বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

চর্ম লাল, ফোস্কা, শুস্ক ও চুলকানির চিকিৎসা

আপডেট:

🌿 চর্মরোগ
চর্মরোগ নির্দিষ্ট কোনো একটি রোগের নাম নয়। ত্বকে প্রদাহ হয়, রং পরিবর্তন করে, চুলকায়, ফোলে যায়, জ্বালা করে, ফেটে ঘা হয়, Eruptions (উদ্ভেদ, ফোঁড়া, ফোস্কা, খোস পাঁচড়া) দেখা দেয়। ব্যথা করে, পানি-রক্ত ও পুঁজ বের হয়। এসবই ত্বক বা চর্মরোগের সমষ্টিগত উপসর্গ। নির্দিষ্ট কিছু খাবার, ধাতু ও অন্যান্য পদার্থ, কিছু প্রাণির সংস্পর্শ এবং পোকামাকড়ের দংশন, Ointment (লোশন, মলম, ক্রিম) ব্যবহারের মাধ্যমে চর্মরোগ চাপা দেয়ার কুফল, বংশগত চর্মরোগের ইতিহাস এবং বসবাসের পরিবেশকে চর্মরোগের পেছনের কারণ হিসাবে ধরা হয়।
প্রধানতম চর্মরোগসমূহ –
——————————
Eczema (একজিমা): চর্ম লাল, ফোস্কা, শুস্ক ও চুলকানি হয়। কোনো প্রকার উদ্ভেদ ছাড়াও ত্বক চুলকাতে পারে। সাধারণত চামড়ার ভাজে. মাথায় এবং সারা শরীরে হয়।Psoriasis (সোরিয়াসিস): এটি সাধারণত শুস্ক হয়। মাথায় ও সারা শরীরে চুলকায় ত্বক খসখসে হয়। চুলকাতে চুলকাতে ত্বক বিবর্ণ ও ফ্যাকাশে হয়।
Scabies (স্ক্যাবিস): ত্বকের নিচে বাসা বাঁধা ক্ষুদ্র পরজীবী (মাইট) দ্বারা সৃষ্ট চর্মরোগ। এর প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র চুলকানি, বিশেষ করে রাতে এবং ত্বকে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা র‍্যাশের মতো দেখা যায়। এটি ছোঁয়াচে হয় একজন থেকে আরেক জনে বিস্তার ঘটে। চিকিৎসায় অবহেলায় করলে কিডনি সংক্রমিত হতে পারে।
Allergic Rhinitis (নাকের প্রদাহ): রক্তে অ্যালার্জেনের উপস্থিতির ফলে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু প্রাণির সংস্পর্শে এধরণের রোগ হয়। নাকের ভিতরে সুড়সুড় করে চুলকায়, প্রচন্ড হাঁচির সাথে চোখ লাল হয়ে যায়। এরোগের অন্য নাম Dust Allergy.Acne (বয়ঃব্রণ): যৌবনের শুরুতে কিশোর-কিশোরীদের মুখে, বুকে, পিঠে বা শরীরের অন্য স্থানে প্রকাশ পায়। হরমোন Develop/Balance হয়ে আসলে ঠিক হয়ে যায়। আবার অনেকের থেকে যায়।Human Papillomavirus (আঁচিল বা তিল): মুখে, যৌনাঙ্গে ও শরীরের যে কোনো স্থানে হয়ে থাকে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে লেজার বা সার্জিক্যাল উপায়ে আঁচিল বা তিল রিমুভ করা এরোগের স্থায়ী সমাধান নয়।Chloasma/Melasma (মেছতা): সাধারণত মেয়েদের ঘাঁড়ে এবং গর্ভকালীন সময়ে নারীদের চেহারায় প্রকাশ পায়। প্রসবের পর চলে যায়, অনেকের থেকেও যায়।
Leukoderma (দাগ): আঘাত, কাটা-ছেড়া অথবা পোড়ার ক্ষত ভালো হয়ে শক্তভাব, চুলকানিসহ ত্বকে লাল বা সাদা দাগ পড়ে।Vitiligo (শ্বেতী): আধুনিক মহিলারা ত্বক ফর্সা করতে বিউটি পার্লারে অথবা নিজ থেকে নানা ধরণের Strong Perfumes, Chemical Spray ব্যবহার করে। যার ফলে ত্বকের Melanocytes Cell (রং উৎপাদনকারী সেল) নষ্ট হয়। এছাড়াও শরীরে মেলানোসাইট রোগাক্রান্ত হলে অথবা সেল সংখ্যায় কমে গেলে শ্বেতী রোগ হয়।Ringworm (দাউদ): এটি গোলাকার বৃত্তের মতো দেখায়। ধারগুলি লাল বা কালো এবং শক্ত হয়। প্রচন্ড চুলকায়, পানি ঝরতে থাকে। দাউদ শরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারে।Abscess/Boil (ফোঁড়া): একস্থানে বা একাধিক অঙ্গে হতে পারে। একই স্থানে এক বা একাধিক ফোঁড়াও হতে পারে। প্রচন্ড ব্যথাযুক্ত, পুঁজ হয়। কিছুদিন পর পর হয়ে থাকে। পায়ুপথে বা আশেপাশে ফোঁড়া হলে সেখান থেকে Fistula রোগ হয়।Carbuncle (বিষফোঁড়া): এটি খুবই যন্ত্রণা দায়ক একপ্রকারের ফোঁড়া। কিছুদিন পর পর হয়ে থাকে।Chickenpox: এটি লাল ছোট ছোট ফুস্কুড়ির মতো সারা শরীরে বিস্তার লাভ করে। রোগের তীব্রতার ফলে প্রচন্ড জ্বর হয়। সাধারণত গ্রীষ্মকালে এ রোগ হয়ে থাকে।
Pimple: এটি সাদা বা লাল বর্ণের হয়। পানি বা পুঁজপূর্ণ, চুলকানি থাকে বা নাও থাকতে পারে।Dermatitis/Skin Rash: ত্বকের রং গোলাপী বা লাল, চুলকানিসহ শুষ্ক টাইপের ফোস্কা।Urticaria: সাধারণত কোনো প্রাণি, পশু-পাখি ও পোকা-মাকড়ের জীবাণুর সংস্পর্শে এধরণের রোগ হয়। ত্বক গরম ও লাল হয়। দলা বা চাকার মতো হয়ে ফোলে যায়, প্রচন্ড চুলকায় ও যন্ত্রণা করে।STD: এটি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। দুষিত যৌন সঙ্গমের ফলে এরোগ একদেহ থেকে অন্যদেহে ছড়ায়। যৌনাঙ্গে আঁচিল (Condylomata), একজিমা, ফুস্কুড়ি বা ফোঁড়া হয়। কোমরে, তলপেটে, রানের গোড়ায়, যৌনাঙ্গে ও পায়ূপথের আশেপাশে এবং নিতম্বে বিস্তার লাভ করে। চুলকায়, প্রচন্ড ব্যথা করে, ক্ষত (Syphilis) হয়, রক্ত বের হয়। অপচিকিৎসায় এধরণের রোগ চাপা দেয়া হলে বংশ পরম্পরায় কয়েক প্রজন্ম পর্যন্ত চলতে পারে।
Cracked Skin: এতে শরীরের চামড়া, হাতের বা পায়ের তলা, গোড়ালী ফেটে যায় এবং তা খুব গভীর হয়ে থাকে। চুলকায়, ধারগুলি শক্ত হয়, পানি অথবা রক্ত বের হয়।
Seasonal Skin Diseases: ঋতু পরিবর্তনের ফলে অনেকের চর্মরোগের তারতম্য হয়। কারো শীতে বা গ্রীষ্মে, আবার কারো বর্ষায় চর্মরোগ বাড়ে।
Nail Skin Fungus: নখের নীচের চামড়া কালো হয়ে যায়। সাধারণত যেসকল পুরুষ-মহিলা আর্সেনিকযুক্ত পানিতে কাজ করে তাদের ক্ষেত্রে এরোগ হয়।
Fungal Infection: দীর্ঘদিন চর্মরোগের ক্ষত না শুকালে সে স্থানটি সংক্রমিত হয়ে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়। এক পর্যায়ে Gangrene (পচন) হয়ে ত্বকের লেয়ার নষ্ট হয়ে যেতে পারে।Vaccination Ailments: রোগের প্রতিষেধক অথবা মহামারী প্রতিরোধকল্পে যে সকল টিকা দেওয়া হয় এর কুফলে নানা ধরণের চর্মরোগ হয়ে থাকে।
Suppressed of Skin Diseases: চর্মরোগে বাহ্যিক Ointment প্রয়োগ করা হলে, ভূল চিকিৎসা হলে অথবা অপচিকিৎসার মাধ্যমে চর্মরোগ চাপা দেয়া হলে এর ভাবীফল খুবই মারাত্নক হয়। যার কুফলে Asthma (শ্বাসকষ্ট) অথবা Paralyzed (অঙ্গহানি) হতে পারে।
♨️ মডার্ণ অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা
প্রাথমিকভাবে চর্মরোগে ক্রিম, মলম, লোশন বা অ্যান্টিবায়োটিক ইত্যাদির মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। এতে চর্মরোগ লুকিয়ে যায়, রোগী সাময়িক সুস্থতা বোধ করে। তবে রোগটি চাপা (Suppressed) পড়ে কিছুদিন পর পুনরায় ফিরে আসে। এক পর্যায়ে এসব Ointment বা ঔষধে আর কাজ দেয় না। এমনকি রোগী দিশেহারা হয়ে সুস্থতার আশা পরিত্যাগ করে।

🌿 ন্যাচারাল হোমিও চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথি কোনো ক্যানভাসারের বিক্রয়ের প্রোডাক্ট নয়। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক স্বীকৃত নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থা। হোমিও ঔষধ তৈরি হয় ১০০% ন্যাচারাল উপাদান হতে এবং পরীক্ষা করা হয় একজন সুস্থ মানুষের শরীরে। এই ঔষধ সরাসরি রোগের উপর কাজ করে না। এটি মানুষের শরীরকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায় তখন শরীর নিজ থেকেই রোগটাকে সারিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। এটিই সুস্থ হওয়ার ন্যাচারাল প্রক্রিয়া। তাই তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য সহকারে হোমিও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়।

বিজ্ঞাপন

🌐 কনস্টিটিউশনাল চিকিৎসা ?
কনস্টিটিউশন হচ্ছে শরীরের বায়োলজিক্যাল, ফিজিক্যাল, এনাটমিক্যাল, প্যাথলজিক্যাল, বংশীয় ও পরিবেশগত অবস্থা। প্রত্যেক মানুষের কনস্টিটিউশন আলাদা হয়। ডাক্তারগণ কমপক্ষে ১-২ ঘন্টা সময় নিয়ে রোগীর সার্বদৈহিক বিবরণ এনালাইসিস করে রোগীর কনস্টিটিউশন নির্ধারণ করেন। একজন অভিজ্ঞ ও রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একমাত্র অরজিনাল মেডিসিনের সাহায্যে চিকিৎসা প্রদান করা হলে নিঃসন্দেহে রোগ শিকড় থেকে নির্মূল হয়। এসকল প্রক্রিয়া পরিপূর্ণ অনুসরণ না করে এক-এক করে বাজারের সব মেডিসিন গ্রহণ করলেও মূল থেকে রোগ ভালো হয় না।

জনস্বার্থে কিছু কথা 💯
আমাদের দেশে চিকিৎসা বলতে অ্যালোপ্যাথিকে বুঝায়। অজস্র মানুষের রুটি-রুজি এ চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। যার কারণে বছরের পর বছর ঔষধ খেয়ে সুস্থ হতে না পারলেও অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার ব্যর্থতা নিয়ে তেমন কেহ মাতামাতি করে না।
অপরদিকে হোমিওপ্যাথির মূল চিকিৎসা না নিয়ে মানুষ রাস্তা-ঘাটের ফার্মেসী থেকে ঔষধ খেয়ে ভালো হতে চায়। যার ফলে উপকার পায় না, তখন চিৎকার চেঁচামেচি করে বেড়ায়। এসব কোনোভাবেই কম্য নয়। এটি যদি খেল-তামাশার বিষয় হতো, দীর্ঘ দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে হোমিও চিকিৎসা স্বগৌরবে টিকে থাকতে পারতো না।
———————————————
ডা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত