আমাদের বন্ধু লিপটন। হিংসা বিদ্বেষ আর লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকেই ফেনীর সোনাগাজীর মানুষের জন্য দিনরাত কাজ করেছেন, সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলো জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, আমার দেখা লিপটনকে কখনো বিরোধী মতে বা তার বিরুদ্ধাচরণ করাদের কারো প্রতিও অন্যায় অবিচার কিংবা হিংসা করতে দেখিনি। তবুও তাঁর বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করা হলো। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ঘটনা।ব্যাক্তি জীবনে স্পষ্টবাদী, হিংসা বিদ্বেষ বিহীন পুরোদস্তুর ভদ্রলোক মানুষটির সাথে আমার পরিচয় ৮৯/৯০ সালের দিকে তাঁদের স্কুলের তার কিছু শৈশবের সহপাঠীদের মাধ্যমে নবাবপুর স্কুল মাঠে। সেই থেকে আমি শুনেছি ও খুব কাছ থেকে দেখছি তাঁকে। দেখার সুযোগের আরো একটি কারণ- ঢাকায় আমার কাজ না থাকলেই আমি তাঁর সহযাত্রী হিসেবে প্রায়শই বেরিয়ে পড়তাম ফেনীর উদ্দেশ্যে। সেই সুবাদে সোনাগাজীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাঁর সাথে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে দর্শক হিসেবে ঘুরছি। অবাক চোখে দেখেছি মানুষের প্রতি তার কমিটমেন্ট দেখে, মানুষের প্রতি তাঁর এবং তাঁর প্রতি সাধারণের ভালোবাসা দেখে। তাইতো বিনা নোটিশেও যেখানেই যেতো সেখানে সেখানকার স্থানিয় মানুষের হঠাৎ সম্মিলন হতো, চায়ের আড্ডা হয়ে যেতো পথসভা। পথসভা হয়ে যেতো জনসভা, তাঁকে নিজের কথা বা আত্মপ্রচারে কখনো দেখিনি। সামাজিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন ইস্যুতে যোগাযোগ করে বেড়াতো অসাধারণ ভিন্নতা নিয়ে, রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের বিশাল প্রজ্ঞা নিয়ে, সাধারণত রাজনৈতিক লোকজন এরকমটা হয় আমি ভাবতেই পারিনা। বুঝতে পারার বয়স হতেই আমি রাজনীতি বিমুখ, অনেক ক্ষেত্রে বলা যায় রাজনীতিবিদদের আমি ঘৃণাই করি; তার সহজাত আচরণের কারণে তাকে ঘৃণা করার সুযোগতো পেতামই না বরং অদ্ভুত ভাবে পছন্দ করতাম। কারণ আমি দেখতাম সে ঢাকাতে সব সময় ছুটাছুটি করছে- সোনাগাজীতে কৃষির বৈচিত্রকরণ আনতে, নদী ভাঙ্গন রোদে, বাঁকা নদী সোজা করতে, কোস্টগার্ড ও সোনাগাজী-মিরেসরাই ইপিজেড কেন্দ্রিক বন্দর করা নিয়ে, নিজের এলাকায় সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট চালু করতে, বিশাল বিশাল ব্রিজ বিনির্মাণ করতে, রাস্তাঘাটের জন্য বরাদ্দ আনতে, বিভিন্ন স্কুল কলেজ জাতীয়করণসহ এ ধরণের কাজে। অথচ কেউ বলতে পারবে না সে কোথাও চাঁদাবাজি, বালুমহল, টেন্ডারবাজি, দখল এসবে ন্যূনতম সম্পৃক্ততা আছে। বরং নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতেই দেখেছি সব সময়। সোনাগাজীর সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ -যাদের ভালোবাসায় সে সবসময় আবদ্ধ, বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয়-স্বজন যাদের অনেক অনেক ভালোবাসায় সমাজের সেবা করায় অনুপ্রাণিত ছিলো সব সময়- তাদের সবার প্রতি তাঁর বিনয়ী শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা থাকবে প্রশ্নাতীত ভাবে এত কিছুর পরেও।মানুষের ভালোবাসার প্রতি তাঁর যে দায়বদ্ধতা -সেই দায়বদ্ধতার ভার সে বহন করতে সক্ষম বলে আমি আশা করি। তার জীবন, পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা, তাঁর বিবেক আর সময় তাঁকে আরো পরিনত করে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস।

