গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নেপাল পুলিশের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে প্রাণহানি ও নিখোঁজের এ সংখ্যা জানানো হয়েছে। নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু ছাড়াল ৯১৯, নিখোঁজ ৪৭০০। এর মধ্যে একটি হ্রদের পানির স্তর কমেছে। তবে অন্যটির আয়তন বেড়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে পানির পরিমাণ আরও বাড়লে নতুন করে বন্যা ও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে গত কয়েক দিনে দেশটির বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গেও সব তথ্যের মিল নেই।নিখোঁজের তালিকায় একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার থাকা, উদ্ধার হওয়ার পরও তালিকা থেকে নাম বাদ না পড়া এবং দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে হিসাবের এমন পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিহত ও নিখোঁজের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।এদিকে উদ্ধার হওয়া শত শত মরদেহের অনেকগুলোর অবস্থা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় এবং পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় গণকবর দেওয়া শুরু করেছে নেপাল প্রশাসন। তবে ভবিষ্যতে পরিচয় শনাক্তের সুযোগ রাখতে সমাহিত করার আগে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে।স্বজনরা বিভিন্ন আলামত দেখে প্রিয়জনের মরদেহ শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। কারও স্কুলের টাই, কারও পরনের গয়না কিংবা শরীরের ট্যাটু দেখে শনাক্ত করা হচ্ছে মরদেহ। এ কারণে মর্গগুলোতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের ভিড়ও বাড়ছে।নেপাল প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর সেখানেই দাফন করা হবে। প্রশাসনের ভাষ্য, উদ্ধার করা মরদেহগুলোতে ইতোমধ্যে পচন ধরতে শুরু করায় এ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।রেড ক্রসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত বুধবারের এই বিপর্যয়ে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।ভয়াবহ বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। হিমালয়ের উঁচু এলাকায় তৈরি হওয়া দুটি জলাধার বা ‘বেরিয়ার লেক’-এর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।এর মধ্যে একটি হ্রদের পানির স্তর কমেছে। তবে অন্যটির আয়তন বেড়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে পানির পরিমাণ আরও বাড়লে নতুন করে বন্যা ও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

