‘ইসলাম প্রকৃত অর্থে প্রতিটি ইবাদত চরিত্রের সাথে রূপান্তরিত করার মধ্যে দিয়েই—
জীবনকে সঠিক পথে অতিবাহিত করার এক অনবদ্য যাত্রা।
যেখানে নামাজ শুধু কয়েক মিনিটের রুকু-সিজদা নয়,
এটি দিনভর ‘আল্লাহর’ সামনে নতশির থাকার প্রশিক্ষণ।
রোজা শুধু ক্ষুধার অনুশীলন নয়, এটি তাকওয়ার বীজ বপনের মৌসুম,,
‘হজ ও উমরাহ কেবল সফর নয়, এটি আত্মার শুদ্ধিযাত্রার মহাসমুদ্র।।জেনে রাখো ধৰ্মপ্রাণ: এসব ইবাদত তো কতিপয় সময়ের গণ্ডিতে বাঁধা ফরমায়েশ..,
কিন্তু ইসলাম এই গণ্ডি পেরিয়ে..
২৪ ঘণ্টা, ১৪৪০ মিনিট, জীবনভর প্রবাহমান এক নদী—
যার ঢেউ বয়ে বেড়ায়…
‘মসজিদ, যায়নামাজের বাইরেও,
রাস্তায়, বাজারে, অফিসে, সংসারে, মানুষের সাথে,
প্রতিটি কথায়, প্রতিটি দৃষ্টিতে, প্রতিটি মনোভাবে।
ইসলাম আছে সেই ফাঁকা সময়ে, যখন তোমার ক্ষমতা থাকে— ন্যায়ের পথে থাকো।যখন কথা বলার সুযোগ থাকে, সত্য বলো নম্রতা চয়নে।
যখন লোভ আসে, তখন অধিকারের সীমানা মনে রেখো।ইসলাম নিজ বা দলের ‘এজেন্ডা বাস্তবায়নের কোন ব্যানার নয়।
ইসলাম কারো করায়ত্তের মালিকানায় বন্দী নয়—
না ব্যক্তির, না দলের, না ‘রাজীনীতি ছায়ায়।
ইসলামের আগমন ঘটেছে ন্যায়-বিচার, নৈতিকতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান লক্ষ্যে— এটি তার চিরন্তন পরিচয়। ইসলাম আছে ক্ষমার প্রশস্ততায়, প্রতিশোধ ব্যক্তিগত আক্রমণ না খুঁজে।
যুক্তিহীনতার দ্বন্ধে নয়- যার হাত বাড়ে সহমর্মিতা টানে,
যেখানে সেবাই হলো ইসলামের প্রকৃত সদকা।ইসলাম আছে সেই সৌন্দর্যে—
যে দৃষ্টিতে পর্দা আছে, অবনত থাকার শ্রদ্ধা আছে।
ইসলাম হল সেই হাত, যে হাত দানও করতে পারে, আবার ঠেকাতেও পারে অন্যায়।ইসলাম মানে সেই মনের অধিকারী,
যে মন ঈর্ষায় জ্বলে না, মানুষের ভালো দেখে আনন্দে উজ্জ্বল হয়।একটি জীবন বিধান নামাজ-রোজা, পাশাপাশি—
ইসলাম ইবাদতে শিক্ষা দেয় বিনম্র হতে, সিজদায় নত হতে;আর আখলাক শেখায় মানুষ হয়ে উঠতে—সৎ হতে, দয়ালু হতে, ইনসাফের পাল তুলতে।একবার একজন যুবক ‘রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন,
‘ইসলামের আচরণের গুরুত্ব নিয়ে!’রাসূল (সা.) বলেন—যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে কিন্তু প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়,সে যেন এমন গাছ লাগায় যার পাতা আছে কিন্তু ফল নেই।’এটা সত্যি, মানুষের অধিকাংশ কষ্টের উৎস—মানুষের আচরণেই।
যদি ইসলাম আমাদের শেখায় শুধু রুকু-সিজদা, কিন্তু শেখায় না সুন্দর আচরণ, মানুষের হক—তবে সে ইসলাম অপূর্ণ, সে ইবাদত মূল্যহীন।
বরং এমন ইবাদত নিজের মুখেই ‘ছুঁড়ে ‘মারা হবে।বর্তমান ‘বিশ্বে ‘ইসলামের নামে ‘বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়, “ইসলামোফোবিয়ার” ‘বিষ ছিটিয়ে একে ভয় ও ‘বিদ্বেষের চিহ্নিত করা হয়।এর একমাত্র কার্যকর বটিকা— যা এই দেয়াল ‘ভাঙতে পারে —তা হলো মুসলিমের জীবনে ইসলামের সৌন্দর্যের প্রতিফলন: সুন্দর আচরণ, নম্রতা, সত্যনিষ্ঠা ও ‘বিভাজনহীন নিঃস্বার্থ মানবসেবা।ইসলামের মাপজোক নয় শুধু ওয়াজ আর ওয়াক্ত গুনে,মাপো তোমার আচরণের পাল্লা দিনে-রাতে।
যেই ভালো মানুষ, সে-ই ভালো মুসলমান- আখলাক ইবাদতে যে পূর্ণ!
আর আখলাকই হল সকল ইবাদতকে উজ্জ্বল করার বাতি, সবচেয়ে স্থায়ী দাওয়াত।নামাজ হয়তো তোমাকে মসজিদে নিয়ে যায়,
আর বিনয়ী আখলাক তোমাকে নিয়ে যায় ‘আল্লাহর’ দরবারে— মানুষের হৃদয়ে।
মনে রেখো:একটি সুন্দর আখলাক সমগ্র সৃষ্টিজগতের কাছে -ইসলামের মুখ।
আর তোমার চরিত্রই হোক ‘কুরআনের’ জীবন্ত তাফসির।
—————————
‘ইসলামের পরিচয়।
লেখা: সাজিদুল্লাহ ফরহাদ।

