শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬

রাশিয়ার পরাজয় 

আপডেট:

 

মেনে নিতে কষ্ট হয়!

বিজ্ঞাপন

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

তাং ঃ ১৯.০১.২০২৪

বিজ্ঞাপন

 

ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় দুই আনা পয়সা দিয়ে থানা শহর থেকে আগত ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে পরিচিতি ও সদস্য করায় দিয়েছিলন আমার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দিন (সিকা)। যারা আগ্রহী ছিলো এবং দুই আনা দিতে সক্ষম হয়েছিলো তারাই সদস্য হয়েছিলো। আমার ক্লাসে সবাই বেশ এডাল্ট ছিলো, আমি ছিলাম পিচ্চি, নিত্যনন্দ বলে একজন ছিলো সে যখন আমরা নবম শ্রেণীতে পড়ি তখন সে ইউপি মেম্বার হয়েছিলো।

 

তখন থেকে সোভিয়েত রাশার কমিউনিজম ভাল লাগতো। ‘লেনিনের’ হাত ধরে এসেছিলো কমিউনিজম।

সবার গুরু “কার্ল মার্কস”। কার্ল মার্কস থিউরি ছিলো

” Religion is the OPIUM of the peoples! মার্কসবাদ জার্মান থেকে শুরু হয়। অনেক দেশে কমিউনিজম এসেছে, কারন সেই থিউরি ছিলো “Solve the Contradiction between P O O R S and

C A P I T A L I S T S. পরবর্তী তে সব দেশেই অনেক পরিবর্তন হয়েছে কমিউনিজমের, ক্ষমতায় আসতে না পারলেও সব, সব দেশে এ গ্রুপ আছে, আমাদের দেশে

সিরাজ শিকদার দেবেন শিকদার, ফকির হাটের খোকন ভাই বেশ জ্বালিয়েছেন।

ভারতে এখনও নকশাল রা সশস্ত্র। ডুমুরিয়া নকশালবাড়ী সবাই নাম শুনেছেন।

 

কার্ল মার্কসের উপর কমিউনিজম নিয়ে যে সব দেশে এখন শাসন চলছে রুশ, চীন, কিউবা, লাউস, ভিয়েতনাম —-

 

আমি তখন থেকে সিকার ব্যাগ বহনকারী হয়ে গেলাম।

ছুটতাম মনোরমা বসু (মাসী মার)র জনসভায়। মতিয়া চৌধুরী, এমনি সব কমিউনিস্টদের মিটিং মিছিলে কিন্ত দল করতাম ছাত্র লীগ/আওয়ামী লীগ। সেই সুবাদে পরিচিত হলাম ‘বিরোদ বাবু’, শেখ মুসা, আরও অনেক নেতার সাথে, আস্তে আস্তে পিচ্চি নেতা হয়ে উঠলাম,

 

তখন অনেক ” বাদ” ছিলো, মাওবাদ, লেলিনবাদ, মওদুদীবাদ, স্বাধীনতার পর এলো “মুজিব বাদ” ! মুজিব বাদ ছিলো সবচেয়ে ভালো , পক্ষপাতিত্ব করে বলছি না, মুজিবের পান্তা ভাত খাওয়া ব্রেইন থেকে বেরিয়ে এলো,”ধর্ম থাকবে, গনতান্ত্রিক ব্যবস্হা থাকবে, ধর্মনিরপেক্ষতা থাকবে কিন্ত অর্থনৈতিক সাম্য বন্টন হলে ধনী গরীবের ব্যবধান কমবে! চমৎকার —

 

মানুষ খুন শুরু হলো দেশ স্বাধীনের পর, সমাজতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে। সিরাজ, দেবেন, খোকন সবাই চৈনিক ছিলেন। মুজিব একবার “দেবেন বাবু” কে ডেকে বললেন,”দেবেন দা, সদ্য স্বাধীন দেশ, দেশটাকে গড়তে দিন, মনে রাখবেন দুই-চার জন মহাজনের গলা কেটে,

দুই-চারটা পটকা ফুটায়ে কোন দেশে সমাজতন্ত্র আসে নাই, অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন নিয়ে জনগনের দরজা থেকে দরজায় যান, জনগন মোটিভেট হলে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবেন, সংবিধান পরিবর্তন করে যা ইচ্ছে করবেন।

 

প্রিয় পাঠক, রাশিয়া এত দিন লাগাবে ইউক্রেনে এবং পশ্চিমারা ইউক্রেন কে ভিয়েতনাম বানাবার সুযোগ পাবে এটা আমার কল্পনার বাইরে ছিলো।

 

ভালো থাকবেন, সুস্হ থাকবেন, নিজদেশ কে ভালবাসবেন, রাজনীতি করতে হলে রাজনৈতিক ইতিহাস পড়বেন।

মনোরমা বসু, বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত