রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬

বসন্ত উৎসবে প্রেমিক যুগল গ্রেফতার

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ২০.০২.৩০২৪

 

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব যেখানে এগিয়ে চলেছে

আমরা সেখানে বসি,

প্রেমিক যুগল গ্রেফতার করছি

ধানমন্ডি লেক আর যত পার্ক আছে চষি!

 

ভালোবাসা কি অপরাধ, প্রেম করা কি অপরাধ, একজন মহিলার সাথে ষাট বছর সংসার করছেন কি মনের টানে নাকি হুজুর পুরোহিতের মন্ত্র বন্ধনে?

বুকে হাত দিয়ে বলুন! তাহলে কেন প্রেম করায় গ্রেফতার? এক রিক্সায় উঠলে পিছন বেড় দিয়ে হাতটা বুকে গেলে কি পুলিশের ঠেকানো প্রয়োজন? পার্কের গাছের আড়ালে ওষ্ঠে ওষ্ঠ মিলালে কি মহাভারত অসুদ্ধ হয়ে চায়? মেয়ে টা কি অভিযোগ করেছে, ছেলেটা কি এফআইআর করেছে? তা হলে গ্রেফতার কোন ধারায়?

এই রাস্ট্র কে আলগা ধার্মিক সাজাতে যেয়ে মেয়েটা ছেলেটা পরিবার কে ন্যাংকটা করলেন তা কত বড় অমানবিক কাজ হলো, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সে কলঙ্ক কি তারা মুছতে পারবে?বেশ্যা পাড়ায় প্রবেশ মুখে কত স্কুল কলেজ ছাত্র ঢুকছে, গ্রেফতার করেছেন কখনও। হোটেলে কত ছাত্র তার প্রমিকাকে নিয়ে এসে সিকিউর ভাবে সারাদিন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিয়ে গার্জেন ফাঁকি দিয়ে সেক্স করছে, খোঁজ রাখেন কোন প্রশাসন নাকি এত নিশ্চিত হোটেল বয়বসা কি ভাবে হচ্ছে? নাকি পরোক্ষভাবে বাঙালির বাংলা নববর্ষের উৎসব, বসন্ত উৎসব মুছে দেয়ার পরিকল্পনা? হাইব্রিডদের বুদ্ধি তে আওয়ামী সরকারের না চলার অনুরোধ রইলো। যে দেশে রেজিষ্ট্রেশন দেয়া আছে বেশ্যাালয়, হোটেলে চলছে দেহব্যবসা প্রশাসনের নাকের ডগায় সেখানে এটা কোন মাজেজা? কোন দর্শন এটা?

 

বিশ্বে সমকামী বিবাহ আদালত বৈধতা দিয়েছে শতাধিক দেশ। খোদ ভারতের মেয়ে মেয়ে কে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে, বাপ মা সে বিয়েতে উপস্থিত হয়ে আশীর্বাদ জানিয়েছেন। গেট টুগেদার হরহামেশা, দক্ষিণ এশিয়ায় এমন রাজ্য আছে পাচ ভাই মিলে এক বউ, এক পুরুষ ৬/৭ বউ,

এমন শহর আছে যেখানে কাপড় জমা রেখে উলঙ্গ ঢুকতে হয়, মুসলিম হিন্দু কুরআন গীতার বানান, নামে বানালে শুধু রাম মন্দির আর মসজিদে দেশ ভরবে বেহেশতে স্বর্গে যাবে না কেউ। মসজিদ মন্দির থেকে বের হয়ে মিথ্যা কথা, ঘুষ নেয়া ওজনে কম, পয়সায় শালিসি, পয়সায় জরিপ করে এর জমি ওকে ওর জমি একে, পুলিশ ডাকলে পাওয়া যায়। একজন ছেলে তার প্রেমিককে নিয়ে লেক পারের খুনসুটি কি তার চেয়ে বড় পাপ, অপরাধ? ওয়াজে একদল বলে যাচ্ছেন, বসন্ত বৈশাখের উৎসব, “কুত্তা কুন্তীর উৎসব, এটা বাংগালীত্বের বিরুদ্ধে আজীবনের আঘাতের অংশ!

এই মূঢ়দের সাথে সরকারের সহযোগিতা হাস্য কর।

সস্তা ধার্মিকতা দেখাতে চান, জিয়া সংবিধানে ” বিসমিল্লাহ” লিখে হিমালয় সমান ধোঁকা দিয়ে গেছেন

আপনারা পাঠ্য বইয়ের প্রথম পাতায় আরবীতে বড় করে “বিসমিল্লাহ” লিখেন। মেলা মাইন কোম্পানি কে বলে দেন, প্লেটের উপর বিসমিল্লাহ খোদাই করতে।

“শো ধর্মের” প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবেন, আল্লাহর ইসলাম যদি না চান শো ধর্ম নয়। মানবতা মনুষ্যত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করেন, আল্লাহ খুশি হবেন। দয়া করে বছরে দুইদিন আই ওয়াশ হোটেল রেইড করা বন্ধ করেন, বসন্ত উৎসব, বৈশাখের উৎসব ইয়ং জেনারেশনের উৎসব বন্ধ করতে “সরকার কত ধার্মিক রে” বুঝাতে এত ছোট কাজটা করবেন না।

 

বঙ্গবন্ধু O I C সদস্য করে গেছেন, তবলিগে ১৬০ একর জায়গা দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম জমায়েত করে গেছেন, ইসলামি ফাউন্ডেশন করে গেছেন, আলীয়া মাদ্রাসা বাজেট বাড়িয়ে সরাকারি করে গেছেন আরও কত কি? আপনার নিজ দলের লোক ও তা জানে না, প্রচার ও করে না তাই আজ ও বঙ্গবন্ধু কে মুসলিম শত্রু বানায় রেখেছে কিছু লোক! এত অপরাধের থেকে যুবক তার প্রেমিকের ওষ্ঠে রিকশা চড়তে বা গাছের আড়ালে ওষ্ঠে একটু ছোয়া বড় পাপ নয় হে প্রশাসন!

 

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশ কে ভালোবাসেন।

ব্লগার হত্যার মত পরিবেশ তৈরি করবেন না বসন্ত ও পহেলা বৈশাখ পালন কারী হত্যা শুরু উস্কাবেন না। তারা ওঁৎ পেতে আছে আপনাদের সহায়তা চায়। ততকালীন সরকারের সহাযোগীতা পেয়েছিলো বলে ১২ জন ব্লগার, ১৫ জন সাংবাদিকের জীবন গেছে, হুমায়ুন আযাদ, কবি শামসুর রহমান রাম দায়ের কোপ খেয়েছেন কেউ টিএসসি মোড়ে কেউ নিজ ঘরে সেই একুশ বই মেলার প্রাক্কালে!

 

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত