বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

ইতিহাস মুছে ফেলতে চেষ্টা কখনো সফল হয়নি

আপডেট:

আওয়ামীলীগ আমলে জিয়াউর রহমানকে পুরোপুরি অস্বীকার করার চেষঠা করা হয়েছে ।ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষঠা করা হয়েছে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক কি ঘোষক না, এই বিতর্ক টেনে তাকে রাজাকার উপাধিও দেয়া হয়েছে। জিয়া উদ্যানকে চন্দ্রিমা উদ্যান, স্বাধীনতা পদক বাতিল, সহ অনেক কিছুই করা হয়েছে,সেনা নিবাসে বাড়ীর বরাদ্দ বাতিল করে বেগম জিয়াকে অপমান অপদস্ত করা হয়েছে, অথচ দৃপ্তকন্ঠে মেজর জিয়ার সেই ঘোষনার অড়িও লাইন গুলি ও এখন আমাদের অনেকেরই মুখস্ত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের সময় জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর ছিলেন।একজন সিভিলিয়ান এর জন্য ব্যপারটা যতো সহজ ছিলো একজন মেজরের এই বিদ্রোহ কতটা ভয়াবহ সাহসের ছিলো তা একবার কল্পনা করুন! সাথে সাথেই তার কোর্ট মার্শাল হতে পারতো ফাঁসি হতে পারতো, উনি তবুও বেতারকেন্দ্রে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ উনাকেই বানাতে চেয়েছে রাজাকার কিন্তু সেটা কি পেরেছে? না পারেনি কারন চাইলেই ইতিহাস বদলানো যায় না। এখন আবার শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অস্বীকারের খেলা। তার অবদানকে অস্বীকারের খেলা। যার ডাকে জিয়াউর রহমানরা এতোটা বিদ্রোহী হতে পারেন, প্রচণ্ড সাহস নিয়ে একটা স্বাধীন দেশ আনার লড়াই করতে পারেন, তাকে অস্বীকার এর চেষ্টাও ভালো কথা না। জীবনের একটা লম্বা সময় অধিকার আদায়ে লড়াই করেছেন, জেল খেটেছেন। এদেশের মানুষের মুক্তি আর স্বাধীনতার জন্য কাজ করে গেছেন। সেই মানুষটাকে স্বাধীনতার পর তার প্রশাসনিক দূর্বলতা দিয়ে বিচার করে খারিজ করে দেওয়া হাস্যকর।জিয়াউর রহমানকে যেমন মুছে ফেলা যায়নি তেমনি চাইলেও আসলে শেখ মুজিবর রহমানকে ও মুছে ফেলা যাবেনা,৩২ নাম্বার গুডিয়ে দিয়ে, স্থাপত্য আর মুর্তি ভেঙ্গে, মুর‍্যাল ভেঙ্গে আইন বাতিল করে নাম বদলে বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না, এটাই বাস্তব।সম্প্রতি বিএনপি একটা চমৎকার কাজ করেছে। এজন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ দিতেই হবে, দলমত নির্বিশেষে সবারই এই ব্যাপারে বিএনপির সাথে একমত হওয়া উচিত।কাজটি হচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক যে সংস্কার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সেখানে বিএনপি বেশ কিছু ইস্যুতে দ্বিমত পোষণ করেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো; প্রথমত, বিএনপি সংবিধান বদলের পক্ষে না। তারা ১৯৭১ এর পাশাপাশি ২০২৪ কে সংবিধানে রাখার পক্ষপাতী না। বিএনপি খুব সুন্দর যুক্তি দেখিয়েছে, ১৯৭১ হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধ আর ২০২৪ হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান, দুইটা আলাদা জিনিস। এই দুইটা সংবিধানে পাশাপাশি থাকতে পারেনা। বাংলাদেশে একমাত্র ২০২৪ সালেই অভ্যুত্থান হয়নি আরো কয়েকবার গণ অভ্যুত্থান হয়েছিলো।দ্বিতীয়ত, বিএনপি বাংলাদেশের নাম বদলের পক্ষে না। বিএনপি চায় মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে তা বহাল থাকুক। আজকে যদি বিএনপি জাস্ট এই ইস্যুতে একমত হতো কিংবা যদি ওদের সাথে তাল মিলাতো তাহলে আগামীকাল সকালেই আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের নাম বদলে যেতো। তৃতীয়ত, বিএনপি গণপরিষদ নির্বাচনের পক্ষে না। দেশে একটি চলমান সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে। গণপরিষদ নির্বাচনের নামে ভিন্ন কিছু বিএনপি মেনে নিবে না।
আওয়ামীলীগের উচিত বিএনপি যে কাজটি করেছে তার জন্য বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো। কারন দেশের মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান এবং দেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে বিএনপি স্রোতের বিপরীতে গিয়ে যে সাহসী অবস্থান নিয়েছে তা সত্যি প্রশংসনীয়। জাস্ট একবার চিন্তা করি, যদি বিএনপি ওদের স্রোতে গা ভাসিয়ে একমত হয়ে যায় তাহলে, আগামীকাল সকালেই দেশে মুক্তিযুদ্ধ বলতে কিছু থাকবে না, দেশের নাম বদলে যাবে, দেশের সংবিধান বদলে যাবে এমনকি দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ করার অপরাধে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারও হতে পারে।এ জন্য বি এন পির কাছে মুক্তিযোদ্ধা সহ সকলের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।মুক্তিযুদ্ধ কোন দলের সম্পত্তি না, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জাতীর শ্রেষঠ সন্তান,মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামীলীগ বা বি এনপির কারো একক কোন অর্জন নয়, একক মালিকানাধীন কোন সম্পত্তি ও নয় এটা সকলের সকল মুক্তিকামী মানুষের।স্বাধীনতার এতো বছর পরেও তাই বলতে হয় স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা।

Shamim Md Masud এর সংকলিত ও সম্পাদিত।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত