লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তাং ঃ ১৪.০৬.২০২৪
অখন্ড ভারত ভাঙার প্রস্তাব ছিলো “লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের! জিন্নাহ ঐ পক্ষের, এপক্ষের বল্লভ ভাই প্যাটেল। গান্ধী নেহেরু মাওলানা আজাদ ঘোর বিরোধী ছিলেন! এদিকে জিন্নাহ অখন্ড ভারতে কোন পদ পাবে না বলে ডাইরেক্ট এ্যাকশনের ডাক দেন এবং মুসলমান হিন্দু কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়! নোয়াখালী লাহোর বিহার পাঞ্জাব বিভিন্ন জায়গায়! অন্য দিকে সব নেতার সাথে বৃটিশ শাসকদের বউ লাগিয়ে দেয়া ছিলো, গান্ধীজির সাথে লর্ডের বউ, নেহেরুর সাথে —–
এই দুই মহিলা বন্ধু এ দুজনকে ও রাজী করায় ফেলেছিলো —-
বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ ছিলো “অখন্ড ভারত” ৭১ লক্ষ ২৭ হাজার ৯৮ বর্গ কিঃমিঃ, এখন ও ভারত বিশ্বের
৭ ম দেশ আয়তনে। এই ভাগাভাগি আলাদা রাস্ট্র হতে
২ মিলিয়ন লোক মারা গেছে, বাপদাদার ভিটা ছেড়েছে
১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রিফিউজি সমাস্যা সৃষ্টি হয়। বৃটিশ ইতিহাসবিদ লিখেছেন ১.৩ মিলিয়ন মুসলমান মিসিং ( ভারত ছেড়েছে কিন্ত পাকিস্তান পৌছে নাই), ০.৮ মিলিয়ন হিন্দু মিসিং, ধর্ষণের শিকার ৩৩হাজার হিন্দু নারী ও
৫০ হাজার মুসলমান নারী (বৃটিশ ডাটা ১৯৫১) ।
একই ভাষাভাষী পাঞ্জাব ও বাংলা কে দুই টুকরো করা হলো!
হতে পারতো বর্তমানের পূর্ববাংলা পশ্চিম বাংলা আসাম নিয়ে একই ভাষাভাষী একটা দেশ, আলাদা স্বাধীন কাশ্মীর। আরকান তো ৮ সেঞ্চুরি থেকে ৩০০ বছর স্বাধীন ছিলো, তারাও একটা দেশ, আরব মার্চেন্টরা এসে তাদের মুসলমান করেছে —-
মুসলমান আধিক্য অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান বানালে তা হলে “আরকান” কে বার্মার ভিতর ঠেলে না দিলে আজও রাস্ট্রহীন ভাসমান জাতি হতে হতো না যদি পূর্বপাকিস্তানের সাথে দিয়ে দিতো? ইতিহাসবিদ দের
ভাষায় উঠে আসে, সবই বৃটিশদের শয়তানি, জিন্নাহর অনীহায় আরকান বার্মাকে ছেড়ে দিলো, বৃটিশ জানতো, পূর্বপাকিস্তান একদিন বের হয়ে যাবে ৩ মিলিয়ন মুসলমান ১ লক্ষ ৭৭ হাজার বর্গকিলোমিটার
আরকান নিয়ে বড় মুসলমান রাস্ট্র হতে দেয়া যাবে না।
আজ সেই আরাকানের ১৪ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশ কে বহন করতে হচ্ছে, আবার যুদ্ধ ছাড়া বার্মার মগরা সভ্য হবে বলে মনে হয় না। মিয়ানমারকে জবাব দেয়ার শক্তি বাংলাদেশের আছে কিন্তু বুঝি না ভারতকে, চীন পাকিস্তান তো রোহিঙ্গা পুশ ইনে জড়িত। তারাতো পক্ষ নিয়েই আছে।
ভারত ভেঙে এত ডিসপুট করে রেখেছে যা আরো হাজার বছর ভোগাবে এ অঞ্চল কে। কাশ্মীর আজ ৪৫% ভারত দখলে, ৩৫% পাকিস্তান, ১৯৬২ সালে চীন
লালবাহাদুর শাস্ত্রী আমলে দখল করে নিলো ২৫% এলাকা। হতভাগা কাশ্মীর আজীবন এই নাগপাশ ছিড়ে বের হতে পারবে না কোন দিন! দূঃখ সব খন্ড দেশগুলোর অখন্ড ভারত ভেঙে কি পেলাম, বরং হিন্দু মুসলমান দুইভাই মারামারি করতাম আবার একসাথে শ্মশানে লাশ সৎকার করতাম, একসাথে কবরে মাটি ফেলতাম ! একসাথ মাঠে ভাটিয়ালি ভাওয়াইয়া গাইতাম।



