মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬

হাঙ্গেরিতে ভিক্টর ওরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান”পিটার মাগিয়ারের ঐতিহাসিক জয়

আপডেট:

​বুদাপেস্ট ও রোম: হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে দীর্ঘ ১৬ বছরের একাধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন পিটার মাগিয়ার। রক্ষণশীল নেতা ভিক্টর ওরবানকে পরাজিত করার এই ঘটনাকে ইউরোপীয় রাজনীতিতে ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির বড় পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিজয় কেবল হাঙ্গেরিতেই নয়, বরং সমগ্র ইউরোপীয় রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে
​হাঙ্গেরির এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রধান কারিগর হিসেবে দেখা হচ্ছে সেদেশের তরুণ প্রজন্ম ও ‘জেন জি’ (Gen Z)-কে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তারা রাজপথে নেমে উল্লাসে মেতে ওঠে। ইতালির ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এলিশ শ্লিন এই বিজয়কে ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি একে ‘ওরবান-ট্রাম্প-মেলোনি’ অক্ষশক্তির ব্যর্থতা হিসেবেও বর্ণনা করেন।ইতালির নেতাদের প্রতিক্রিয়া‘মেলোনির বিপরীত ছোঁয়া’হাঙ্গেরির নির্বাচনে ওরবানের পরাজয় নিয়ে ইতালির রাজনৈতিক মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়। ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি এই পরাজয়কে ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ‘বিপরীত ছোঁয়া’ (Midas touch in reverse) বলে উপহাস করেছেন। রেনজির মতে, মেলোনি পোল্যান্ড ও স্পেনের মতো হাঙ্গেরিতেও ওরবানকে সমর্থন দিয়েছিলেন, যার ফল দাঁড়িয়েছে পরাজয়।
​অন্যান্য নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল আরও জোরালো:
​ইলারিয়া সালিস: সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি ওরবানকে লক্ষ্য করে তিনি লেখেন— ‘গুডবাই ফরএভার’।সান্দ্রো গোজি: ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সদস্যের মতে, হাঙ্গেরীয় জনগণ মূলত ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র রাজনীতিকেই প্রত্যাখ্যান করেছে।কার্লো ক্যালেন্ডা: তিনি মনে করেন, পিটার মাগিয়ারের এই জয় রাশিয়া-বিরোধী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী (EU-pro) রাজনীতির এক বিশাল অর্জন।পিটার মাগিয়ারের এই জয়কে মহাদেশীয় রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের উগ্র জাতীয়তাবাদী ধারার বিপরীতে উদারপন্থী ও ইইউ-পন্থী শক্তির এই উত্থান রাশিয়ার সাথে হাঙ্গেরির ঘনিষ্ঠতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত