শুক্রবার, মার্চ ৬, ২০২৬

মেলোনি সরকারের সংস্কার সংবিধানবিরোধী ও জনস্বার্থের পরিপন্থী: জুসেপ্পে কন্তে ​

আপডেট:

রোম: ইতালির বর্তমান সরকারের গৃহীত বিচার বিভাগীয় সংস্কার এবং বৈদেশিক নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে। তিনি বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ এবং ‘সংবিধানবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়ে জনমনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।​বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ কন্তে অভিযোগ করেন, মেলোনি সরকার বিচারকদের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “রাজনীতিকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখার যেকোনো প্রচেষ্টা আমরা কঠোরভাবে প্রতিহত করব।” তাঁর মতে, এই সংস্কার কার্যকর হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হবে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।জ্বালানি নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকাকে ‘অদূরদর্শী’ বলে মন্তব্য করেন কন্তে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সরকারের ভুল নীতির কারণে ইতালির জ্বালানি নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। বিশেষ করে সংকটকালীন সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ক্রসেত্তোর বিতর্কিত দুবাই সফরকে তিনি জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি চরম উদাসীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন।বাজেট ঘাটতি ও প্রতিরক্ষা ব্যয়​২০২৫ সালের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস তুলে ধরে কন্তে জানান:​বাজেট ঘাটতি: আগামী বছর ইতালির বাজেট ঘাটতি ৩.১ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।প্রতিরক্ষা ব্যয়: এই কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র খাতে অতিরিক্ত ৭ বিলিয়ন ইউরো খরচ করতে হচ্ছে, যা জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।সুপারবোনাস’ এবং বিকল্প সরকারের ডাক সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সময়কার ‘সুপারবোনাস’ প্রকল্পের গুরুত্ব পুনরায় মনে করিয়ে দেন। তিনি জানান, এই প্রকল্পটি ইতালির নির্মাণ খাতকে চাঙ্গা করতে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল, যা বর্তমান সরকার অবমূল্যায়ন করছে।, জুসেপ্পে কন্তে দেশের জনগণের অধিকার রক্ষায় এবং একটি শক্তিশালী প্রগতিশীল বিকল্প সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের গণবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে তাঁর দল রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত