বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

ফেনী শহরের ফুটপাত ও রাজার দিঘির পাড় হকারদের দখলে

আপডেট:

আনোয়ার মোরশেদ মজুমদার (বুলেট)

ফেনীর ফুটপাতগুলো বেহাল দশা প্রত্যক্ষ করিয়া অনেকে রসিকতা করিয়া বলিয়া থাকেন, ‘এইখানকার ফুটপাতগুলি এখন আর ফুটপাত নাই, বরং উহা পরিণত হইয়াছে ফুটো-পাতে!’ যাহারা হররোজ সিএনজি -বাসে ফেনী শহরে – চলাচল করেন, তাহারা সাধারণত বাহন হইতে নামিয়া খানিকটা পথ হাঁটিয়া স্ব-স্ব কর্মস্থলে যান। এই ক্ষেত্রে ফুটপাতই প্রধান অবলম্বন; কিন্তু মুশকিল হইল, সেইখানেও নাই কোনো স্বস্তি! ফুটপাতে নামিলেই পড়িতে হয় হকারদের উপদ্রব বা দৌরাত্ম্যের মুখে। বর্তমানে অবস্থা এতটা বেগতিক হইয়া উঠিয়াছে যে, ফুটপাতের গণ্ডি পার হইয়া মূল সড়কগুলিতে পর্যন্ত পসরা সাজাইয়া ব্যবসা করিয়া যাইতেছে বিভিন্ন অসাধু গোষ্ঠী। স্থানীয় মাস্তান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নামধারী নেতা এবং সর্বোপরি হকার সিন্ডিকেটের সম্মিলিত দাপটে ফুটপাতগুলি পরিণত হইয়াছে ভাগাড়ে! এমনকি ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, দাগনভুঞাঁ উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ফুটপাত বেদখলের হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ, ফুটপাত এখন আর ফুটপাত নাই, বরং বেশির ভাগই চলিয়া গিয়াছে দখলদার ও হকারদের কবজায়। কোথাও গড়িয়া তোলা হইয়াছে অবৈধ স্থাপনা, কোথাও-বা ত্রিপল খাটানো অস্থায়ী তাঁবু: কোথাও আবার ফুটপাতের উপরেই বসানো হইয়াছে মোটর মেকানিক গ্যারেজ। এইভাবে কত রকম ছোটখাটো ব্যবসা যে ফুটপাতগুলিতে জাঁকাইয়া বসিয়াছে, তাহার ইয়ত্তা নাই। ফুটপাত দখলকারী এই দুষ্কৃতকারীদের থামাইবার যেন কেহ নাই! কথা হচ্ছে হকারদের পূর্ণবাসন না করে উচ্চেদ করলে তা সামজিক ও অর্থনীতি ক্ষতি হবে। পরিকল্পনা করে হকারদের উচ্ছেদ করতে হবে,তানা করলে এটি কখনো টেকসই হবে না। ফেনী পৌর প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। ফেনী আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এক সাংবাদিক বিষয়টি জেলা প্রশাসককে তুলে ধরলে তার কাছে স্মারক লিপি প্রদান করার অনুরোধ করেন। জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব কর্তব্য বাংলাদেশ সরকারের আইন বিধিবদ্ধ আছে। জ্বালানি ভেঙে স্টেট হিসেবে তুমি তার আইনগত প্রক্রিয়া অবলম্বন করে জনগণের সমস্যা কি সমাধান করবেন। মাঝেমধ্যে ফুটপাত দখলমুক্ত করিতে অভিযান চালানো হয় বটে। তখন অন্তত দিন কয়েকের জন্য হইলেও ফুটপাতগুলি পথচারীর চলাচলের উপযোগী হইয়া উঠে; কিন্তু কিছু দিন যাইতে না যাইতেই পুনরায় বেদখল হইয়া যায় উদ্ধারকৃত ফুটপাত। ইহা যেন চোর-পুলিশ বা রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা এবং এই খেলা চলিয়া আসিতেছে মান্ধাতা আমল হইতে। জানা যায়, ইহার নেপথ্যে যাহারা থাকেন, তাহাদের ‘হাত অনেক লম্বা। এই লন্বা হাত কি ছোট করা যাবে ফেনী জনগন জানতে চায়। আগের সরকারের ধারাবাহিক কার্যক্রমে মতো হলে এই জুলাই আন্দোলন শহীদ প্রতি নিষ্ঠুরতার হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত