রোম, ইতালি: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দেশের পর্যটন খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং ‘জাতীয় পরিচয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি সরকারের এক নীতি নির্ধারণী সভায় তিনি পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ ইতালির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
১. পর্যটন: অর্থনীতির নতুন প্রাণশক্তি
ইতালির মোট জিডিপিতে (GDP) বর্তমানে ১৩ শতাংশ অবদান রাখছে পর্যটন খাত। প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় ইতালি এখন শীর্ষে।
অবস্থানের রেকর্ড: বর্তমানে ইতালিতে পর্যটকদের গড় অবস্থানের সময় ৩.৬ রাত। এই পরিসংখ্যান প্রতিবেশী প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ স্পেন, ফ্রান্স ও জার্মানির তুলনায় অনেক বেশি।
আধুনিকায়ন তহবিল: এই খাতের মানোন্নয়নে সরকার ১.৪ বিলিয়ন ইউরোর একটি বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে। শিল্পে তরুণ কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগ নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্যাক্স ছাড় বা কর সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২. কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা
ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ইতালি পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর আইন প্রণয়ন করছে:
অবৈধ ভাড়া বন্ধ: ইন্টারনেটে অবৈধ স্বল্পমেয়াদী আবাসন বা রেন্টাল ব্যবসা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।অনলাইনে ভুয়া রিভিউয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের বিভ্রান্ত করা প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।
৩. দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য ঘোচাতে সরকার ‘একক অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (ZES Unica) গঠন করেছে।এ পর্যন্ত এই অঞ্চলে ১.২ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৩৩০০-এর বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।৪. জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি
বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে ইতালি তার কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে। জ্বালানি আমদানিতে একক নির্ভরতা কমাতে আলজেরিয়া ও আজারবাইজানের মতো দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করছে মেলোনি সরকার।
”পর্যটন কেবল আমাদের সম্পদ নয়, এটি আমাদের পরিচয়। আমাদের লক্ষ্য এই খাতকে আরও আধুনিক ও সুরক্ষিত করা যাতে ইতালির অর্থনীতি বিশ্বমঞ্চে তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পারে।”
পর্যটনকে অর্থনীতির ‘অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি আধুনিকায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতালির আলজেরিয়া ও আজারবাইজানের জোরদার : প্রধানমন্ত্রী মেলোনি
আপডেট:

