বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)। সদস্য দেশগুলোর কৌশলগত মজুদ থেকে ৪শ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে সংস্থাটি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনা এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতেই এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইতালির বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে জি-৭ (G7) এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (GCC) দেশগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ সমন্বয় বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে ইতালি। ইতালীয় সরকার মনে করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে শক্তিশালী এই দুই জোটের সরাসরি সংলাপ প্রয়োজন নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিঅভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের আড়ালে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক ফাটকাবাজি বা কারসাজি সহ্য করা হবে না।” এই খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।মেলোনির কড়া জবাব ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ইতালির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সম্প্রতি বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে বেশ আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। সরকার বিরোধী প্রচারণার জবাবে মেলোনি বলেন:অতীতের নীরবতা বনাম বর্তমান রাজনীতি: মেলোনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯৯৯ সালের কসোভো সংকট বা ২০২০ সালের সুলাইমানি হত্যাকাণ্ডের সময় যারা নীরব ছিলেন, তারা এখন সস্তা রাজনীতির খাতিরে সরকারকে ‘কাপুরুষ’ বলছেন। ও পেট্রোলের আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কমানোর দাবি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সমন্বয়টি মূলত পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া পিএনআরআর (PNRR) প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেলোনি সংস্থাটির আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন।সম্প্রতি ইসরায়েলে দায়িত্ব পালনরত ইতালীয় পুলিশের (Carabinieri) ওপর হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইতালীয় সরকার ইতিমধ্যে তেল আবিবকে কড়া প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছে। রোম এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং যথাযথ শাস্তি দাবি করেছে।আন্তর্জাতিক জ্বালানি রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে IEA-এর বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত তেলের দাম কমাতে কতটুকু কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

