বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

মধ্যে ডানপন্থী উদার গণতান্ত্রিক দল বিএনপি সলিম উল্লাহ মজুমদার

আপডেট:

১৯৭৮ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি গঠিত হয়। মধ্য ডানপন্থী উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করে। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একাধারে দেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বীর উত্তম, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক। ১৯৭১ সালে ২৬ শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই মহান ব্যক্তিটি কে আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও বাংলার রাখাল রাজা বলা হয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ কে আমরা একই কাতারে বিবেচনা করছি। সত্যি কি বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ একই কাতারের দল? অনেক ক্ষেত্রেই দল দুটির বৈশিষ্ট্য একই রকম হলেও ও আবার অনেক ক্ষেত্রে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন জাতীয়তাবাদী দল বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ভাষাভাষী সকল শ্রেণীর পেশার মানুষকে এক কাতারে শামিল করেছেন। যেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাকশাল কায়েম করেছিলেন। একটি মাত্র দল রেখে, বাকি সব দলকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে, সবগুলো সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়ে, শুধুমাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখেছিলেন। ১৯৮৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ যে নির্বাচন দিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩ আসন নিয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ পায় ৮৬ এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম ও ১০ টি আসন পায় । সে নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে। ১৯৮৬ সালে নির্বাচনের আগের দিন শেখ হাসিনা লালদিঘির ময়দানে এক সমাবেশে ঘোষণা দেন এরশাদের নেতৃত্বে যারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তারা জাতীয় বেঈমান হিসেবে জাতির কাছে চিহ্নিত হবেন কিন্তু উনি নিজে ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জাতির কাছে জাতীয় বেঈমান হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেন। বলা বাহুল্য সেই সময়ে, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আলাদা আলাদা ভাবে দুটি জোট গঠিত হয়। একটি জোটের নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া, আরেক জোটের নেতৃত্ব দেন, শেখ হাসিনা। তাদের মধ্যে বোঝা পড়া ছিল তারা জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জোট অনড় থাকায়, পরবর্তীতে ৯০ এর সফল গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলন এবং স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর, বিচারপতি শাহাবুদ্দিনকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। ১৯৯০ সালে ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত শাহাবুদ্দিন সাহেব দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৪০ আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় রক্ষায়, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন দেন। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭৮ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। অধিকাংশ বিরোধীদল ওই নির্বাচন বর্জন করলে, নির্বাচন এক পক্ষীও হয়ে যায় । বিরোধী দলের আন্দোলন এবং জনগণের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে, সরকার থেকে পদত্যাগ করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে, পুনরায় নির্বাচন দেন। গণতন্ত্র এবং জনগণের ক্ষমতায়নকে মূল্যায়ন করে, বেগম জিয়া আবারো তার কারিশমেটিক রূপকে জাতির সামনে উপস্থাপন করেন। এদিকে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে, ফখরুদ্দিন, মইনুদ্দিন সরকার, বেগম জিয়া এবং শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা দেশের বাইরে চলে গেলেও বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীনতার কারণে শেখ হাসিনা আবার দেশের বাইরে থেকে দেশে ফিরে আসে।ফখরুদ্দিন ও মইনুদ্দিন মাইনাস টু ফর্মুলা থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন। ২০০৮ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর বাংলাদেশ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন দল সরকার গঠন করে। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেন। সেই থেকে রাজনীতিতে নতুন করে অচল অবস্থা তৈরি হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীগ ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি আসনগুলোতে ৫ শতাংশ ভোট পড়ে। ওই নির্বাচন বিএনপি সহ সবগুলো বিরোধীদল বর্জন করে। ঠিক একইভাবে ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে সংঘটিত হয়। ওই নির্বাচনের ডঃ কামালের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি’র ৫০ জন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আওয়ামী লীগের মারপিটে রক্তাক্ত হয়। ওই নির্বাচনকে রাতের ভোট বলেও আখ্যায়িত করা হয়। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। একইভাবে ২৮ শে অক্টোবর বিএনপিকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে বিতাড়িত করে, ২০২৪ র একপক্ষীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ করে, আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে। টানা দলীয় সরকারের অধীনে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থা কে ধ্বংস করে দেয় । বিএনপি সহ অধিকাংশ বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করে। ২০২৪ এর ৫ ই আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, বাংলাদেশ নতুন করে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রবেশ করে। ১৯৭৫ সাল থেকে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের প্রশ্নে, ভোটাধিকারের প্রশ্নে, মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে, ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণ প্রশ্নে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন সেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা শহীদ জিয়া, বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের অবদান দৃশ্যমান। যে অবদান আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপি’র ইউনিক পার্থক্য করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় দেশের স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব,ধর্মীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ভোটাধিকারের প্রশ্নে বিএনপি সব সময় আপোষহীন এবং জনগণের পক্ষে দেখিয়েছেন আপোষকামিতা।
লেখক
সলিম উল্লাহ মজুমদার

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত