বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

ইরাক সিরিয়া, লেবাননকে নিয়ে নতুন সামরিক বলয় তৈরী

আপডেট:

পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি একটি নতুন এবং সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে লেবাননে ক্রমবর্ধমান এবং অভূতপূর্ব মার্কিন চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, ওয়াশিংটন তার সমস্ত অর্থনৈতিক, আর্থিক এবং কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে ইসরায়েলের পক্ষে লেবাননের অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক সমীকরণগুলিকে পুনর্নির্ধারণ করতে চায়। সূত্র মতে, এই চাপের বিভিন্ন মাত্রা এবং সিরিয়া, ফিলিস্তিন এবং ইরাকের সাথে তাদের সংযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে।

লেবাননের উপর পূর্ণ মাত্রায় মার্কিন চাপ

বিজ্ঞাপন

মিশরীয় সংবাদপত্র “আল-জুমহুরিয়ার” একটি প্রতিবেদন অনুসারে, লেবানন অদূর ভবিষ্যতে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে, অভূতপূর্ব চাপের এক ঢেউ প্রত্যক্ষ করবে। এই চাপের দুটি প্রধান লক্ষ্য হল, প্রথমত, বৈরুত ইসরায়েলের সাথে সরাসরি আলোচনার টেবিলে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা এবং দ্বিতীয়ত, হিজবুল্লাহ ও তার মিত্রদের উপর ব্যাপক অর্থনৈতিক, আর্থিক এবং কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করা। বলা হচ্ছে যে মার্কিন সরকার শীঘ্রই লেবাননের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিস্তৃত তালিকা প্রকাশ করবে। এই প্রেক্ষাপটে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল বৈরুত ভ্রমণ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সাথে দেখা করেছে।

ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক খেলা; সিরিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিতকরণ

বিজ্ঞাপন

এমন সময়ঢ লেবাননের উপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে যখন ওয়াশিংটন এই অঞ্চলের অন্যান্য ফ্রন্টেও সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা সিরিয়ার বিরুদ্ধে “সিজার আইন” থেকে অবশিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলি ১৮০ দিনের জন্য স্থগিত করবে, তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে যে দেশটি “সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক” তালিকায় থাকবে। দামেস্কের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণের প্রচেষ্টা থেকে বোঝা যায় এই পদক্ষেপ এমন সময় নেয়া হয়েছে যখন সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান জোলানি হোয়াইট হাউস পরিদর্শন করেছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ হুইটেকার দাবি করেছেন যে অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় হামাস কর্মকর্তারা নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছেন। এই দাবি এমন এক সময় করা হলো যখন হামাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার ফিলিস্তিনের দখলদারিত্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে “অসম্ভব” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরাকের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন

এই পরিস্থিতির একইসাথে, ইরাকের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গিতেও মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে বলেছে যে দেশটি ইরাক থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করবে না বরং বাগদাদের সাথে “নিরাপত্তা ও কূটনীতির ক্ষেত্রে আরও ঐতিহ্যবাহী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের” দিকে এগিয়ে যেতে চায়। ইরাকে এই নতুন মার্কিন কৌশলের লক্ষ্য হল বিভিন্ন উপায়ে এবং কম রাজনৈতিক খরচে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের প্রভাব বজায় রাখা।

লেবানন, সিরিয়া, ফিলিস্তিন এবং ইরাকের ক্ষেত্রে একযোগে যা ঘটছে তা থেকে বোঝা যায় এ অঞ্চলের ব্যাপারে ওয়াশিংটন বিশেষ রোডম্যাপ অনুসরণ করছে। এই কৌশলের মূল বিষয় হল ইসরায়েলের পক্ষে আঞ্চলিক সমীকরণ পুনর্বিন্যাস করা এবং গাজা যুদ্ধের পরের ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে প্রতিরোধের অক্ষকে দুর্বল করা। এই কৌশলের অংশ হিসাবে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে লেবাননের উপর চাপ প্রয়োগ, সিরিয়াকে আমেরিকার পথে চলতে চলতে বাধ্য করা ও নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের দাবি করা এবং অবশেষে স্থায়ীভাবে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। চূড়ান্ত লক্ষ্য হল এই অঞ্চলে এমন একটি নতুন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা যেখানে ওয়াশিংটন এবং তার মিত্ররা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে এবং ইসলামিক প্রতিরোধ ফ্রন্ট দুর্বল হয়ে পড়বে।

পার্সটুডে/এমআরএইচ/১১

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত