ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে নতুন সমীকরণ দেখা দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যু আর জেলার সবচেয়ে আশা জাগানো আসনে এবি পার্টিকে জামায়াতের ছাড় দেয়া নিয়ে ভোটের মাঠে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এর আগে যাচাই-বাছাইয়ে সব আসনে বিএনপি’র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় দলের সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জেলায় নির্বাচনী পালে হাওয়া লেগেছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হলেও প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা ঘরে ঘরে পৌঁচাচ্ছেন। তারা নিজের প্রার্থীর পক্ষে যোগ্যতা তুলে ধরে ভোট কামনা করেন। প্রার্থীরাও নানান উছিলায় ভোটারদের কাছে ছুটছেন। দুইটি আসনে বিএনপি’র মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ও একটিতে এবি পার্টি। খালেদা জিয়ার ফেনী-১ (পরশুরাম- ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলা) আসনে বিএনপি’র প্রার্থী দলের ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এসএম কামাল উদ্দিন। আসনটিতে মনোনয়ন দাখিল করেন ১০ জন। এর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল ও সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে এ আসনে বৈধ প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি’র রফিকুল আলম মজনুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এসএম কামাল উদ্দিন। খালেদা জিয়ার পৈতৃক বাড়ি হওয়ায় আসনটি বিএনপি’র পারিবারিক হিসেবে গণ্য করা হয়। এ আসনে দল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি’র ঘরে উঠছে। মাঝে একবার জাতীয় পার্টির লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বীরবিক্রম নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ২০১৪ ও ২০১৮ এর নির্বাচনে দুইবার আওয়ামী লীগ জোটের জাসদ থেকে শিরীন আক্তার ও ২০২৪ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আলাউদ্দিন আহম্মেদ নাসিম এমপি হন। ত্রয়োদশ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এমন প্রত্যাশা জানিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন হারানো আসন ঘরে উঠবে এবার। আর ভোটাররা বলছেন বিএনপি’র দুর্গে ধানের শীষের সঙ্গে লড়াই হবে দাঁড়িপাল্লার। আসনটিতে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন মজনু। দলের চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে কপাল খুলে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপি’র এ আহ্বায়ক। মজনুকে নিয়ে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিরোধ দীর্ঘদিনের। সে সুযোগ কাজে লাগাতে অনেক কৌশল খাটাচ্ছে জামায়াত। এছাড়া আসনটিতে আরও পাঁচ প্রার্থী হলেন- জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কাজী গোলাম কিবরিয়া, গণমুক্তি জোটের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে আনোয়ার উল্ল্যাহ ভূঞা।ফেনী-২ (ফেনী সদর উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা) আসনে বিএনপি’র প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবদিনের প্রতিপক্ষ প্রথমবারের মতো নির্বাচনে আসা এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা জোটের কারণে মঞ্জুকে আসনটি ছেড়ে দেন। অথচ এ আসন নিয়েই জামায়াতের সব পরিকল্পনা ছিল দীর্ঘ বছরের। আসনটিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবদিন তিনবারের সাবেক নির্বাচিত সংসদ সদস্য। দলের মধ্য বিভিন্ন গ্রুপ সক্রিয় থাকলেও সব মতভেদ ভুলে এখন সবাই ভিপি জয়নালের পক্ষে রয়েছে। ফেনী জেলা বিএনপি কারানির্যাতিত নেতা ফেনী জেলা বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক এর বিশাল কর্মী সমর্থক রয়েছে। এই আসেন ভিপি জয়নাল পাল্লা ভারী জনগণ মনে করছে। আওয়ামিলীগ জয়নাল হাজারী সমর্থকেরা ভিপি জয়নাল পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জয়নাল হাজারী বন্ধু হিসাবে তার প্রতি গত সরকারের মামলে কোনঠাসা সবেক ছাতনেতারা প্রকাশে না এলেও ভোট দিন বিএনপিকে নয় ব্যাক্তি ভিপি জয়নাল কে ভোট দিবে বলে অনেকে বলেছে। জামায়াতে প্রার্থী না থাকাতে বাড়তি সুবিধা পাবেন ভিপি জয়নাল। মঞ্জু অপেক্ষাকৃত নতুন মুখ হওয়া তার তেমন জনসমর্থন নেই। তবে জামায়াতে সবাই এক হয়ে কাজ করলে ভোটের মাঠে কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন। ফেনী ৩ আসেন আবদুল আউয়াল মিন্টু জনকল্যাণমুখী কাজ করার কারনে এমনিতে জনপ্রিয় জেলা বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক ও জেলা ছাতদলের তার অনুসারীরা আছে, আবদুল আউয়াল মিন্টু শক্তিশালী প্রার্থী তার জামায়াতে ইসলামী ভোট ব্যাংক আছে তা দিয়ে কতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারবে সেটা এখন দেখার বিষয়। ফেনী ১ আসন সব সময় বিএনপি ছিলো।একবার জাতীয় পার্টির লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বীরবিক্রম নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ২০১৪ ও ২০১৮ এর নির্বাচনে দুইবার আওয়ামী লীগ জোটের জাসদ থেকে শিরীন আক্তার ও ২০২৪ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আলাউদ্দিন আহম্মেদ নাসিম এমপি হন। ত্রয়োদশ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এমন প্রত্যাশা জানিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন হারানো আসন ঘরে উঠবে এবার। আর ভোটাররা বলছেন বিএনপি’র দুর্গে ধানের শীষের সঙ্গে লড়াই হবে দাঁড়িপাল্লার। আসনটিতে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন মজনু। দলের চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে কপাল খুলে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপি’র এ আহ্বায়ক। মজনুকে নিয়ে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিরোধ দীর্ঘদিনের। সে সুযোগ কাজে লাগাতে অনেক কৌশল খাটাচ্ছে জামায়াত সেই কৌশল কতটা কার্যকর হয় তা বলা যাচ্ছে না। তবে মজনু সাথে ভিপি জয়নাল এর সম্পর্কে কারনে কিছুই সুবিধাজনক অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। যদি বিএনপি মজনু গ্রুপিং কারনে যদি ভিন্ন কিছু ঘটতে পারে। ছাগলনাইয়া উপজেলা প্রধান ফেক্টর হয়ে উঠবে। মজনুর বিরুদ্ধে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সম্পর্ক ছাগলনাইয়া উপজেলার ভোটর দের দোটানায় পেলেছে, এই ইসুটি কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন।

