শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬

কিংডম অব জার্মানি রাজা’ পিটার ফিটজেক গ্রেফতার আমার কথার সুবিধা জানোন

আপডেট:

কিংডম অব জার্মানি’ নামে পরিচিত একটি অতি-ডানপন্থী সংগঠনের চার শীর্ষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বার্লিন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের স্বঘোষিত ‘রাজা’ পিটার ফিটজেক।জার্মানির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘কিংডম অব জার্মানি’ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজেকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে এবং ১৮৭১ সালে জার্মান সাম্রাজ্যের সীমানার সঙ্গে মিলে তার তথাকথিত জাতীয় অঞ্চল সম্প্রসারণের লক্ষ্য রাখে।জার্মানি এই সংগঠনকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আখ্যা দিয়ে এটিকে নিষিদ্ধ করেছে। সংগঠনটির লোকেরা নিজেদেরকে একজন নিরঙ্কুশ রাজা দ্বারা শাসিত ‘প্রতি-রাষ্ট্র’ ঘোষণা করেছিল।সংগঠনটি ‘রাইখসবার্গার’ (রাইখ নাগরিক) আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, এটিও একটি অতি-ডানপন্থী নেটওয়ার্ক, যারা আধুনিক জার্মান রাষ্ট্রের বৈধতা অস্বীকার করে।জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার মতে, সারা দেশে প্রায় ২৫ হাজার ব্যক্তি রাইখসবার্গার নেটওয়ার্কের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।তবে এসব সংগঠনের অনুসারীরা দাবি করেন, ঐতিহাসিক জার্মান রাইখ বা জার্মান সাম্রাজ্য এখনো বিদ্যমান। তারা জার্মানির সরকার, সংসদ, আইন এবং বিচার ব্যবস্থা স্বীকৃতি দেয় না। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা কর বা জরিমানা প্রদানের মতো রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতাও প্রত্যাখ্যান করে।মঙ্গলবার (১৩ মে) প্রায় ৮০০ পুলিশ কর্মকর্তা জার্মানিজুড়ে এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্পত্তি এবং এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের বাসস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালান।জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ড্ট নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার সময় এদের ‘ইহুদি-বিরোধী ষড়যন্ত্র তত্ত্বের’ জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেছিলেন, এই চরমপন্থীরা জার্মানিতে একটি প্রতি-রাষ্ট্র তৈরি করেছিল এবং অপরাধমূলক আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল।

২০১২ সালে পূর্ব জার্মানির শহর উইটেনবার্গে প্রতিষ্ঠিত ‘কিংডম অব জার্মানি’ লাইসেন্সবিহীন ব্যাংকিং পরিষেবা পরিচালনা এবং নিজেদের আইনি ব্যবস্থা প্রচারের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠেন। গ্রুপের নেতা ফিটজেক নিজেকে ‘রাজা পিটার প্রথম’ হিসাবে উপস্থাপন করেন এবং তার স্ব-ঘোষিত শাসনকে সমর্থন করার জন্য একজন অর্থমন্ত্রীর সাথে দুজন ডেপুটিও নিয়োগ করেন।২০২২ সালেও জার্মান কর্তৃপক্ষ রাইখ সিটিজেনদের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেপ্তার করে, যার মধ্যে একজন প্রাক্তন এমপি এবং প্রাক্তন সামরিক কর্মী ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সংসদে হামলা চালানোর, সরকার উৎখাত করার এবং অভিজাত ও ব্যবসায়ী প্রিন্স হেনরিখ দ্বাদশ রিউসকে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বসানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত