চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে যুবদলকর্মী মো. সাজ্জাদ (২৫) নিহতের ঘটনায় ৮ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরাও যুবদল-ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের ঘটনায় মামলা হওয়ার পরপরই টানা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৮শে অক্টোবর) গভীর রাত থেকে বুধবার (২৯শে অক্টোবর ভোর পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরী এবং সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে নিহতের বাবা মো. আলম বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ৪০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-সবুজ ইসলাম মিরাজ (২৪), মো. সাইদুল ইসলাম (২০), এমরান হোসেন সাগর (৩০), জিহান (২২), মো. তামজিদুল ইসলাম প্রকাশ সাজু (৪৭), মো. আরাফাত (২২), মো. ওসমান (২৮) ও দিদারুল আলম রাসেল। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৬ জন এজাহারনামীয় আসামি। সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আটজনের সবাই চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (চকবাজার) মো. তারিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, রাতভর বাকলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয় জন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত আছে। এর আগে গত সোমবার রাত পৌনে ১টার দিকে নগরীর বাকলিয়া থানার এক্সেস রোডে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা এমদাদুল হক বাদশাহ ও নগর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক গাজী সিরাজ উল্লাহ’র অনুসারীদের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে যুবদলকর্মী মো. সাজ্জাদ নিহত হন। এই ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টানানো ব্যানার খুলে ফেলা নিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সাজ্জাদ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার হিরাকান্দা গ্রামের মো. আলমের ছেলে। তিনি নগরের তক্তারপুল এলাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ারে ভাড়া থাকতেন। সাজ্জাদ নগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশাহর ঘনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের দুই নেতা এমদাদুল হক বাদশা ও নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহর গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে এ সংঘাত হয়েছে। এদের মধ্যে এমদাদুল হক বাদশা চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগে গত জুলাইয়ে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এমদাদুল হক বাদশাহ ও সিরাজ উল্লাহ-দু’জনই চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী বলে পরিচিত। গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত হিসেবে নাম আসা সিরাজের অনুসারী বোরহান উদ্দিন নগর ছাত্রদলের সাবেক আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক। তবে তিনি এখন নিজেকে যুবদলের সংগঠক দাবি করে আসছেন। জানা যায়, মেয়র শাহাদাত হোসেন জসীমের ছবি ব্যবহার করে লাগানো ‘সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের’ ব্যানার সরানোর নির্দেশ দেন। জসীম ব্যানারগুলো খুলে ফেলে। এর মধ্যে শাহাদাত ও সিরাজের ছবিসহ বোরহানের ব্যানারও ছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বোরহানরা জসীমকে তুলে নিয়ে যায় ও মারধর করে। জসিমকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এমদাদুলের অনুসারীরা তাকে উদ্ধারে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এসময় সাজ্জাদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার দুপুরে বাকলিয়ার তক্তারপুলে নিহত সাজ্জাদের বাসায় যান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সেখানে মেয়র দাবি করেন, তিনি বাকলিয়া এলাকার ‘উত্তপ্ত পরিস্থিতি’ নিয়ে সোমবারই ফোন করেছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারকে। সিটি মেয়র বলেন, এক্সেস রোডে আগেও মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি গতকাল কিছু ছেলে আমার কাছে এসেছিল। তারা বলছে যে, এখানে গণ্ডগোল হতে পারে। এখানে বেশ উত্তপ্ত পরিবেশ। আমি পুলিশ কমিশনার সাহেবকে বলেছি ফোন করে। এবং বলেছি এই ছেলেগুলোকে গ্রেপ্তার করতে ঘটনার মনে হয় ঘণ্টাখানেক আগে। মেয়র বলেন, আমি সম্পূর্ণ বাকলিয়া থানাকে দোষ দিবো। সুনির্দিষ্ট এই ছেলেগুলোকে তারা যদি গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসতে পারতো এবং তাদের মামলায় দিয়ে যদি জেলে রাখতে পারতো, তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না। এই ছেলেগুলোর ব্যাপারে আমি স্পষ্ট বলেছি তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে।

