মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬

অসহায়ত্ব বাড়ছে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ০৯.০৪.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

রোজ রোজ অসহায়ত্ব বাড়ছে বৃদ্ধদের। যে বাবা-মা তার সমস্ত জীবন যৌবন সন্তানের প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যয় করে, নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে ন্যায় অন্যায় পথে আয়

করতে ও সৃষ্টি কর্তার ভয় করেন নাই শুধু এই সন্তানসন্ততির জন্য, সেই সন্তান যখন প্রতিষ্ঠা পায়, নাম সুনাম অর্জন করে, বাবা আয় রোজগারহীন, পকেট খরচ পর্যন্ত তার থাকে না তখন নেমে আসে সন্তানের অবহেলা, খোঁজখবর না নেয়া, একই ছাঁদের নিচে বাস করেও এক ডাইনিং টেবিলে ডাক পড়ে না, চা মিলে না ধোয়া ওড়া, ঠান্ডা চা খেতে খেতে অভ্যাস্হ হয়ে ওঠে, অর্থাৎ কাজের মেয়েটা ও ততদিনে অবহেলার পাত্র চিনে ফেলেছে! সন্তানদের মানুষ করতে বাকা মেরুদন্ড

নূজ্য দেহে ক্লান্ত বিছানার লোকটাকে বৃদ্ধাশ্রম ও যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় ৮০/৯০ শতাংশ।

 

প্রিয় পাঠক, 100 million b.c সিনেমাটা ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়েছিলো সারা বিশ্বে যা ঢাকা মধুমিতা সিনেমা হলে চলেছিলো কয়েক মাস। টাইটেনিকের মত ব্যবসা সফল ছবি! সে যূগে মানুষ পাহাড়ের গুহায় উলঙ্গ বসবাস করতো, নারী ভোগ ছিলো ইচ্ছে মত, একজন পুরুষ গর্ত খুড়ে রেখে ফাদ পেতে একটা বন্য ষাড় ঐ গর্তে ফেলতো বা বন্য শূকর, একা ই ষাড়টার সাথে ফাইট করে কাবু করতো এবং সবাই মিলে কাচা গোশত খেতো! সেই সাহসী শক্তিশালী ব্যক্তি একদিন দুর্বল হয়ে যেতো বার্ধক্যে! যখন সবাই জঙ্গল পরিবর্তন করতো শত মাইল দূরে তখন আর তাকে নেয়া হতো না সামার্থবানদের সাথে। এমন ১০/২০ জন বৃদ্ধ কে এক সাথে কোন গুহায় আটকায় গুহার মুখে অনেক ভারি পাথর দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে জঙ্গল ছাড়তো! কি হতো গুহার ভিতর সেই মানুষ গুলোর সহজেই অনুমেয়!

আমরা রোজ রোজ তেমন যুগে পৌছে যাচ্ছি, ৫/১০ সন্তান অফিসার অথচ ভাত পাচ্ছে না তাদের বাবা-মা।

ঘর থেকে বের করে দিচ্ছে, রেল লাইন, স্টেশন, বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে আসছে তো আর খোঁজ নিচ্ছে না।

 

বিশেষ করে পুরুষ বৃদ্ধ রা বেশী ভুগছেন, মহিলা অপেক্ষা কৃত কম কারন আয়ার কাজটা তিনি কিছু দিন চালাতে পারেন! আবার কোথাও নিজ সহধর্মিণী সন্তান মিলে পুরুষ নিগ্রহের খবর শেনা যায়। এমন নিষ্ঠুরতার পিছে নারী চরিত্রের ভুমিকা অপেক্ষাকৃত বেশী!

 

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ বাবা-মার যত্ন নিন। মা-বাবার জমি সম্পত্তির মালিকানা পেয়েছেন যা তিনি সেচ্ছায় আপনাকে দিয়েছেন, আজ কেন তার দায়িত্ব নিচ্ছেন না, তার স্হাবর অস্হাবর সম্পদ কোন না কোন ভাবে মালিক হয়েছেন আজ তিনি কেন পথে পথে ঘুরবেন? মসজিদ মন্দির যাচ্ছেন তা কি কাজে আসছে? হজ্ব করে যাচ্ছেন তা কি পাপ ধুয়ে দিচ্ছে? মা-বাবা, প্রতি পালক বড়ভাইয়ের হক আদায় দূরে থাক এখনও লুঠপাট করার চেষ্টায় লেগে আছেন, প্রশ্ন করুন নিজেকে আপনার মেয়ে কেন হোটেলে ধরা পড়ে, ছেলে কেনো হাত কেটে সৌদি শরীয়া আইন মতে দেশে ফেরে, হ্যা আপনি, আপনার স্ত্রী কেন অন্যের বিছানায় রাত কাটায় —— এগুলো তার ই লান্নত যা আপনি আপনাকে মানুষ করা লোকগুলোর প্রতি করে যাচ্ছেন! কারো পতনের জন্য “অবদান কারীর” দীর্ঘশ্বাস ই যেথেষ্ট! আপনি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার অফিসার না কি স্কুলের মাওলানা that does not matter. আপনি জাহান্নামে পথে দাড়িয়ে আছেন, সমাজে মুখোশ এটে লোক গুলোকে বোকা বানিয়ে! আল্লাহর এবাদত শুধু নামাজ রোজা না, উপকারীর ঋণ পাই পাই করে চুকানো।

মা-বাবা বড় ভাই প্রতিবেশীর উপর কর্তব্য ও এবাদত!

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত