লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তাং ঃ ২০.১২.২০২৩
সাহিত্য জগতের মানুষগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের একটু দুর্বলতা থাকে, দ্রুত তাদের প্রেমে পড়ে যায়। কথাটা উল্টে
বললে বলা যায় সাহিত্য জগতটা মুক্তমনা মানুষের সমাগম,
কবি সাহিত্যিক লেখক গায়ক অভিনেতা অভিনেত্রী শিল্পী নাচানে ওয়ালী ইত্যাদি। আবার যে সব লোক ভালো চাকুরী বাকরী করেন, নারী সহকারী সহকর্মী, প্রাইভেট সেক্রেটারি পান তারাও একটু প্রেমিক হয়ে যান! কিছু চাকুরির ক্ষেত্র আছে যা একটু নারী প্রধান্য বেশী যেমন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, নাটক থিয়েটার পাড়া, রেডিও টেলিভিশন এমন কি প্রিন্টং মিডিয়ায় তেমন মেয়ে প্রধান্য বেড়েছে!
যার চাকুরী জীবনে পাচ হাজার টাকা খরচের সুযোগ হয় নাই অফিস গার্জেন হিসাবে, তিনি দেখবেন বলে বেড়াবেন
তিনি সাধু কোনদিন ঘুষ খান নাই, অর্থাৎ সুযোগ ই হয় নাই নফসের পরীক্ষার!
পাঠক, আমার বিষয় কবি সাহিত্যিক জীবনে নারী প্রভাব!
রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়ের বইয়ে স্পষ্ট করে লিখেছেন, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ও তার দাম্পত্য জীবন! সেখানে “মৃনালীনী দেবীর আত্মকথন আছে। মৃনালী দেবি রবীন্দ্রাথের একাধিক প্রেমের কথা বলেছেন? ! রবি বাবুর প্রেম ছিলো ভাতিজির সাথে যাকে ২৫২ টা চিঠি লিখেছেন মনের মাধুরি মিশিয়ে যে বিলেত থেকে লেখাপড়া করে এসেছিলেন!
কদম্বীনির সাথে প্রেম ছিলো যিনি ছিলেন বৌদি ভাই যতীন্দ্রনাথের স্ত্রীর । রবীন্দ্রনাথ বিলেত গেলে কদম্বীনি পাগল প্রায় ছিলেন কিন্ত রবীন্দ্রনাথ প্রেমে মজেছিলেন মিস ভিভিয়ান, মিস লং, মিস মুন ও লুচির সাথে, মনে করেন নাই কদম্বীনির কথা।
মৃনালীনী সুন্দরী ছিলেন কিন্তু শিক্ষা ছিলো না তাই রবির অবহেলা ছিলো। কেন তিনি নয় বছর নয় মাস বয়সের মৃণালীনি কে বিয়ে করেছিলেন? কেন একাধারে বাচ্চা পয়দা করে গেছেন? ১১ বছরে প্রথম বাচ্চা বেলাকে জন্ম দেন, ৮ বছরে ৬ সন্তান,,,!
অবশ্য শেষ সন্তান গর্ভপাতে ঝরে যায় !
একটা আর্টিকেল পড়েছিলাম যেখানে বাদশাহ শাহজাহান ও মমতাজের তাজমহলের উল্টো রূপ!
শাহজাহান নাকি ইচ্ছে করে মমতাজ কে মেরেছিলেন, হাতীর পিঠে ৭/৮ মাসের গর্ভবতী মমতাজকে ৫০ মাইল দূরে ভ্রমন করানোতে গর্ভপাত ও মৃত্যু! তারপর তার ছোট বোন কে বিয়ে! বলতে কষ্ট হয় বাঙালির গর্ব রবীন্দ্রনাথ কেন কেয়ারলেস ছিলেন মৃনালীর ব্যাপারে? মাত্র ২৮ বছরে মৃত্যু, ১৯ বছর দাম্পত্য জীবন, অনেক দিন কেটেছে জোড়াসাঁকোর আতুর ঘরে যা ছিলো অন্ধকার ও অত্যাধিক ঠান্ডা! তাহলে কি রবীন্দ্রনাথ বাদশাহ শাহজাহান ছিলেন মনের দিক থেকে?
খৃঃ পূর্ব ৮০০ সালে ” কামসূত্র” সেক্স আর্ট আসন বই লেখা হয়। সে লেখক বিশ্ব প্রেমিক নারী ভোগী ছিলেন! নারীরা তাকে এসে ধরা দিতো, তখন ই মানুষ এ্যাডাল্ট হয়েছেন সাহিত্য জগতে! এখন ২৯২৩ সালেও কিছু নাবালক সাহিত্য জগতকে হিজাব নেকাব বোরকা পরায়! এর কারন জানাশোনা অভিজ্ঞতার অভাব! মূর্খতা তাদের সাথে তর্কে জড়ানো। গোড়ামি আস্তে আস্তে শেষ হয়েছে, এইতো সেদিন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেয়ে ভর্তি হলে বাইরের পুরুষ প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিলো। কবি নজরুল সে নিষেধ না জানায় কার্জন হল এলাকায় প্রবেশ করে প্রথম ছাত্রী ফজিলাতুন্নেছা কে ভালোবেসে ফেলেন। এলাকায় প্রবেশের জন্য নজরুল কে আজীবন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ টা ছাত্রী হলের মেয়েরা কোথায় যায় কে খবর রাখে? হলের পাশের রোড গুলোতে ছাত্রীরা তার প্রেমিকের হাটুতে মাথা রেখে গল্প করে রাত ১১ টা পর্যন্ত যদিও একসময় রাত ৮ টায় হলে ফেরার নির্দেশ ছিলো।
প্রিয় পাঠক, ১৩০০ বছর আগের ওমর খৈয়াম কত প্রেমে জড়িয়েছেন তার ইয়াত্তা নাই। নজরুল তো কম পক্ষে ৭ জন জানান দিয়ে, বাকী কারা ছিলো কে জানে? এইতো সেদিন কবি আল মাহমুদ স্বীকার করেছেন তার কবিতায়
“শত ঘাটে ভিড়েছে তরী, করেছি জল পান, যে নারী দিয়েছেন ঢেলে আঁজলা ভরি —–”
আমি নিজেই লিখেছি,
“যেথা যাই আমি সম্রাট শাজাহান
মিলে যায় শত মমতাজ, ধানদূর্বায় নেয় বরি”!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন!
মানবতা মনুষ্যত্ব সম্পন্ন তাকওয়াপূর্ণ জীবনের ধার্মিক হন, মুনাফেক মিথ্যা বাদী তিল পরিমান অহং ধারী বেহেশতে প্রবেশ করিবে না (আল কুরআন।) !



