কোটি ৫০ লাখ, হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যামনির্মাণ ৭৫ কোটি টাকা, ফ্লাড বাইপাস/ফিউজ নির্মাণ ২৭ কোটি ২০ লাখ, ব্রীজ নির্মাণ ৭৫৩ কোটি, বিদ্যমান অবকাঠামো পুনবার্সন ৭ কোটি ৬৫ লাখ, লুপকাট ৯ কোটি ৬৬ লাখ, অন্যান্য ৪ কোটি ৭৩ লাখসহ অবকাঠামোর নির্মাণ ও পুনর্বাসনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৫২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সাথে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৫৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রকল্পে ব্যয় হবে ৮ হাজার ৮’শ ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পানি উন্নয়ন বোর্ড এর পরিকল্পনা দপ্তর ও মাঠ দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং এর প্রতিনিধিগণের সাথে স্থানীয় অংশীজনদের মতবিনিময় সভায় সঞ্চালন করেন জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব ছায়েদুজ্জামান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপ-সচিব) ও ফেনী পৌর প্রশাসন গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফেনী-২ আসনের একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ওরফে ভিপি জয়নাল, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সাংসদ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব ছায়েদুজ্জামান জানান, প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় এ যাবত বরাদ্দ দেয়নি। এটাই প্রথমবারের মত মেগাপ্রজেক্ট। এ কাজে শেষমুহুর্ত পর্যন্ত সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পূনর্বাসন (১ম পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ফেনী জেলায় দীর্ঘমেয়াদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফেনী-২ আসনের একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ওরফে ভিপি জয়নাল বলেন, সকলের উদ্যোগে সম্মিলিত প্রয়াসে প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘোব হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এ কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোন রকমের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ফেনীবাসীর কল্যাণে সবাইকে একাত্ম হতে হবে। একনেকে পাশ করতে এই ইউনিটি ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সবাই মিলে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। দূর্নীতির ব্যাপারে সবাই সজাগ থাকতে হবে। জেএসডি সাধারন সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, প্রাসন বলতে আমলাতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতাকে জানি। প্রশাসনকে গণমুখী করেছে এই সভা। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই সভা প্রতিফলন হচ্ছে।
মুক্ত আলোচনায় আরও অংশ নেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন আহ্বায়ক ও বিগত জাতীয় সংসদে ফেনী-১ নির্বাচনী আসনের সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-গ্রাম সরকার সম্পাদক বেলাল আহমদ, সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, জিয়াউদ্দিন আহমেদ মিষ্টার, জামায়াতের জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন মানিক, বিএনপির জেলা সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম-আহবায়ক এম এ খালেক, গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, এয়াকুব নবী ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউসুফ, সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুর রহীম, ডেইলি স্টার প্রতিনিধি আবু তাহের, বাসস প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, দৈনিক ফেনী সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠক নাজমুল হক শামীম, হেফাজতের সেক্রেটারি মাওলানা ওমর ফারুক, গণঅধিকার পরিষদের আহবায়ক শহীদুল্লা বাহার, খেলাফত মজলিসের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি একরামুল হক, এবিপার্টির ফেনী পৌর শাখার আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ সেলিম, শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি ফারুক হারুন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ সোলায়মান, এনসিপি কেন্দ্রীয় সদস্য আজিজুর রহমান রিজভী ও জাহিদুল ইসলাম সৈকত প্রমুখ।


