মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬

লিবিয়া সক্রিয় বাংলাদেশর মানব পাচারকারী ইতালি নেওয়া কথা বলে ৫০ যুবকের খোঁজ নেই

আপডেট:

ভুক্তভোগী সূত্র মতে দালাল চক্রের সদস্যরা প্রথমে ইতালিত।উন্নত জীবনযাপনের লোভ দেখায়। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিয়ে আগ্রহী যুবকদের লিবিয়ায় পাঠিয়ে তুলে দেয়া হয় সংঘবদ্ধ মাফিয়াদের হাতে। এরপর তাদের নির্যাতনের ভিডিও পরিবারকে দেখিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এমনকি পরিবার মুক্তিপণ দিতে রাজি না হলে অনেককে দিতে হয় জীবন। মাদারীপুরে অর্ধশতাধিক যুবককে ইতালি নেয়ার কথা বলে লিবিয়ার নিয়ে মাফিয়াদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে দালাল আবুল কালাম মুন্সির বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলেও জামিন নিয়ে তিনি রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দক্ষিণ চরকামারকান্দির মাসুম মোল্লা। এক বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় ১৪ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার চুক্তি হয় দালাল আবুল কালাম মুন্সির সঙ্গে। লিবিয়ায় নিয়ে বিক্রি করে দেয় মাফিয়ার কাছে। পরে আরও ২০ লাখ টাকার জন্য মুখে গামছা বেঁধে চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তাও জানে না পরিবারের লোকজন। একই গ্রামের সোহেল আহমেদ প্রায় ১৪ মাস আগে ইতালি যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়েন। টাকার জন্য তাকেও করা হয়েছে অমানবিক নির্যাতন। সোহেলকে জীবিত উদ্ধারের জন্য দালাল চক্রকে দিয়েছেন ৫১ লাখ টাকা। এদিকে, সোহাগ মোল্লা একই দালালের কাছে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হতে দিতে হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা। কিন্তু তারও কোনো সন্ধান নেই। শুধু মাসুম মুন্সি, সোহেল আহমেদ আর সোহাগ মোল্লা নয়। অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সময় লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে জিম্মি মাদারীপুরের চরকামারকান্দির এলাকার অর্ধশত যুবক।এ ঘটনায় দালাল আবুল কালাম মুন্সির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা বিএম রাসেল বলেন, আমাদের একই গ্রামের কমপক্ষে ৫০ জন আবুল কালামের কাছে টাকা দিয়েছিল ইতালি যাওয়ার জন্য। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে জন প্রতি ৪০-৫০ লাখ করে টাকা নিয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের সঙ্গেই পরিবারের যোগাযোগ নেই। বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তাও জানে না পরিবারের লোকজন। এই দালালের প্রলোভনে পড়ে ভিটেমাটি হারাচ্ছে অনেকেই। নির্যাতন করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা দিয়েও মিলছে না মুক্তি, নিখোঁজ মাসুম মুন্সীর বাবা আব্দুল রহিম মুন্সি বলেন, আমার ছেলেকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়াদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে আবুল কালাম মুন্সি। আমার ভিটামাটি যা ছিল সব বিক্রি করে এদের ৫১ লাখ টাকা দিয়েছি। আমার ছেলে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তাও জানি না। আমরা এর বিচার চাই।নিখোঁজ সোহেল আহমেদের ভাই বিএম রুবেল বলেন, আমরা দালাল আবু কালামের বিচার এবং আমার ভাইদের সন্ধান চাই। সে আমাদের টাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করে। শিবচর শহরে এবং ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেছে। মাদারীপুরের সিনিয়র আইনজীবী আবুল হাসান সোহেল বলেন, মানব পাচার গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধ প্রমাণ করতে পারলে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত আবুল কালাম মুন্সির বাড়ি গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে।মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, মাদারীপুরে মানব পাচারের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। মানব পাচারের ঘটনার মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে জেলা পুলিশ সচেষ্ট। তবে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত