“ছাত্রদলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভদ্র সভাপতি সম্ভবত রাকিব। ৫ আগস্ট যখন শিবির পুলিশ হত্যায় ব্যস্ত, থানা পোড়াতে ব্যস্ত, অস্ত্র লুটে ব্যস্ত, রাকিব তখন ছেলেপেলেদের দিয়ে থানা পাহারা দিয়েছে। বহু কনস্টেবল, দারোগা, মুন্সির পরিবারকে ছাত্রদল কর্মীর বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছে। যশোর জেলা কারাগার যখন শিবির পুড়িয়ে দেয়ার আয়োজন করে, তখন রাকিব ছাত্রদলকে দিয়ে সেটা প্রতিরোধ করে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ভদ্রলোকী রাজনীতি চালু করতে চেয়েছে। কিন্তু প্রাপ্তিটা কী? অসভ্য বদমাশদের বিরুদ্ধে ভদ্রলোক সেজে ছাত্রদল কী পেলো? যারা শিশুর মতো সরল, কথায় কথায় মেইনস্ট্রিম রাজনীতিকে ভিলিফাই করে, নিষিদ্ধ চায় ছাত্ররাজনীতি, তারা এখন চুপ কেন? ধর্মীয় নাৎসিবাদের উত্থান ঠেকাতে পারছেনা কেন?ডাকসু, রাকসু, প্রতিটি ক্লাবে শিক্ষকদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রাকসুর এক ছা*/গল নিজেই পদত্যাগপত্র লিখে ডিনদের কাছে নিয়ে গেছে। শিক্ষকদের কলিজা ছিঁড়ে ভুনা করার ঘোষণা দিয়েছে। এবং সেখানকার ভিসি, যে নিজেও ছা*/গল, সেগুলোতে চোখ টিপে সায় দিয়েছে। ডাকসুর এক নাৎসি ভারতী দূতাবাস দখল করতে গিয়েছে। ভারতের সাত অঙ্গরাজ্যে হামলা চালানোর কথা বলেছে। দিল্লীতে থাকা বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতদের পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই নাৎসি ভারতে ঢুকে বাংলাদেশ এম্বেসি পাহারা দিচ্ছে না কেন? হলের নাম পাল্টানো, ভবনের নাম পাল্টানো, মব-সন্ত্রাস, ভোটচুরি, ভাস্কর্য ভাঙচুর, লোকদেখানো নামাজ, লোকদেখানো তেলাওয়াত, ধর্ম বিক্রি, এমন কোনো বদমাশী নেই যা ৫ আগস্টের পর শিবির করে নি। এবং এরা কয়েকটি স্তরে কাজ করে। প্রথম স্তরে মুখোশী সাধু কায়েমরা, দ্বিতীয় স্তরে পদলোকানো লাঠিয়ালরা, তৃতীয় স্তরে সংঘবদ্ধ প্রোপাগান্ডিস্টরা। শিবির যা করছে ও বলছে, তাতে শেখ হাসিনার দমন-পীড়নের পোস্ট-রিজিম বৈধতা উৎপাদিত হচ্ছে। একধরণের গণসম্মতি এদের বিরুদ্ধে তৈরি হচ্ছে। স্বেচ্ছায় নিজেদের উপর লেজিটিমেট ভায়োলেন্স আহ্বান করছে। এ অবস্থায় ছাত্রদল কী করবে? যারা ভায়োলেন্স ছাড়া আর কোনো ভাষা বোঝে না, যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও আইন নির্বিকার, তাদের প্রতিরোধে মানুষ বাধ্য হয়ে ভায়োলেন্ট হয়ে উঠলে সমাজ কী করবে? ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের মতো ছাত্রদল নিষিদ্ধের দাবি তুলবে? প্রথম আলো, ছায়ানট, উদীচী, এগুলোতে পরিষ্কারভাবে শিবির হামলা চালিয়েছে, রাষ্ট্র কি কাউকে গ্রেপ্তার করেছে? সিআরপিসি অনুযায়ী নাগরিকরাও অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারে। যেহেতু পুলিশ নাৎসিদের গ্রেপ্তার করছে না, কগনিজিবল ক্রিমিনাল অফেন্সের সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও, ইউনূস সাহেব কি চান যে ছাত্রদল তাদের গ্রেপ্তার করুক? পরস্থিতি কিন্তু সেদিকে যাচ্ছে। মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে মনে মনে তা কামনা করছে। আমরা চাইলেও তা ঠেকাতে পারবো না।”
.মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
সাক্ষাৎকার / ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
(শরফুদ্দিন মনি — বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষা আন্দোলন)

