এশিয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার দখলে নতুন করে প্রতিযোগিতায় নেমেছে সৌদি আরব ও রাশিয়া। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক অঞ্চলে পণ্যটির সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশ দুটি। বিশেষ করে চীন ও ভারতের বাজার দখলে একে অন্যকে পেছনে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে মস্কো ও রিয়াদ। খবর রয়টার্স।পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন ও ভারতের মতো ক্রেতাদের জন্য ছাড়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল রাশিয়া। ফলে সে সময় দেশটি সৌদি আরবকে পেছনে ফেলে চীনের শীর্ষ সরবরাহকারী হয়ে ওঠে। তবে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীনে রাশিয়ার সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল রফতানি স্থবির হয়ে পড়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বদলে যায় পরিস্থিতি। ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি রাশিয়ার অনুকূলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ইউক্রেনকে সহায়তা কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে রাশিয়া। মার্চের আমদানিপ্রবাহের তথ্য নতুন বাজার প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের এ প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।কমোডিটি অ্যানালিস্ট কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া থেকে চীনের সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল আমদানি দৈনিক গড়ে ৯ লাখ ৬৯ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে। জানুয়ারিতে এ পরিমাণ ছিল দৈনিক ১০ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল। চীনে ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাসে রাশিয়ার সমুদ্রপথে সরবরাহ ছিল দৈনিক গড়ে ৯ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল, যা আগের দুই মাসের তুলনায় ২ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল কম।কেপলার আরো জানায়, ভারতেও রাশিয়ার রফতানিতে উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া থেকে ভারত দৈনিক গড়ে ১৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল আমদানি করেছে, যা জানুয়ারির ১৬ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলের তুলনায় কম। ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাসে ভারতের রাশিয়া থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল, যা আগের দুই মাসের ১৬ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলের তুলনায় কম।খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে কমলেও মার্চে রাশিয়া থেকে চীন ও ভারতের আমদানি আবার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। কেপলার জানায়, এ সময় ভারতের আমদানির পরিমাণ হতে পারে দৈনিক গড়ে ১৯ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে সর্বোচ্চ। চীনেরও মার্চের আমদানি বেড়ে দৈনিক ৯ লাখ ৭৩ হাজার ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। এছাড়া রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দর থেকে চীনে জাহাজগুলো মাত্র এক সপ্তাহে পৌঁছে যায়, ফলে মার্চ শেষে এ পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।সৌদি আরবও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। কেপলারের সংকলিত ডাটা অনুযায়ী, চলতি মাসে চীনে সৌদি আররের জ্বালানি তেল সরবরাহ বেড়ে দৈনিক গড়ে ১৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছতে পারে, যা ২০২৩ সালের আগস্টের পর থেকে সর্বোচ্চ। এছাড়া এ সময় সৌদি আরব থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ হতে পারে দৈনিক গড়ে ৫ লাখ ৩২ হাজার ব্যারেল। তবে এটি মাস শেষে আরো বাড়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।সৌদি আরব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও কমিয়ে এনেছে। এপ্রিলে সরবরাহের জন্য দেশটি আরব লাইট গ্রেডের দামে মূল্য সংযোজন ৩ ডলার ৫০ সেন্টে নামিয়ে এনেছে, মার্চে যা ছিল ৩ ডলার ৯০ সেন্ট।

