প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে নিরাপত্তা জোরদার করতে রিয়াদে যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক বাহিনী পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব।গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তির পর কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। যেটি ইরান যুদ্ধের সময় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর আত্মরক্ষার্থে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।এতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হয় এবং একজন সৌদি নাগরিক নিহত হন।
দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতির পর ইসলামবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতাদের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মধ্যে রিয়াদে সেনা পাঠানোর বিষয়টি সামনে এলো।রিয়াদ ও ইসলামাবাদ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনকে উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। এটি কয়েক দশক পুরোনো নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে আরও গভীর করেছে।সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমান ঘাঁটিতে সেনা মোতায়েনের লক্ষ্য হলো যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করা।পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক মোতায়েনসহ সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে, অন্যদিকে সৌদি আরব অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে পাকিস্তানকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য বারবার এগিয়ে এসেছে।পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান দেশটির প্রতি অর্থনৈতিক সমর্থন প্রদর্শন করতে পাকিস্তানে অবস্থান কেরছে।২০১৮ সালে রিয়াদ পাকিস্তানের জন্য ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৩ বিলিয়ন ডলার জমা এবং বিলম্বিত পরিশোধের ভিত্তিতে ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সূত্র: রয়টার্স।

