ইউরোপের দেশ ইতালিতে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অসুস্থ হয়ে সুমন মিয়া (৪৫) নামে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। লিবিয়ায় থাকা নিহতের আত্মীয় সানীর মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করেন নিহতের চাচাতো বোন শিল্পী বেগম। নিহত যুবক পৌর শহরের জগন্নাথপুর লক্ষ্মীপুর এলাকার মাহমুদ হোসেনের ছেলে।
সূত্রমতে, ৪ মাস আগে ইতালি যেতে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাড়ি জমান সুমন। সুমন ছাড়াও তার বোনজামাই মনিরুল ও রুমান মিয়া নামের এক প্রতিবেশীও রয়েছেন লিবিয়াতে। ২৪শে জানুয়ারি ২৫ জন যাত্রী নিয়ে লিবিয়ার ভূমধ্যসাগর থেকে একটি বোট ইতালির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। যাত্রাপথে মাল্টা পৌঁছামাত্র বোটে সমস্যা দেখা দিলে সবাই বোট থেকে নেমে গেলেও সুমনকে মৃত অবস্থায় পায় অন্যরা।এ বিষয়ে নিহতের বোন শিল্পী বেগম জানান, সুমন বাড়িতে একটি রাইসমিল চালাতো। তার ২ বছরের জমজ ছেলে-মেয়ে ও ১০ বছরের আরেকটি ছেলে রয়েছে। ধারদেনা করে ১৮ লাখ টাকা খরচ করে ইতালি যেতেই লিবিয়া থেকে ডাঙ্গি দিয়েছিল। প্রথমে দালাল পক্ষের লোকজন আমাদের বলে সবাই ইতালি পৌঁছে গেছে। ৪ দিন আগে শুনতে পাই আমার ভাইসহ সবাই অসুস্থ ছিল। পরে সুমনসহ দুইজন মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা চাই সরকারের সহযোগিতায় যেন আমার ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরে আসে।এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী পলি বেগম বলেন, শম্ভুপুর শান্তিপাড়া এলাকার সুইটি নামের দালালের মাধ্যমে আমার স্বামী লিবিয়া যায়। কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করছে না। ২৩শে জানুয়ারি আমার সঙ্গে শেষ কথা হয় সুমনের। সে বলেছিল ইতালি পৌঁছে ফোন দিবে। কিন্তু চারদিন আগে মৃত্যুর খবর পেলেও ২৯শে জানুয়ারি রাতে নিশ্চিত হই তার মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর মরদেহ দেশে আনা ছাড়া আমি আর কিছু চাই না। আমার শিশু সন্তানরা যেন শেষবারের মতো তাদের বাবার মুখ দেখতে পায়।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে যারা অবৈধ পথে মৃত্যুবরণ করে তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে সহযোগিতা করে থাকে প্রশাসন। এদিকে দালালদের শাস্তির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবগত করা হয়। মরদেহ ফিরে পেতে নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
ইতালিতে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অসুস্থ হয়ে বাংলাদেশী মৃত্যু
আপডেট:

