দীর্ঘ ৩৩ বছর পর সকল জল্পনা-কল্পনা কাটিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। ইতোমধ্যে জাকসু নির্বাচনের সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছেন প্রশাসন। শেষ মুহূর্তে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন প্রার্থীরা।
এবার আট প্যানেলে ২৫ পদের বিপরীতে ১৭৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মাত্র চারটি পূর্ণাঙ্গ। পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছে ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ। তবে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের বড় জয় জাকসুতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছাত্রশিবির সমর্থিত জোটের প্রার্থীরাও।সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। তবে এগিয়ে আছেন বাগছাসের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জল, ছাত্রশিবির সমর্থিত জোটের আরিফ উল্লাহ ও স্বতন্ত্র জোটের আবদুর রশিদ জিতু।
জানা যায়, শাখা শিবিরের কমিটিতে না থাকলেও সদস্য আরিফ উল্লাহ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছে সমানতালে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন উজ্জল। এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের নেতা জিতুও এগিয়ে আছেন। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টার নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদেও লড়ছেন ৯ জন। এই পদে অন্যদের মধ্যে এগিয়ে আছেন ছাত্রশিবিরের মাজহার, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাকিল আলী ও বাগছাসের সিয়াম। মাজহার শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস ও প্রচার সম্পাদক। তিনি ইতোপূর্বে বিএনসিসি, বিতর্ক সংগঠন, সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। অপরদিকে সিয়াম ইতোপূর্বে বিতর্ক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দু’জনেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অপরদিকে জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা হিসেবে শাকিলের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।নারী যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ছেন ৬জন। এই পদে এগিয়ে আছেন শিবিরের প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা এবং বাগছাসের মালিহা নামলাহ। মেঘলা ইতোপূর্বে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন সাংবাদিক সংগঠনের সহ-সভাপতির পদে। অপরদিকে মালিহা জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
পুরুষ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই পদে এগিয়ে আছেন ছাত্রশিবিরের ফেরদৌস আল হাসান, ছাত্রদলের সাজ্জাদুল ইসলাম ও বাগছাসের জিয়া উদ্দিন আয়ান। গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনজনই শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন।
এছাড়া শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৯ জন, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ৬ জন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ৮ জন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ৮ জন, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৮ জন, নাট্য সম্পাদক পদে ৫ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৩ জন, নারী সহ-ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৬ জন, পুরুষ সহ-ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৬ জন, তথ্য ও প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে ৭ জন, সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ৮ জন, নারী সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক পদে ৭ জন, পুরুষ সমাজসেবা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক পদে ৭ জন, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক ৭ জন, পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে ৭ জন, নারী কার্যকরী সদস্য পদে ১৬ জন এবং পুরুষ কার্যকরী সম্পাদক পদে ২৬ জন প্রার্থী , ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের বড় জয় জাকসুতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছাত্রশিবির সমর্থিত জোটের প্রার্থীরাও।তিনি আরও জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ২১টি হলে ২১ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৬৭টি জন পোলিং অফিসার ও ৬৭ জন পুলিং অফিসারের সহায়ক হিসেবে কাজ করবেন। এছাড়া প্রতিটি ভোট কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ভোট গণনা করা হবে।এছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ১৫০০ পুলিশ, ৭ প্ল্যাটুন বিজিবি ও ৫ প্ল্যাটুন আনসার ক্যাম্পাসের পরিসীমায় মোতায়েন থাকবে বলেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া মীর মোশাররফ হোসেন হল গেট এবং প্রান্তিক গেট ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গেট মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার ভাসমান দোকান, টারজান পয়েন্টের দোকান, পুরাতন পরিবহন সংলগ্ন দোকান, নতুন কলা ভবন সংলগ্ন মুরাদ চত্বরের দোকান, প্রান্তিক গেটের উত্তর পাশের কাপড়ের মার্কেট ও গেটের সকল দোকান এবং প্রধান গেট সংলগ্ন সকল দোকান সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
সকল হলের অভ্যন্তরে ক্যান্টিন ও দোকান খোলা রাখা এবং পর্যাপ্ত খাবার মজুত রাখার জন্য বলা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা হতে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগ (নিরাপত্তা, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট) ব্যতীত সকল প্রকার মোটরসাইকেল চলাচল নিষেধ করা হয়েছে। এই সময়ে শুধুমাত্র শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাকার স্টিকার এবং নির্বাচন কমিশনের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে। নির্বাচনের দিন সকল স্টাফ বাস প্রান্তিক গেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবশে করবে।



