লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তারিখ ঃ ০৭.০৪.২০২৪
আপনি এ দুনিয়ায় পাপপুণ্য ন্যায় অন্যায় সৃষ্টি কর্তার এবাদত মানুষের উপর অন্যায় অত্যাচার জুলুম নির্যাতন
অপমান অপদস্ত ওয়াদা ভঙ্গ মিথ্যা কথা দম্ভ অহং যা করবেন সব কিছু আপনার প্রতি উল্টো ফিরে আসবে আজ অথবা কাল! আপনি ধার্মিক বিবেক বান মানবতা মনুষ্যত্ব সম্পন্ন মানুষ হলে বুঝবেন অথবা জাহেল হলে আল্লাহ/ভগবান/ঈশ্বরের এই আঘাত কি এ্যাকশন হলো জীবনেও বুঝবেন না!
প্রিয় পাঠক, এইটা হচ্ছে নিউটনের তৃতীয় সূত্র। আপনি নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত পূজাঅর্চনা সত্যবাদী কৃতজ্ঞতা পরোপাকারী হলে আপনার মুখে “ধার” হবে! আপনার আবেদন নিবেদন মোনাজাত আল্লাহ ভগবান ঈশ্বর মেনে নিবেন এবং আপনার অন্যায় কেউ করলে সে আপনার অভিশাপ থেকে রেহাই পাবে না কারন আপনি সৃষ্টি কর্তার পছন্দের একজন মানুষ, আপনার পরিধানে কোট টাই ধূতি পাঞ্জাবি দাড়ি-টুপি লম্বা জামা কিনা তার থেকে বড় আপনার মন আল্লাহ কে উৎসর্গঃ কৃত কিনা? তার ভয় মনে পোষন করেন কিনা, তিনি ভন্ড প্রতারক পছন্দ করেন না! তাইতো আপনি নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে বা ভগবানের পূজা দিয়ে মন্দির থেকে বের হয়ে কোন একটা অসুস্থ বাচ্চার গায়ে হাত দিলে তার কোন উপকার হয় না কারন আপনার নামাজ পূজা ছিলো লোক দেখানো প্রতারনা যা কোন পূণ্য আয় করে আনে নাই! আফসোস এমন লোক দেখানো এবাদত ৯৯% মানুষের!
একদা আমার এলাকায় একজন মাওলানা ছিলেন, তিনি ও এখন বাংলাদেশের ৭৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা থেকো বের হয় প্রতি বছর ১২ লক্ষ শিক্ষিত সো কল্ড আলেমদের একজন। তিনি সো কল্ড ছিলেন না। কামেল মাওলানা ছিলেন। তিনি রোজ ভোর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত শত-শত মানুষের সেবা দিতেন। একসাথে ২০০ বোতল জল ২০০ বোতল তেলে ফু দিতেন শতগজ দূরে বসে, বিশ্বাস করেন, একজন ডাক্তার যে রাগী সুস্থ করতে পারেন নাই, হয়তো এই তেল জল গায়ে লাগিয়ে, পান করে সুস্থ হয়ে যেতেন। এখনকার একজন স্পেশালিষ্ট ডাক্তার থেকে তার রোজগার আয় অনেক বেশী ছিলো যা তিনি চেয়ে নিতন না এবং নিজেও নিতেন না! সুস্হ হওয়া রোগী ও ছিলো স্পেশালিষ্ট ডাক্তার থেকে বেশী। তিনি শুধু অশিক্ষিত মানুষ ও ছাত্রদের পটাতেন গল্প করে, মানুষ হওয়ার গল্প, মেয়ে টাকে স্কুলে দিও, ছেলে টাকে পড়া বন্ধ করলে কেন, ফি আমার কাছ থেকে নিয়ে যেও, খালি গরু কচ্ছপ খেয়ো না শাকসবজি দুধ মাছ খেও, কবরের আজাব আর বেহেশতের হুর গল্প শুনি নি তার মুখে।
ছেলে কোথায় পড়ে, অফিসার, ঘুষ খেতে না করিও, মানুষের উপকার করতে বলিও, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়ার দরকার কিন্তু কিভাবে করবে, জমির ফসল তো তেমন হচ্ছে না।
এখানকার সদস্য রা দু’একজন নাম শুনে থাকতে পারেন তাই বলা, “বড় গুনি গ্রামের মাওলানা সাহেব, মধুমতীর ঐ পারে আর এক কামেল মাওলানা শামসুল হক ও তার মাইল দূরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ী।
একজন শ্মশানঘাটের সাধুর ও নাকি এমন শক্তি ছিলো! তিনি ও ছিলেন সব রোগের ঔষধ! দধীচি মুনি হতে পারলে অর্থাৎ নিজেকে সম্পূর্ণ সারেন্ডার্ড করা ব্যক্তি মানুষ থাকেন না, ঈশ্বর তার মাথায় হাত রাখেন!
প্রিয় পাঠক, এখন তো হাজার হাজার মুফতি মওলানা, কেউ হেফাজতে ইসলাম, কেউ বোম পুতে জীবন করে বলিদান, কেউ নারায়ণগঞ্জ মদের রিসোর্টে যান, কেউ ইসলাম কায়েমে লেগে যান, নিজেকে কেউ মানুষ না বানান, কেউ বিদেশি দান মিথ্যা বলে এনে খান, কেউ সৌদি দান মেরে বাংলাদেশে বাবরি মসজিদ বানান!
বলেছিলাম, ” To every action there is an equal and opposite reaction. ” ছাত্র জীবনে পড়েন নাই” তাতে কি হয়েছে, এখন মনে রাখবেন,”যে ন্যায় অন্যায় আপনি করছেন, তা সব, সম ভাবে ফেরত এসে আপনাকে আঘাত করবে একদিন, হোক আজ হোক কাল!
মন্দিরের পিছে ফেনসিডিল খাওয়ার জায়গা না। কোন উপসনালয় ভাঙা যায় না, সংখ্যা লঘূ হক সে কোটিতে একজন, তার ধর্মবিশ্বাসে তাকে থাকতে দাও! তার উপোসনালয় পদদলিত কর না! তাকে ও ন্যায্য হিস্যা দাও। ভগবান/আল্লাহ তো তার অক্সিজেন বন্ধ করেন না, তুমি কেন? “মুসলমানের দুই কোটি চল্লিশ লক্ষ পয়গম্বর কি পূর্ণ হয় যীশু বৌদ্ধ শ্রীকৃষ্ণ গুরু নানক কে বাদ দিলে, বলেছিলেন একজন বাংলা শিক্ষক “লোকমান মিয়া” মালী খালি উচ্চ বিদ্যালয়? তিনি এও বলেছিলেন, এত মহাজ্ঞানী জন পৃথিবীতে কত আর এসেছেন?
মুসলমান আছে ইসলাম নাই কথাটা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ইসলামি স্টাডিস অধ্যাপক ও বিশ্ব ইসলামি লেকচারার “চৌধুরী সাহেব”



