লাভজনক প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর রুয়ান্ডার সীমান্তবর্তী অঞ্চল পূর্ব কঙ্গো তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সহিংসতায় জর্জরিত। এই অস্থিরতায় হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।খনিজ সমৃদ্ধ পূর্ব কঙ্গোতে কয়েক দশক ধরে চলমান প্রাণঘাতী সংঘাতের অবসান ঘটাতে শান্তি চুক্তি সইয়ের পর প্রথম আলোচনায় বসেছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং রুয়ান্ডা। শুক্রবার (১ আগস্ট) দুই আফ্রিকান দেশ এ কথা জানিয়েছে।এই বছরের শুরুতে এম২৩ (M23) সশস্ত্র গোষ্ঠী গোমা শহর দখল করে এবং ফেব্রুয়ারিতে বুকাভুও দখল করলে রুয়ান্ডার সেনারা সেখানে গেলে সংকট আরও তীব্র হয়।
কঙ্গো পূর্বে ‘M23’ এর সঙ্গে সরাসরি সংলাপের বিরোধিতা করেছিল। সেই সঙ্গে অ্যাঙ্গোলার মধ্যস্থতাসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।কিন্তু কাতারের আকস্মিক হস্তক্ষেপে কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি এবং রুয়ান্ডার পল কাগামে মার্চের মাঝামাঝি দোহায় একত্রিত হন। এরপর জুনের শেষে ওয়াশিংটনে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি শান্তি চুক্তি সই করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় উভয় দেশের প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতি অনুসারে, বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) শান্তি চুক্তি সইয়ের পর থেকে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরা ওয়াশিংটনে তাদের প্রথম বৈঠক করেন। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, তারা চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলেও উল্লেখ করাহ হয়।
আফ্রিকান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ এই চুক্তিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে প্রশংসা করেছে।চুক্তিতে পূর্ব কঙ্গোতে ‘আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং শত্রুতা বন্ধ করার’ বিধানের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে এর খুব কম বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে।কঙ্গো সরকার এবং জাতিসংঘের মতে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে করেছে এবং লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সংকট আরও বেড়েছে। তবে সবশেষ খবরগুলোতে, চুক্তির খবরে বাস্তুচ্যুতরা নিজেদের ভূমিতে ফিরতে শুরু করেছেন।ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধাঞ্চলগুলো স্থিতিশীল থাকলেও ‘M23’ এবং গেরিলা যুদ্ধে জড়িত স্থানীয় অস্ত্রধারীদের একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।এদিকে, রুয়ান্ডা ‘M23’-কে সামরিক সহায়তা প্রদানের কথা অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, তাদের নিরাপত্তাও দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হুমকির সম্মুখীন। এর মধ্যে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস ফর দ্য লিবারেশন অফ রুয়ান্ডা (FDLR)। এই গোষ্ঠীটি ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার সময় টুটসিদের হত্যার সঙ্গে যুক্ত জাতিগত হুতুদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।কঙ্গো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ‘কোবাল্ট’ উৎপাদনকারী দেশ। সেই সঙ্গে তাদের কাছে সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজ পদার্থের মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘কোল্টান’ – এটি একটি ধাতব আকরিক যেগুলো ফোন এবং ল্যাপটপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ।কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট শিসেকেদি গত এপ্রিল মাসে বলেছিলেন, তিনি মার্কিন বিশেষ দূত মাসাদ বোলোসের সঙ্গে দেশের ‘খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকারের জন্য’ একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।এরপর গত ১৭ জুলাই দেশটির সরকার মার্কিন গ্রুপ কোবোল্ড মেটালসের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করে। মূলত এই প্রেক্ষাপটেই কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট এম২৩-এর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে পূর্বে এটি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।এই চুক্তিতে সরকার এবং এম২৩ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের ‘স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনকে’ সহজতর করার জন্য স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সংলাপ-আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
শান্তি চুক্তির পর প্রথম আলোচনায় বসলো ডিআর কঙ্গো ও রুয়ান্ডা
আপডেট:

