ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার নীতিবহির্ভুত এডহক কমিটি গঠন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
কখনো ভাল মানের খেলোয়াড় ছিলাম এটা দাবি করিনা।চেস্টা করেছি,তবে খেলোয়াড়ের চাইতে সংগঠক হিসেবে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেছি বেশি। সেই ৯০ সাল থেকে খেলাধুলার সাথে জড়িত থেকে কিশোর সংসদ,কিশলয় সংসদ,সিন্দাবাদ সংসদ,রামপুর স্পোর্টিং ক্লাব পরিশেষে ১৯৯৩ সাল থেকে ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ১ম বিভাগ ক্রিকেট লীগে সর্বোচ্চ শিরোপাধারীদের অন্যতম টিম ফেনীর ঐতিহ্যবাহী রামপুরের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবের সাথে জড়িত হযে দীর্ঘ এ পথচলা।সুদীর্ঘ এ সময়ের মধ্যে ২০০০ সাল থেকে সভাপতির পদ পরিবর্তন হলেও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। এবং এ সময়ের মধ্যে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সকল ক্রিকেট লীগে অংশগ্রহন এবং ৪ বার চ্যাম্পিয়নের পাশাপাশি বিজয দিবস টি টোযেন্টি শিরোপা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাব ঘরে তুলতে সক্ষম হয়।ম্যানচেস্টারের পাশাপাশি ১ম বিভাগ ক্রিকেট লীগের ১০ টি টিমের মধ্যে আরেকটি অন্যতম টিম মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছি।মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লবও এ সমযের মধ্যে ১ম বিভাগ ক্রিকেট লীগে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্স আপ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে।এছাড়াও ২০১১ সালে বর্তমান- সাবেক খেলোয়াড়,ক্লাব কর্মকর্তা,আম্পায়ার কোচ,স্কোরারদের সমন্বযে গঠিত ‘ক্রিকেট এসোসিয়েশন অব ফেনী’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সাথে জড়িত থাকি এবং ৪ বছর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দাযিত্ব পালন করি।দীর্ঘ এ সময়ের মধ্যে কখনও ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোন কমিটিতে যাইনি বা চেস্টাও করিনি।সব সময় নিজেদের সংগঠনের কাজ এবং দাযিত্ব পালন করেছি।নিদিস্ট একটি এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কারণে বিগত সমযে কমিটিতে স্থান পাওয়াও দূরুহ ছিল। বলাবাহুল্য ব্যাক্তিগত এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে গত প্রায ৯ বছর ক্রীড়াঙ্গন থেকে দূরেই ছিলাম।তবে মাঠে না গেলেও নিয়মিত খোঁজখবর রাখতাম।
যেহেতু আমি ক্রীড়ার সাথে সম্পৃক্ত তাই এ প্রসঙ্গে আমার মতামত থাকাটা খুবই স্বাভাবিক।এদেশের প্রেক্ষাপটে সবকিছুই রাজনীতিকরন হয়,এগুলো পুরোনো সংস্কৃতি। বাস্তবতার নিরিখে এর বাহিরে যাবার সুযোগ হয়না।৫ আগস্ট পরবর্তীতে যা দেখলাম এখনও হচ্ছেনা। এ বাস্তবতা আমরা বুঝি। যারা যেখানে সুযোগ পায়,তারা সেখানেই নিজেদের মতো করে সব জায়েয করে নেয়। কিন্তু সব জায়গায় সব করতে নেই, নূন্যতম প্রক্রিয়া মেনেই কিছু কার্যক্রম করতে হয়। ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির গঠনের ক্ষেত্রে নুন্যতম সে প্রক্রিয়া মানা হয়নি বলেই বিষয়টি শুরুতেই বিতর্কিত হয়ে গেছে।
আজ সারাদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি এডহক কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অনুমোদন দিয়েছে। ক্রীড়ার সাথে সম্পৃক্ত খেলোয়াড়, সংগঠক ও সাধারণ ক্রীড়া অনুরাগীদের সবাই “নীতিবহির্ভূতভাবে গঠিত এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে,কেননা কেউই এদের চেনেনা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে এটি হয়নি। সবার মতো আমিও উনাদেরকে চিনিনা। উনারা নিজেরাও হয়তো জানেনা যে এ কমিটিতে থাকতে হলে কিছু ক্রাইটেরিয়া উনাদের পূরন করা লাগবে,যা উনাদের নেই।
বিগত সরকারের সময়েও ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি একক ভাবে সিলেকশন হয়েছিলো। সেখানেও রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকে সুযোগ পেয়েছিলো এবং যোগ্য অনেকেই সুযোগ পায়নি। সে প্রেক্ষাপটে গত ৫ই আগষ্টের পর সারা দেশের বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গুলো বাতিল করে নতুন করে এডহক কমিটি করার প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সে প্রজ্ঞাপনে জেলা ক্রীড়া সংস্থায় আহবায়ক হিসেবে জেলা প্রশাসক ও সদস্য সচিব হিসেবে জেলা ক্রীড়া অফিসারের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়াতে আরও ৫ জন সদস্যের নাম পাঠানোর স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয় জেলা প্রশাসককে। এরমধ্যে সরাসরি ক্রীড়া সম্পৃক্ত ব্যক্তি (খেলোয়াড়,কোচ,রেফারি প্রমুখ) থেকে ২ জন, ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সর্বজন সম্মানিত ব্যক্তি ১ জন, ক্রীড়া সম্পৃক্ত ছাত্র প্রতিনিধি ১ জন,ক্রীড়া সাংবাদিক ১ জন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চাওয়া অনুযায়ী সরাসরি ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট (প্রাক্তন ক্রিকেটার,কোচ,আম্প্যায়ার) আরও ২ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়৷
সে ভিত্তিতে ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী জেলার ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে আলোচনার ভিত্তিতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ৯ জনের একটি প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসক অনুমোদনের জন্য ক্রীড়া পরিষদে পাঠান,যা অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলো।
কিন্তু হুট করে কে বা কারা, সরাসরি ক্রীড়া পরিষদ থেকে প্রভাব খাটিয়ে একটি বিতর্কিত অগ্রহণযোগ্য কমিটি অনুমোদন করে নেন, যেটি ক্রীড়া পরিষদের জারি হওয়া প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী করা হয়নি। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জেলা এবং উপজেলার প্রস্তাবিত কমিটি জেলা প্রশাসক অনুমোদন দিয়ে ক্রীড়া পরিষদে পাঠানোর বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে প্রজ্ঞাপনে। এবং যাদের নাম পাঠাবে তাদের অবশ্যই জেলা পর্যায়ের ক্রীড়ার সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। সে হিসেবে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়াতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে একটি কমিটি জেলা প্রশাসক অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেটি উপেক্ষা করে এবং প্রজ্ঞাপনের ক্রাইটেরিয়াকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ক্রীড়ার সাথে নুন্যতম সংশ্লিষ্টতা নেই এমন কতিপয ব্যাক্তিদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে এডহক কমিটি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। যা ইতিমধ্যে ফেনীর সকল খেলোয়াড়, সংগঠক ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। যেহেতু অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে জেলা প্রশাসকএকটি কমিটি পাঠিয়েছেন তাতে কোন প্রকার আপত্তি থাকলে আলোচনা করে সংযোজন বিয়োজন করা যেত।
জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে রেড ক্রিসেন্ট, ডায়াবেটিস, হার্ট ফাউন্ডেশন অথবা অন্যান্য সংস্থার মতো বিবেচনার সুযোগ নেই। এটি একেবারে সুনির্দিষ্ট ক্রীড়া সংগঠকদের প্রতিষ্ঠান। এখানে চাইলেই ইচ্ছামত কাউকে বসিয়ে দেয়া যাবেনা। কেউ একজনকে ধরে এনে বলে দিবেন উনি ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট, এটার সুযোগ নেই। এবং ক্রীড়া পরিষদ তাদের দেয়া প্রজ্ঞাপনেই সেগুলো স্পষ্ট ভাবেই নিশ্চিত করেছে। তাই চাইলেও সেসব ক্রাইটেরিয়া বাদ দিয়ে মন মতো,নিজেদের পছন্দের লোককে দিয়ে কোন অপ্রাসঙ্গিক কমিটি করার সুযোগ নেই এবং এটি ফেনীর ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মেনে নিবেনা।
দ্রুত এ কমিটি বাতিল করে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রকৃত ক্রীড়া সংগঠকদের ন সমন্বয়ে ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠন করা হোক।
আবুল কাশেম
সাবেক সাধারণ সম্পাদক
‘ক্রিকেট এসোসিয়েশন অব ফেনী’।
সাধারণ সম্পাদক
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাব,রামপুর,ফেনী।
সংগঠক
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ফেনী।



