শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬

ক্রিকেট নিয়ে আর কতো নাটক দেখবে জাতি

আপডেট:

সর্বশেষ
জাতীয়
রাজনীতি
দেশ
খেলা
বাণিজ্য
ইসলাম
বিনোদন
জীবনযাপন
দেশান্তর
ছবি
ভিডিও
আজকের পত্রি
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে ক্রিকেটের অন্দর মহলেও। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে চলে আসা দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অপশাসনের অবসান চেয়ে মঙ্গলবার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসেছিলেন অতীতের কয়েকজন সংগঠক। তাদের সঙ্গে অবশ্য দেখা গেছে ভোল পালটে ফেলাদেরও, কিছুদিন আগেও যারা আওয়ামীপন্থি বিসিবি পরিচালকদের পিছু পিছু ঘুরতেন!অবিলম্বে বিসিবি’র সব আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতির চিত্র জনসম্মুখে এনে দুর্নীতিবাজ, লুটেরাদের বিচার করা হোক’ ব্যানার নিয়ে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন সাবেক বিসিবি পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পালসহ অনেকেই। ছিলেন বিসিবির হেড অব প্রোগ্রাম ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন এবং বিসিবির নারী উইং-এর প্রধান ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। তারা ঢুকে পড়েন বিসিবি কার্যালয়ে এবং বিসিবির বোর্ডরুমে বসে নিজেরা সভাও করেন।সাংবাদিকদের মিনহাজুল আবেদীন জানান, ‘অবশ্যই, আমরা চাই সুশাসন। সুন্দরভাবে যেন দেশ এগিয়ে নিতে পারি। মাথা উঁচু করে যাতে সমাজে বাঁচতে পারি। এটাই সবাই চাচ্ছি এখন।’ একই সঙ্গে জানান দেশের ক্রিকেট দলের খেলার সুযোগ যেন কমে না আসে, ‘সবার সহযোগিতায় ক্রিকেটটাকে চলমান রাখতে হবে। ‘এ’ দলের সফর আছে, পাকিস্তানে জাতীয় দলের সফর আছে। এগুলো যাতে সময়মতো হয় এজন্য আমাদের সবার সহযোগিতা দরকার। সবাই মিলে ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে আমরা বদ্ধপরিকর। এখানে কারও দ্বিমত নেই। সবাই মিলে ক্রিকেটকে এগিয়ে নেব, এটা আমাদের দায়িত্ব।’ হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমরা নতুন ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছি। কয়েকদিন প্র্যাকটিস হয়নি, আবার ঠিক হয়ে যাবে। আমি আশা করি সব প্রোগ্রাম ঠিকমতোই চলবে। সামনে খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়, অনেক খেলা আছে। বিশ্বকাপ আছে, জাতীয় দলের ট্যুর আছে। আশা করি শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে।’ মাঠের খেলা হয়তো স্বাভাবিক গতিতেই ফিরবে, তবে ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনে আগের মুখগুলোও ফিরবে কি না সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সামনে। বিশেষ করে ক্রিকেট বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপনকে ক্রিকেট বোর্ডে আর দেখা যাবে কি না এই প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট অনেকেরই। মঙ্গলবার ভেঙে দেওয়া সংসদের সদস্য ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন পাপন। ২০০৯ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলেও এবারই প্রথমবার মন্ত্রিত্বের স্বাদ পাওয়া পাপন দায়িত্ব পেয়ে অনেক কথার ফুলঝুরি ছুটিয়েছিলেন, কিন্তু চেয়ারে থাকতে পারলেন মাত্র মাস ছয়েক। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অনেকেই ছিলেন বিসিবি পরিচালক, তারা এখন আত্মগোপনে নয়তো বিদেশে। তাই শঙ্কার মুখে বাংলাদেশের মাটিতে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন। এমনকি ক্রিকেট বোর্ডের স্বপ্নের প্রকল্প পূর্বাচলের শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভবিষ্যৎও অন্ধকার।শ্রীলঙ্কায় গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকার ক্রিকেট প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে আইসিসি দেশটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। সরকার ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দিলে একই রকম পরিস্থিতিতে পড়তে হবে বিসিবিকেও। নাজমুল ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান হিসেবে থাকলেও তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক যে থাকবে না তা নিশ্চিত। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনে আইসিসি এরই মধ্যে বিকল্প ভেন্যু খুঁজতে শুরু করেছে। বিসিবি’র নারী উইং-এর পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী ২৫ জুলাই বলেছিলেন, ‘অস্থিরতা মূলত দুই বা তিনদিন ছিল। এই দুই বা তিনদিনে আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিসিবির একটি সভা হয়। ক্রীড়ামন্ত্রী ও বোর্ড প্রেসিডেন্টও সেখানে ছিলেন।’ সেই অস্থিরতা যে একসময় ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে পরিণত হয়ে সরকার উৎখাত করবে এবং প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে মাস ছয়েকের বেশি থাকতে পারবেন না, সেটা নিশ্চয়ই ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি এই বিসিবি পরিচালক।কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল মনে করেন, শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখবে না, ‘আমাদের কাছে মনে হয় এই প্রকল্পটি ছিল একটি বিলাসী প্রকল্প। আমাদের দেশের এবং ক্রিকেট বোর্ডের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটা ছিল একটা বিলাসী প্রকল্প। পূর্বাচল স্টেডিয়ামে তিন-চারশ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছিল। এটা বাস্তবায়ন নিয়ে বিসিবির বর্তমান পরিচালকরাই সন্দিহান, এই জন্যই তো এত সময় লাগছে।’ সবশেষ ২ জুলাই বিসিবির বোর্ড সভায় শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম প্রকল্পের আন্তর্জাতিক ঠিকাদার নিয়োগের টেন্ডার প্রক্রিয়া ও বিড নথি অনুমোদন দেয়। পরিবর্তিত বাস্তবতায় এই স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ থেমে থাকতে পারে বলেই মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে ক্লাবগুলোর সঙ্গে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক চুক্তিসহ অনেকগুলো জায়গাতেই পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে জানালেন দেবব্রত, ‘বিসিবির দেওয়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ক্লাবের সঙ্গে খেলোয়াড়ের চুক্তি হওয়া দরকার। তাহলে পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো গরমিল হলে বিসিবির কাছে যাওয়া যাবে। গরমকালে তীব্র গরমে প্রিমিয়ার লিগের খেলা হয়েছে, সিসিডিএম খেলোয়াড়দের অভিযোগে কর্ণপাত না করে খেলা চালিয়েছে। বিসিবিতে সুশাসন থাকলে এসব হতো না।’ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নির্বাচিত হন কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটের মাধ্যমে। কাউন্সিলরদের অর্থ এবং উপহার সামগ্রী দিয়ে বশ করার সংস্কৃতি যেমন প্রচলিত, তেমনি আছে পরিচালকদের বিলাসী বিদেশ ভ্রমণ আর জাতীয় দলে হস্তক্ষেপের সংস্কৃতিও। সুশাসনের এসব বাধা দূর করে বৈষম্যবিরোধী নীতি ক্রিকেট প্রশাসনেও প্রবর্তন করার মত সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত