মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬

বিশ্বে ধর্মীয় ভন্ডামি দারুন কৃতকার্য

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ২২.০৪.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

আপনি জানেন কি বিশ্বে সর্বপ্রথম ধর্মভিত্তিক যে দেশটা তৈরি হয়েছিলো সে দেশটার নাম “পাকিস্তান”! এর আগে কখন ও কোন দেশ ধর্মের নামাবলী গায়ে তৈরি হয় নাই! দেশটা তৈরি করতে ও বিশাল ভন্ডামির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। মৌলবাদী দেশ তৈরি তে প্রগতিশীল দু’জন লোককে বলির পাঠা করা হয়েছে, একজন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী! তাদের বুঝানো হয়েছে, দুই প্রান্তে দুটো মুসলিম দেশ হবে, একটা মুসলমান বাঙালির অন্যটা পশ্চিম প্রান্তে মুসলমান জনগোষ্ঠীর অতএব লাহোর প্রস্তাবে আলাদা মুসলিম রাস্ট্রের প্রস্তাব দেয়ানো হলো ” নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রধান একাধারে মুখ্যমন্তরী শেরেবাংলা কে দিয়ে। কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ত্রিপুরা সন্মেলনে কাউন্সিলর ভোটে দ্বিতীয় বার সুভাষ বোস কিন্ত গান্ধী নেহেরুর চাপে তাকে যেমন পদত্যাগ করতে হলো তেমনি শেরে-বাংলা ফজলুল হক ও লাহোর প্রস্তাব পাশ হলে ই চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগ করানো হলো, আবার সোহরাওয়ার্দী কে বলা হলো, আমরাতো ক্ষমতা চাই না, পদ শূন্য রাখা যায় না, তুমি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের কর্নধর হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হও!

মুখ্যমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী কে দিয়ে দুই মুসলিম রাস্ট্র প্রস্তাব বন্ধ করে এক মুসলিম রাস্ট্র “এক পাকিস্তান” প্রস্তাব পাশ করায় নেয়া হলো।

 

কিভাবে তা সম্ভব হলো, জিন্নাহ লিয়াকত আলী খান গান্ধী নেহেরু এরা ছিলো তলে তলে এক, বাড়ী ও চারজনের ভারতে। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ও ছিলেন তাদের, কারন ব্যাটেন স্ত্রী ও গান্ধীর ছিলো বেড রিলেশন। বিশ্বকে দেখালো, আমরা অখণ্ড ভারত ভাঙ্গি নাই, ওরা ওরা মানে যারা ‘কনুই পর্যন্ত এটো লাগায় ভাত মাছ চটকায় খায়” বাঙালি! অথচ স্বাধীনতার ফল ভোগে জিন্নাহ প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী প্রধানমন্ত্রী। কোথাও শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দীর স্হান হলো না!

আর-ও ভন্ডামি করা হলো ধর্মে নিরপেক্ষ পাকিস্তান বিশ্ব কে দেখায়ে। প্রথম অধিবেশনে “যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলকে” দিয়ে গণপরিষদের সভাপতিত্ব করানো হলো! বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জান্তা জিয়া ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ কে মুসলিম বাংলাদেশ বানালো চার মূলনীতি তুলে দিয়ে এবং সংবিধানে বিসমিল্লাহ প্রয়োজনহীন সংযোজন করে! আবার বলা হলো সব ধর্মের লোক সমান। অর্থাৎ হোটেলের নাম “মুসলিম হোটেল” কিন্তু সব ধর্মের লোক খেতে পারবা! তেমনি দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান হলো কিন্ত প্রথম জমায়েতের ঈমামতি করে দিলো “যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল” কে! বিশ্ব দেখলো, “শেরে-বাংলার লাহোর প্রস্তাব দ্বিজাতিতত্ত্ব সমর্থন, সোহরাওয়ার্দীর প্রস্তাবে অখণ্ড ভারত ভাঙলো! যা বিশ্ব দেখলো না, জিন্নাহর পিছনের চাতুর্যতা! জিন্নাহ শেষ তিনবছর হুইস্ক শূকরের মাংস ও ঘিয়ে ভাজা পারাটা খেয়ে কবরে গেছেন। জিন্নাহ মারা গেলে সোহরাওয়ার্দী তার কবর যিয়ারত করতে ও যান নাই! ছাত্র মুজিব ও তার সহকর্মী শামসুর রহমান, শামসুল হক, বাগেরহাটের এম এ আজিজ ক্ষুব্ধ হন এবং এ ষড়যন্ত্র দেখে দেখে পাকিস্তান অধিনায়কদের উপর বীতশ্রদ্ধ হন! শেষ গণপরিষদের সভায় সোহরাওয়ার্দী বলেন, ” মুসলমানদের নামে রাস্ট্র কিন্তু ইসলাম থাকবে না, সততা থাকবে না, ধর্ম শুধু লেবাসে এমন রাস্ট্র আমরা চাই নাই। সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের অবিভক্ত বাংলা প্রস্তাব ও চাতুর্যের সাথে ভন্ডুল করা হয়েছিলো!

 

প্রিয় পাঠক, জিন্নাহর ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলেছেন,”জিন্নাহ কোনদিন নামাজ রোজা হজ্ব যাকাতের ধার ধারতেন না। এশিয়ার কামেল পীর ইতিহাস বেত্তা ওয়াজিয়ান “মাওলানা মুহম্মদ মুর্তজা তার অনেক গন জমায়েতে একই কথা জিন্নাহ কে নিয়ে বলেছেন।

দুজনের হাসি ও মহব্বত ই যথেষ্ট আমার লেখার সত্যতা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত