রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি’ সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন রণসজ্জার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আশংকা

আপডেট:

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জর্ডানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ‘মুয়াফফাক সালতি’ সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন রণসজ্জার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে। গতকাল শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ধারণ করা ছবিতে দেখা যায়, ওই ঘাঁটিতে ৬০টিরও বেশি আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। এই ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্ভাব্য বড় ধরনের অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে।দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী গত রোববার থেকে অন্তত ৬৮টি কার্গো বিমান ওই ঘাঁটিতে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে অবতরণ করেছে। উপগ্রহচিত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক যুদ্ধবিমান দেখা গেছে, যার মধ্যে রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম ‘এফ-৩৫’ স্টেলথ ফাইটার জেট অন্যতম।এ ছাড়া ঘাঁটিতে বেশ কিছু ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টারও শনাক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মূল রানওয়ের বাইরে বিশেষ ছাউনির নিচে আরও বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।ঘাঁটিটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়ে জানা গেছে যে, ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষায় সেখানে অত্যাধুনিক নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। জর্ডানের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবেই এসব সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রণসজ্জা কেবল চুক্তির অংশ নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনের এক কঠোর সতর্কবার্তা। গত শুক্রবার খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি করাতে তিনি দেশটিতে ‘সীমিত সামরিক হামলার’ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন।মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা এবং ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাব ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে জর্ডানের মতো একটি কৌশলগত অবস্থানে আধুনিক যুদ্ধবিমানের এই বিশাল সমাবেশ ইরানের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনীতির পথ বন্ধ হয়ে গেলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বনেতারা এখন পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছেন, কারণ এই উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতিতে সরাসরি পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত