বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬

ফেনীতে বিদ্যুতের খুঁটিমাথার ওপর ঝুলন্ত তারের জঞ্জালের বেড়েছে দুর্ভোগও

আপডেট:

বিদ্যুতের খুঁটি ব্যবহার করে বছরের পর বছর ব্যবসা করছেন ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা। ইন্টারনেট সংযোগের কল্যাণে গ্রাহকের তথ্য আদান-প্রদানের বড় সুবিধার পাশাপাশি মাথার ওপর ঝুলন্ত তারের জঞ্জালের কারণে বেড়েছে দুর্ভোগও। বিশেষ করে এসব তার এমনভাবে টানা হচ্ছে, যা বরিশাল নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। অপরদিকে, এসব তারের জঞ্জালের কারণে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার থেকে শুরু করে তারে আগুন লেগে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। এ জন্য ইন্টারনেট, সিসি ক্যামেরা এবং ক্যাবল টিভির (ডিশ লাইন) তার টানতে বিদ্যুতের খুঁটি ছেড়ে পৃথক ব্যবস্থার দাবি উঠেছে, যাতে নিরবচ্ছিন্ন সুবিধার পাশাপাশি দুর্ঘটনামুক্ত থাকতে পারেন নগরবাসী।ফেনী নগরীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অর্ধশতাধিক ইন্টারনেট কোম্পানির তার। বেশিরভাগ কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে রাজধানী ঢাকা থেকে। নগরীতে এসব কোম্পানির হাজার হাজার গ্রাহক রয়েছে। সর্বোচ্চ ৮শ’ টাকা থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন পাঁচশ’ টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাড়া গুনতে হচ্ছে গ্রাহককে। এ ক্ষেত্রে অগ্রিম টাকা দিয়েই গ্রাহক সেবা পাচ্ছে। মাসিক টাকা দিতে একদিন দেরি হলে সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এমনকি লাইন টানা তার থেকে শুরু করে সংযোগের জন্য ব্যবহৃত বক্সের দামও গ্রাহককে পরিশোধ করতে হয়। এর সঙ্গে রয়েছে লাইন টেনে দেওয়া কর্মচারীদের বকশিশও।ইন্টারনেট পরিষেবায় কর্মরত মো. ইমরানসহ একাধিক কর্মকর্তা বলেন, তারে জড়িয়ে আছে তাদের পরিবারের তিনবেলা খাবার এবং সব খরচ। এ কাজ করে ভালো বেতন পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়তে হয় না। যারা যত অভিজ্ঞ তাদের বেতন তত ভালো। এ কারণে কাজ শেখার পর বিভিন্ন কোম্পানিতে অল্প বেতনে চাকরি নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে ভালো বেতনের অফার পেলে চলে যান। বর্তমানে ৩২টি কোম্পানির অধীনে পাঁচ শতাধিক লোক কাজ করছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবেদন না করার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
ইন্টারনেট লাইন পরিচালনাকারী মো. মঞ্জু ও আসলাম খানসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, গ্রাহকের ডাটা প্যাকেজ অনুযায়ী সরকারকে ভ্যাট দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন গ্রাহকপ্রতি ২৫ টাকা থেকে একশ’ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট গুনতে হয়। এছাড়া অফিস এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে কর্মচারী রাখতে হয়। প্রতিযোগিতার বাজারে কোনও সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করা হয়। তা না হলে গ্রাহক হারানোর সম্ভাবনা থাকে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার শুধু ইন্টারনেটের তার নয়, ব্যক্তি থেকে শুরু কর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা এবং ডিশ লাইনের ক্যাবল বৈদ্যুতিক খুঁটিতে টানার কারণে বিদ্যুৎসেবা প্রদানে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এদের কারণে বৈদ্যুতিক তারে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। বিদ্যুতের খুঁটি বাদ দিয়ে অন্যভাবে তার টানার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।১ নভেম্বর ভোরে একটি কাভার্ডভ্যান নগরীর গির্জা মহল্লা মোড়ের লাইটপোস্টে ধাক্কা দেয়। এতে লাইটপোস্টটি ভেঙে শর্টসার্কিট হয়ে আগুনের ফুলকি দেখা দেয়। একপর্যায়ে ইন্টারনেট তারের জঞ্জালের ওপর পড়ে আগুন লেগে যায়। বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎসেবা। অনেক সময় নিয়ে পরে এ সমস্যা সমাধান করা হয়। এখন বেশি সমস্যায় পড়তে হয় ইন্টারনেট তারের কারণে। বিদ্যুতের খুঁটিতে ইন্টারনেট ক্যাবল না থাকলে সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যায় বলে জানান ওজোপাডিকোর প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত