বৃহস্পতিবার, মার্চ ৫, ২০২৬

অবৈধ ইটভাটা বন্ধ না করলে খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে

আপডেট:

  1. সারা দেশে চলছে টপসয়েল (মাটির ওপরের অংশ) কাটার মহোৎসব। এতে জমি হারাচ্ছে উর্বরতা, কমছে ফসল উৎপাদন, আশঙ্কা করা হচ্ছে খাদ্য ঘাটতির। বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রলি-ট্রাকে করে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায় ভরাট করা হচ্ছে পুকুর ও নিচু জায়গা। কৃষিবিদদের মতে টপসয়েল কেটে নেওয়া জমির উর্বরতা ফিরতে সময় লাগে কমপক্ষে ১০-১২ বছর। কোনোটার উর্বরতা আগের মতো ফেরেও না। এ ছাড়া টপসয়েল বিক্রি বা কাটা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।ব্যাপারে সচেতনতা ও জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার বলে মনে করছে সচেতন মহল। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) : ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অবাধে কাটা হচ্ছে তিন ফসলি ও সরকারি জমির টপসয়েল। ট্রলি, ট্রাক ও ডামপারে করে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। এ মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে নিচু জায়গা ও পুকুর।দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের মুজাহিদনগর পূর্বদি, আবদুল্লাহপুরের করেরগাঁও, পশ্চিম আড়াকুল ও কোন্ডা ইউনিয়নের মঠবাড়ী এলাকায় মাটি কাটার এ চিত্র দেখা গেছে। মাটিবোঝাই গাড়ি চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কও ধ্বংস হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসীর পাহারায় শ্রমিকরা ভেকু দিয়ে মাটি কাটে। ৪ শতাধিক ট্রাক দিয়ে মাটি চুরি করা হচ্ছে। মুজাহিদনগর পূর্বদি এলাকায় ফসলি জমি কেটে পুকুর করা হয়েছে।পশ্চিম আড়াকুলের ২০ ফুট রাস্তার মাথায় এক মাস ধরে চলছে মাটি উত্তোলন। কোন্ডা ইউনিয়নের মঠবাড়ীতেও সরকারি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুন বলেন, ‘ফসলি জমির উপরিভাগ কাটার ফলে জমিতে আর ফসল হয় না। উর্বরতা ফিরতে ১০-১২ বছর লাগে। ফসলি জমি রক্ষায় জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার। ’ কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল (দক্ষিণ) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তিন ফসলি বা যে কোনো আবাদি জমির উপরিভাগ বিক্রি বা কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সম্প্রতি দুজনকে আটক করে কারাদ দেওয়া হয়। চারটি ট্রাক জব্দ করা হয়। ’ রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : উপজেলার কর্ণগোপ, মাসাবো, মাছিমপুর, ভোলাবো, তারাইল, পাইস্কা, চারিতালুক, আতলাপুর, পুবেরগাঁও, বলাইখা, বেলদি, দেবই, খৈসাইর, কলিঙ্গা, পুটিনা, বাগলা, কামালকাঠী, ডহরগাঁও, হোরগাঁও, গোলাকান্দাইল, সাওঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমির টপসয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়। এ মাটি নিচু জায়গা ও পুকুর ভরাটেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। মাটি ব্যবসার কাঁচা টাকা ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে মাটিসন্ত্রাসী ও সিন্ডিকেট। উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় ফসলি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। দু-তিন বছর ওই জমিতে তেমন ফসল হয় না। কোনো কোনো জমি ১৫-২০ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। ভেঙে পড়ছে পাশের জমিও। মাটি সরবরাহে ব্যবহৃত ভটভটির দাপটে সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে খানাখন্দ। ঘটছে দুর্ঘটনা। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও রূপগঞ্জবাসী। রূপগঞ্জ উপজেলায় ১১৪টি ইটভাটা রয়েছে। তারাবো ও কাঞ্চন পৌরসভা, গোলাকান্দাইল, ভোলাবো ও দাউদপুর ইউনিয়নে রয়েছে এসব ইটের ভাটা। ইট তৈরির প্রধান কাঁচামাল মাটি। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ৫ নম্বর ধারায় বলা আছে, কৃষিজমি, পাহাড় ও টিলার মাটি কেটে ইট তৈরি করা যাবে না। অনুমোদন দেওয়ার সময় কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয় ভাটামালিকদের। কিন্তু এ আইনের তোয়াক্কা করছেন না কেউ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত