লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তারিখ ঃ ০৩.০৬.২০২৪
রাশিয়া চীন ও ইরানের জোট কে পশ্চিমা দেশগুলো তিন শয়তানের জোট বলে মনে করে! আসলে কি তাই নাকি এ ক্ষয়িষ্ণু বিশ্বের ভারসাম্য রক্ষায় এমন জোটের আজ বড় প্রয়োজন? কেন শুধু রাশিয়া চীন ইরান কে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, কেন এমন জোটে ভারত তুরস্ক
জাপান অন্তর্ভুক্ত নয়? কেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী “শিনসু” ছুটে এলেন ভারতে, সেখান থেকে টোকিও না ফিরে তিনি ছুটে গেলেন কিয়েভে ইউক্রেনের জেলেন্সিকে সহায়তার হাত বাড়াতে? বাইডেন স্যার ও তার সিআইএ বসে থাকেন না এটা তার বড় প্রমান! অস্ত্র অর্থ প্রদানের ডোনার খোঁজেন ইউক্রেনের জন্য ঘুমের মধ্যে! বাইডেন স্যার বিপদে আছেন অক্টোবরে নিজ নির্বাচন নিয়ে তাই জাপান কে সক্রিয় করেছেন! তিনি জয়লাভ করলে কি হবে তা জানে শুধু ভবিতব্য!
প্রিয় পাঠক, চীন রাশিয়ার সাথে জাপানে ক্ষত টা কি? ১৯৩১ সালে জাপান চীনের সিং চুয়ান প্রদেশ দখল করে নিয়েছিলো! ১৯৪১ সাল পর্যন্ত চীনের বেশ অংশ দখলে রাখে! জাপান আমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী কিন্তু যতটা ভদ্র আমরা ভাবি ততটা নন! জাপান জ্বালানি তেলে দুর্বল, ৬% নিজস্ব বাকী ৯৪% অন্যের দ্বারস্থ হতে হয় তাই আমেরিকার তেল দখল করতে ১৯৪১ সালের সম্ভবতঃ ডিসেম্বর মাসে আমেরিকার হাইওয়ে পার্ল হার্বার নৌঘাঁটি আক্রমণ করে এবং একসাথে ১৮৩ টার মত বিমান বোম ফেলে! আমি সে গল্পে যাবো না!
চীনের সাথে জাপানের সমুদ্র সীমা গোলমাল আছে, আছে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা!
ভারতের সাথে চীনের গোলমাল ১৯৬২ সালে জম্মু-কাশ্মীর আক্রমণ এবং মোট কাশ্মীর ভূখণ্ডের ২৫% চীনের দখলে, ৩৫% পাকিস্তান ভোগ করে, ভারত এখন ও ৪০% দখলে রেখেছে!
তখন পাকিস্তান চীনের পক্ষে ছিলো কিন্তু U S S R, U S A,
U K ভারতের পক্ষে ছিলো! ভারত চীনের আরো একটা বিষফোড়া অরুণাচল প্রদেশ। ১৯৬২ সালে চীন তিব্বত অরুণাচল দখল করে নেয়! তিব্বত দখলে রাখলেও অরুণাচল ছেড়ে দেয়! যদি-ও মাঝে মাঝে চীন অরুণাচল তাদের বলে হুমকি দেয়।
তুরস্কের সাথে চীনের দ্বন্দ্ব “তুর্কী বংশ উদ্ভূত মুসলমান উইঘুর জাতি,” যা কয়েক টা দেশে ছড়ানো! চীন তাজাকিস্তান উজবেকিস্তান কিরকিস্তান ইত্যাদি দেশে তারা সংখ্যা লঘূ! চীনে সবচেয়ে বেশী। ১৫০ কোটির মত জনসংখ্যার প্রায় সোয়া কোটি উইঘুর সুন্নি মুসলিম! তাদের উপর চীনা নির্যাতন আছে যা মাঝে মাঝে পত্রিকায় আসে, যেমন ভারত নিয়ে ও পত্রিকা সরব হয়! আঙ্কারা বেইজিং এই একমাত্র সমস্যা নিয়ে কথা বলেছে, হয়তো সমাধান হয়ে যাবে!
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্স এ জাপান প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্ট আলোচনা হয়েছে রুদ্ধ দ্বারে! তারা তাদের ভিতরকার দূরত্ব কমায় আনতে চান!
Rising China বইয়ের লেখক “শেইলাস্মিত্য” মনে করেন,
“পুরা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পূর্ণ শক্তি অর্জন সম্ভব তখন যখন জাপান চীন শান্তিপূর্ণ ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হবে!”
আমি ক্ষুদ্র দেশের ক্ষুদ্র লেখক “মিঃ শেইলাস্মিত্যর” কে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই শুধু চীন জাপান নয়, চীন জাপান ভারত রাশিয়া ইরান তুরস্ক পাকিস্তান আফগানিস্তান কোরিয়া একত্রিত হয়ে জোট করলে সে মহা জোটকে মোকাবিলা করা পশ্চিমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না! বিশ্বে ভারসাম্য ফিরে আসবে। বাংলাদেশ সহ আরবীয় মুসলিম ২৪ টা দেশ তো আছে সহযোগী। ততদিনে হয়তো সৌদি আরব বাংলাদেশ সহ বেশ কয়েকটা দেশ পরামানিক শক্তিধর হয়ে যাবে ! উল্লেখ করতে চাই, তেল-গ্যাস থেকে পারমাণবিক কাঁচা মাল “ইউরেনিয়াম” এশিয়ার উপর পশ্চিমারা নির্ভরশীল বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিশ্বে শুধু মাত্র রাশিয়ায় পাওয়া যায়!
রাশিয়ার চীন ও ইরানের মহামান্য শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি তিনজন!



