মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২৬

রাজধানীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান : তারেক জিয়া

আপডেট:

গণতন্ত্র অভিযাত্রায় জাতীয় স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় র‌্যালি-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। র‌্যালিতে যোগ দিতে দুপুর থেকেই নয়াপল্টনে জড়ো হন বিএনপি নেতাকর্মীরা। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা মহানগর ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকেও নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে নয়াপল্টনে আসেন। একপর্যায়ে ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত লোকারণ্য হয়ে পড়ে। জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। বিকাল ৪টার পর নয়াপল্টন থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ দলের সিনিয়র নেতারা। র‌্যালিটি বিজয়নগর, পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, কদম ফোয়ারা, মৎস্যভবন মোড়, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সড়কের সামনে দিয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। ঢাকা ছাড়াও দেশের সকল বিভাগীয় শহরে একযোগে বিজয় র‌্যালি করছে বিএনপি নেতারা।প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, প্রিয় রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতভেদ থাকবে। কিন্তু সেই ভিন্নমত নিরসনে আলোচনা হবে। তবে জাতীয় পরিষদে গণতন্ত্রের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যাতে মুখ দেখাদেখি বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যে জাতীয় স্বার্থে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজন। কারণ আমি বিশ্বাস করি, ধর্ম, দর্শন, মত যার ?যার, রাষ্ট্র আমাদের সবার।তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি কী ধরনের রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনীতি পরিচালনা করবে দলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৩১ দফার মাধ্যমে একটি রূপরেখা জনগণের সামনে আমরা উপস্থাপন করেছি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। দেশ এবং জনগণের কল্যাণে এই সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা চায়।
সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের জনগণের সরাসরি ভোটের কাছে দায়বদ্ধ, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে একটি সময়সীমা ঘোষণা করেছে। জনগণের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই সনদ ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের এইসব উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার যাত্রা পথে বর্তমানে আমরা ইতিহাসের যে সন্ধিক্ষণ পার করছি, এই ঐতিহাসিক সময়টির জন্য দেশের গণতান্ত্রিক জনগণকে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদ শাসনের দীর্ঘ সময়ে এই আন্দোলনে আমরা আমাদের হাজারো সহকর্মী সহকর্মীকে হারিয়েছি, আমাদের অনেক সন্তান-স্বজনের বুকের তাজা রক্ত দেখতে হয়েছে।তিনি বলেন, বিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিসহ বিরোধী দল এবং মতের নেতাকর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দেয়া হয়েছে। বিএনপি’র এমন নেতা রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে শতাধিক, দুই শ’ তিন শ’ মামলা রয়েছে, এমনকি ৪ শতাধিক মামলা রয়েছে। গুম-অপহরণের শিকার হয়েছেন বিএনপিসহ বিরোধী দলের দলের শত শত রাজনৈতিক নেতাকর্মী। শুধুমাত্র ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। খুনিদের বন্দুকের নল থেকে মায়ের কোলে থাকা চার বছরের শিশুও রেহাই পায়নি। ক্ষমতালোভী ফ্যাসিস্টদের কারণে আমাদের অনেক সাহসী সেনা কর্মকর্তারা হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছেন, বিডিআরের নাম পর্যন্ত পাল্টে দেয়া হয়েছে। ভেঙে দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশের মনোবল।
এ বিজয় অন্ধকার থেকে আলোর কথা বলবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের আমলে দেশ অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। আমি বলবো, আজকের এই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আলোর পথে যাত্রা। তবে এই যাত্রা খুব সহজ নয়। বর্তমানে দেশের জনগণের সামনে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অপার সম্ভাবনা এবং সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা যদি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি, জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পাবে না।গণতন্ত্র না থাকলে কেউই আমরা নিরাপদ নই মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, যিনি যেই দলের সদস্য রাজনৈতিক দলের সদস্য হন না কেন, আমাদের অবশ্যই সকলের একটি কথা মনে রাখা দরকার প্রতিবাদ শাসন আমলে আমরা কেউই নিরাপদ ছিলাম না, আমাদের সন্তানেরা কেউ নিরাপদ থাকতে পারেনি। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল, আমাদের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য সমগ্র বাংলাদেশটাকেই বর্বর বন্দিখানা, আয়নাঘর বানিয়ে ফেলা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত