বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যার আসামি বিপুল অস্ত্র সহ আটক

আপডেট:

রাজশাহীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আজ শনিবার ভোর থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।আটকরা হলেন মোন্তাসিরুল আলম অনিন্দ্য, তার সহযোগী মো. রবিন ও মো. ফয়সাল। তাদের মধ্যে অনিন্দ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।ওই সময় তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। অনিন্দ্য কাদিরগঞ্জ এলাকায় ডক্টর ইংলিশ নামের কোচিং সেন্টারের মালিক। তিনি সাবেক বিএনপি নেতা শফিউল আলম লাটকুর ছেলে ও সাবেক সিটি মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই।অভিযানে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি, সামরিক মানের দূরবীন ও স্নাইপার স্কোপ, ছয়টি দেশীয় অস্ত্র, সাতটি বিদেশি ধারাল ডেগার, পাঁচটি উন্নতমানের ওয়াকিটকি সেট, একটি সামরিক মানের জিপিএস, একটি টিজার গান, বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি কার্টিজ, বিপুলসংখ্যক অব্যবহৃত সিম কার্ড, বিস্ফোরক বোমা বানানোর সরঞ্জামাদি, ছয়টি কম্পিউটার সেট, নগদ ৭ হাজার ৪৪৫ টাকা, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি মদ ও ১১টি নাইট্রোজেন কার্টিজ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করে।এর আগে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। পরে মহানগর পুলিশ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) অভিযানে যোগ দেয়। অভিযান শেষে ৪০ ইস্ট বেঙ্গলের (মেকানাইজড) রাজশাহী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘ এক মাসের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়।এদিকে, অনিন্দ্যের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেনা সদস্যরা তার দুই সহযোগী রবিন ও ফয়সালকে নিয়ে আশেপাশের ভবনেও অভিযান চালায়। পরে কোচিং সেন্টারের সামনের পুকুরে অস্ত্রের সন্ধান করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। তবে পুকুরে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। অভিযান শেষে আটকদেরসহ উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, অনিন্দ্য সাধারণ মানের কোনো অপরাধী নয়। তিনি বড় ধরনের নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তিনি কোচিং সেন্টারেরর আড়ালে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিকল্পনা করছি। এ ছাড়া উদ্ধার অস্ত্রগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করে দেখা হবে, এগুলো কখন কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার প্রমাণ পেলে আলাদা মামলা হবে। এছাড়া সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক অনিন্দ্যসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মামলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত