লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তাং ঃ ২৩. ০১.২০২৪
আজ মহান নেতা “সুভাস বোসের” জন্মদিন। যার সাথে হাইস্কুলের ছাত্র “মুজিব”, কলকাতায় তার বাড়ীতে দেখা করতে গিয়েছিলেন! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাজার বছরের শ্রোষ্ঠ বাঙালি। নেতাজি সুভাষ বোস কে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার “রামমন্দির” উদ্বোধন লেখা টা শুরু করছি।
২২ শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহা ধুমধামে রাম মন্দির উদ্বোধন করলেন!
অযোধ্যায় তিরিশ লাখ লোকের বাস তার মধ্যে পাঁচ লাখ মুসলমান। সব মুসলমান মিষ্টি নিয়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিল। আহ্ এইতো ধর্মের বিধান, সবার সহ অবস্হান, তাহলে ভাই ভাইকে হত্যা করায় কোন শয়তান?
ভন্ড ধার্মিক গেরুয়া বোরকার নিচে রাখে যারা খঞ্জন! ধর্ম যাদের মুখোশ, ব্যবসা, ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি, বাধায় দিয়ে দাঙ্গা পালায় যেয়ে গিরি!
আজ যে মুসলমান মিষ্টি নিয়ে মন্দির উদ্বোধনে আসছেন ১৯৯২ সালের ৬ ই ডিসেম্বর তাদের বাবা দাদা সন্তান কে হত্যা করা হয়েছে! সারা ভারতে ৯২ বছরের বয়স্ক আদভানির সভা থেকে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার নির্দেশ আসে! ১৫২৮ সালে নির্মিত মসজিদ ভেঙে দেয়া হলো,দাঙায় দুহাজার হিন্দু মুসলিম ভাই-বোন জীবন দিলেন অথচ ২২ শে জানুয়ারির মত ঐ মসজিদে পাশে এমন একটা রাম মন্দির স্হাপন হলে কি দোষ ছিলো? যদি এখানে রাম মন্দির থেকে থাকে বাদশাহ বাবরের প্রধান সেনাপতি কেন তা ভাঙতে গেলেন, কেন পাশে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করলেন না? এই মসজিদ/মন্দির রাজনীতি এখনও চলছে সব দেশে , ইয়েমেনের মত গরীব দেশে পঞ্চাশ হাজার মসজিদ, বাংলাদেশে আড়াই লাখ মসজিদ, ইন্দোনেশিয়া আট লাখ মসজিদ, ভারতে তিন লাখ মসজিদ। অস্ট্রেলিয়ায় সাতশো একুশ ফুট উচু মন্দির নির্মান ঘোষণা হয়েছে যা ১৫০ একর জমির উপর নির্মিত হবে এবং খরচ পড়বে মাত্র ছয়শতাধিক কোটি রুপি, যে দেশে এখন ও বিশুদ্ধ জলের নিশ্চয়তা নাই, সেনিটেশন বাংলাদেশের নিচে, বাংলাদেশে আরও ছয়শো পয়ষট্টি মডার্ন মসজিদ হবে!
এমন নেতা কবে হবে যার হৃদয় ধর্মের বানী রবে, যিনি মানুষের গোশত শিককাবাব করে ক্ষমতা চাইবেন না? রাজনৈতিক দলের নামের আগে হেফাজতে ইসলামের বা জামাতে ইসলাম বা ইসলামি ব্যাঙ্ক ইসলামি ইন্সুইরেন্স নাম করবেন না, ধর্ম ধোকা দিবেন না!
প্রিয় পাঠক, এই উদ্বোধন করা রাম মন্দির খুব কাছাকছি আছে এক ডজন মসজিদ মাদ্রাসা আর মাজার! মন্দিরে যখন পূজাপাঠ হয় মসজিদে তখন আযান হচ্ছে, মাদ্রাসায় তখন সুর করে ছেলেমেয়েরা কুরআন পাঠ করছে মাজারে শিন্নি বিলাচ্ছেন আর হিন্দু মুসলমান কলাপাতা করে নিয়ে চেটেপুটে খাচ্ছে! আমরা কবি লেখক সাহিত্যিক যাদের নাস্তিক অশ্লীল বলেন আপনাদের কেউ কেউ, আমরা এমন ধর্ম চাই! ভাঙো মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, গুরুদুয়ারা, আমরা তাকে ধর্ম মানি না ভন্ডামি মনে করি!
গতকাল রাত এগারো টায় ধানমন্ডি “সুভাষবোস থেকে বঙ্গবন্ধু ” নামে একটা সেমিনারে ‘বক্তব্য রেখে ও কবিতা আবৃত্তি করে’ ফেরার পথে রমনা পার্ক রোডে দেখলাম, জায়গায় জায়গায় কিছু লোক ছেড়া গেঞ্জি লুঙ্গি খুলে বুক পর্যন্ত টেনে দিয়ে ১০/১২° celcius এ ঘুমাচ্ছে, এ দৃশ্য ভারতে আরো বেশী, খোদ মার্কিন রোডে অভাব নাই, আমরা সংবিধানে “বিসমিল্লাহ’র” লিখলে যে পরিমান ধার্মিক সরকার ভাবি মন্দির মসজিদ গড়লে যত ধার্মিক ভাবি এই অসহায় দের ভাত-কাপড়ের ব্যবস্হায় সরকার কে তত ধার্মিক ভাবি না তাই সরকারের দোষ নাই আমাদের মত আহম্মক দের ধোঁকা দিতেই সবদেশের সরকার এমন টা করতে হয়! উল্লেখ্য আমি গাড়ীর ভিতর বদ্ধ দরজা জানালা হাতে মোজা টাই স্যুটকোটে ও ঠান্ডায় জমে যাচ্ছিলাম!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশেকে ভালোবাসেন।
ধর্ম পালন করেন ব্যবসা না!



