রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য রাসায়নিক ও জৈব ওয়ারহেড তৈরির কাজ শুরু করেছে ইরান

আপডেট:

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসি তাদের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য রাসায়নিক ও জৈব ওয়ারহেড তৈরির কাজ শুরু করেছে। বিশেষ সূত্রের বরাতে এই খবর দিয়েছে গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনা।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরান তাদের সামরিক সক্ষমতা অপ্রচলিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে এই গোপন মিশনে নেমেছে।গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানা গেছে, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স ইতিমধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।সেখানে কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সিস্টেমের আধুনিকায়নের কাজ চলছে।ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইরানের এই সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে গত জুনের সংঘাতের পর ইরান যেভাবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ করছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মেরামত করছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, আইআরজিসি এখন তাদের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির পাশাপাশি একটি পরিপূরক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে, যা মূলত ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ব্যবহৃত হবে।ইরান আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের রাসায়নিক অস্ত্রের শিকার হিসেবে দাবি করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের কৌশল বদলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইআরজিসির নীতিনির্ধারকদের ধারণা, বড় ধরনের কোনো হামলায় অস্তিত্ব সংকটে পড়লে অপ্রচলিত অস্ত্রের ব্যবহারই হবে প্রতিপক্ষকে চরম মূল্য দিতে বাধ্য করার প্রধান অস্ত্র। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্সের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্বাভাবিক তৎপরতা ও সংকেত শনাক্ত করেছে।
তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই রাসায়নিক বা জৈব ওয়ারহেড মোতায়েন করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে দেবে। তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপও বহুগুণ বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত