বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

পুলিশ সদস্য বিরুদ্ধে নারী পুলিশ সদস্যের ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট:

ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার দ্বিতীয়তলার নারী ব্যারাকে ঢুকে এক নারী পুলিশ সদস্যকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই থানায় কর্মরত সাফিউর রহমান নামে আরেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে গত ৬ মাস ধরে থানা ব্যারাকেই ওই নারী সদস্যকে ধর্ষণ করে এই পুলিশ সদস্য। এর প্রতিকার চেয়ে গত ৫দিন ধরে ঘুরেও থানায় মামলা করতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সদস্য। অভিযোগ উঠেছে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ওসিসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।ভুক্তভোগী ওই নারী কে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে আমি আশুলিয়া থানা থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় যোগদান করি। তখন নিজে থেকেই পরিচিত হতে আসেন ওই থানায় গত ১৫ মাস ধরে কর্মরত কনস্টেবল সাফিউর রহমান। গত রমজানে ঈদের পরে আমার ডিউটি না থাকায় রাতে ব্যারাকের রুমে আমি একা ছিলাম। হঠাৎ সাফিউর আমার রুমে ঢুকে আমাকে জাপটে ধরে। আমি তখন কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমি বার বার বলছিলাম সাফি ভাই আপনি কী করছেন এগুলো। আমি নারী হওয়ায় ধস্তাধস্তি করেও তখন তার সঙ্গে পেরে উঠিনি। তখন আমার মুখ চেপে ধরে আমাকে ধর্ষণ করে সাফিউর। আর ওই ধর্ষণের ভিডিও চিত্র তার মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। তখন আমি কান্নাকাটি শুরু করলে সে আমার হাতে-পায়ে ধরে মাফ চায়। বলে- আমার মাথা ঠিক ছিল না। যা হয়েছে ভুলে যাও। আর তুমি যদি এই বিষয়টি কাউকে জানাও তাহলে আমার তো ক্ষতি হবে তুমিও বাঁচতে পারবে না। আমি এই ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেবো। তখন চাকরির ভয়ে, লজ্জায় ও সামাজিকভাবে হেয় পতিপন্নের কথা চিন্তা করে কাউকেই কিছু বলতে পারিনি। কিন্তু আমার ওই নীরবতার সুযোগ নেয় সাফিউর। সে ওই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে আমাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করতে থাকে থানা স্যার তাদের প্রশ্ন করে- পুলিশ সদস্যদের বিয়ে করতে হলে অনুমতি নিতে হয়, তোমরা কী কোনো অনুমতি নিয়েছো? এই প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেনি তারা দু’জন। পরে বিষয়টির কোনো মীমাংসা না করেই শুধু লিখিত নিয়ে আমাদেরকে পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেয়া হয়।’ অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত কনস্টেবল সাফিউরের নম্বরে ফোন দিলে, তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনেই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন বলে লাইন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন বন্ধ করে রাখেন। বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে ওই ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সদস্য কোনো অভিযোগ করেননি। বিষয়টি এসপি স্যার দেখছেন। আপনি এসপি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমাদের পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। এখানে থানা ব্যারাকে এমন কোনো ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নেই। কারণ একটা ব্যারাকের রুমে কেউ কেউ একা থাকে না। তার সঙ্গে অন্য পুলিশ সদস্যরাও থাকেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। এটা প্রেমঘটিত কিনা কাউকে ফাঁসানো হচ্ছে কিনা সব দেখা হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তেই এ বিষয়ে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। আমরা পুরো বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। যেই দোষী সাব্যস্ত হবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুত্র : মানবজমিন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত